× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

টিএসসিতে ইফতারে প্রাক্তনদের মিলনমেলা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৫ ২২:৫৬ পিএম

ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে পুরো মাঠে বসে ইফতারের অপেক্ষায় সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো

ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে পুরো মাঠে বসে ইফতারের অপেক্ষায় সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো

ইফতার মুসলমানদের নিজস্ব ইবাদত ও সংস্কৃতি হলেও কালক্রমে তা বাঙালি মুসলমানের একটি নিজস্ব সংস্কৃতির রূপ ধারণ করেছে। এ ইফতার উদযাপন পরিবেশ ও মহলভেদে নানা ধরনের হয়ে থাকে। যার সুস্পষ্ট দৃশ্যপট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা।

গোধূলি লগ্নে সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার পরপরই সবুজ ঘাসের বুকে শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে পুরো মাঠ জুড়ে একাধিক বৃত্তাকারে ইফতারের অপেক্ষায় বসে আছে। প্রতিদিনই ইফতারে এমন দৃশ্য দেখা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের মাঠ, মল চত্বর, কার্জন হল এবং শহীদুল্লাহ হল প্রাঙ্গণে। মৃদু রোদ ও শীতল বাতাসে ১০-১৫ জন বা এরও বেশি মিলে গোলক সাজিয়ে বসতে দেখা যায় তাদেরকে।

সাধারণত বন্ধুরা মিলে, বিভাগগুলোর ব্যাচমেট বা পুরো বিভাগের সব ব্যাচ মিলে খোলা মাঠে পত্রিকা বা মাদুর বিছিয়ে ইফতার করতে দেখা যায় সবুজ প্রাঙ্গণের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্ত জুড়ে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় ছাত্রসংগঠন গুলোকেও সবুজ মাঠে দলবেঁধে ইফতার করতে দেখা যায়। এভাবেই শিক্ষার্থীদের বন্ধু-বান্ধব এবং বড়-ছোট ভাই এবং আপুদের সঙ্গে ইফতারের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে দেখা যায়।

২০ মার্চ থেকে সকল ধরনের একাডেমিক ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়েছে ঢাবিতে। শেষ এক সপ্তাহ আবার ক্লাস হয়েছে অনলাইনে। ফলশ্রুতিতে শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই চলে গেছে বাড়িতে। তাই ক্যাম্পাসে বর্তমান শিক্ষার্থীদের পদচারণা তুলনামূলক কমই। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইফতার-অঙ্গনগুলো এখন সাবেক শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর।

শুক্রবার (২১ মার্চ) মলচত্বরে প্রায় ১২-১৩ জনের সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি গোলক দেখা যায় ইফতার করতে।এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম নির্ঝর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবী। তিনি জানান, যখন আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পড়তাম, তখন প্রায় প্রতিদিনই এভাবে বন্ধুবান্ধবেরা একসঙ্গে মিলে ইফতার করতাম। কর্পোরেট লাইফে এসে সেই জীবন খুব মিস করছি। আজ শুক্রবার তাই ছুটি পেয়েছি বলে আমরা বন্ধুবান্ধবেরা আজকে এ আয়োজন করেছি। এখন মনে হচ্ছে, আমরা সাবেক শিক্ষার্থী নই, রানিং শিক্ষার্থী।

টিএসসির মাঠে ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সাব্বির-অনামিকা দম্পতি। দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ১৯৯৮-৯৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সঙ্গে তাদের দুই সন্তানও রয়েছে। তারা জানান, ক্যাম্পাসে থাকতেই আমাদের মধ্যে প্রেম ছিল। আমরা প্রায়ই এভাবে টিএসসিতে বসে একসঙ্গে ইফতার করতাম। অনেক বছর ক্যাম্পাসেই আসা হয়নি একসঙ্গে। আজকে ছেলে-মেয়ে সহকারে চলে এসেছি। সবাই মিলে একসঙ্গে ইফতার করছি, এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে!

পাশেই ৬-৭ জনের আরেকটি গোলক সাবেক শিক্ষার্থীদের। বোঝাই যাচ্ছে তারা এখানে পৌঁছাতে দেরি করে ফেলেছেন। কারণ তাদের ইফতার গোছানো কেবল শুরু হলো। তাদের মধ্যে শরবত বানানোর দায়িত্ব পেয়েছেন জয়িতা ঘোষ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। রাজধানীর একটি সরকারি হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক তিনি। তিনি বলেন, আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয় পড়তাম, তখন আমাদের সার্কেলের বন্ধুবান্ধবেরা শুরুতে আমাকে ইফতারে ডাকত। কিন্তু আমি অন্য ধর্মের হওয়ায় আসতাম না। ক্যাম্পাস লাইফের শেষ দিকে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে একটু বেশি মিশতে থাকি। তখন থেকেই ইফতারে আমার নিয়মিত অংশগ্রহণের কারণে ইফতার আমার কাছে একটি সাধারণ বিষয়। মনে হয় যেন এটা আমার ধর্মেরও একটা অংশ। আমরা আমাদের সেই সার্কেলই আজকে এখানে ইফতার আয়োজন করেছি। সবার সঙ্গে মাঝেমধ্যেই দেখা হয়। তবে সবাই একসঙ্গে হওয়াটা হয়ে ওঠে না। গত চার বছর আমরা একসঙ্গে বসে ইফতার করতে চেয়েও পারিনি। এবার আমরা পেরেছি। এর মধ্যে যে কত আনন্দ তা বলে বোঝানো সম্ভব না।

এ গোলকেরই আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী। তিনি সোনালী ব্যাংকে কর্মরত। তিনি বলেন, গত বছর আমরা চার বন্ধু মিলে একবার এখানে এসেছিলাম ইফতার করতে। কিন্তু এবারের মত স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসতে পারিনি, কারণ তখন ক্যাম্পাসে ইফতার আয়োজন নিয়ে ছাত্রলীগের আপত্তি ছিল। এবার আমরা স্বাধীনভাবে নির্বিঘ্নে ইফতার করতে পারছি। ইফতার শেষে সবাই মিলে জমিয়ে আড্ডা হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা