× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা

ঢাবি, জাবি ও জবি প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ০০:২২ এএম

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ০০:৩৬ এএম

বাংলাদেশের হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো

বাংলাদেশের হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো

ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) এবং রাজধানীর উত্তরায় এসব বিক্ষোভ হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এ সময় তারা ভারতীয় আগ্রাসন রুখে দেওয়ার পক্ষে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। 

সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। 

এ সময় বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা এসে মিছিলে যোগ দেন। পরে মিছিলটি ভিসি চত্বর হয়ে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক সমাবেশে মিলিত হয়। 

শিক্ষার্থীরা ‘গোলামী না আজাদি, আজাদি আজাদি’; ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’; ‘দিল্লী না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’; ‘ভারতীয় আগ্রাসন, রুখে দাও জনগণ’; ‘হাইকমিশনে/আগরতলায় হামলা কেন, দিল্লি তুই জবাব দে’; ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’ ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান।

মিছিলের পর বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ। তাদের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকবে, প্রতিবেশী হিসেবে ভালো সম্পর্ক থাকবে। কিন্তু কোনোভাবেই তাদের সঙ্গে আমাদের রাজা-প্রজার সম্পর্ক হতে পারে না। ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার জন্য অবশ্যই ভারতকে ক্ষমা চাইতে হবে। 

তারা আরও বলেন, ভারতকে বলতে চাই— এ দেশে আর আওয়ামী লীগের ক্ষমতা নেই। সুতরাং তারা যেন আওয়ামী লীগের আমলের মতো করে এ দেশে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা না করে। দিল্লিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই— শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকা পর্যন্ত আমরা ভারতের আধিপত্য মেনে নেব না। যেভাবে আমরা হাসিনাকে পালাতে বাধ্য করেছি সেভাবেই আমরা দিল্লির আগ্রাসনও রুখে দেব। 

জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর কাফি সমাবেশে বলেন, আমরা সবেমাত্র গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ পেলাম। এখনো অনেকের চোখ নেই, পা নেই, অনেকে কবরে শুয়ে আছে। এসবের জন্য তাদের মায়াকান্না হয় না। তাদের মায়াকান্না হয় হাসিনার ক্ষমতার জন্য। আমরা তাদেরকে ক্ষমতার স্বাদ পুনরায় নিতে দেব না। দিল্লির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হবে চোখে চোখ রেখে। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আগরতলার ঘটনায় বিক্ষোভ করেছে। সোমবার রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে ভাস্কর্য চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।

বিক্ষোভে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের  শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটে

পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, ‘ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে ছাত্রজনতাকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। ভারত যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে, তাহলে সেভেন সিস্টার রাজ্যগুলোকে আমরা অস্থির করে তুলব। আমাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে তারা অসহায়।’

আইন বিভাগের ১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মুহাম্মদ বিন কাসেমের উত্তরসূরী। আমাদের রক্তে খালিদ বিন ওয়ালিদের সাহসিকতা। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা হিন্দুত্ববাদী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সর্বদা প্রস্তুত।’

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করিনি, কিন্তু তারা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আগরতলার ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে কয়েকটি সংগঠনের ব্যানারে মশাল মিছিল বের করেন তারা। মিছিল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই জায়গায় এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে শেষ করে।

 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে মশাল মিছিল বের করেন। প্রবা ফটো

মিছিলে অংশ নেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন, বিপ্লবী সাংস্কৃতিক মঞ্চ, আধিপত্যবাদ বিরোধী মঞ্চ, জাহাঙ্গীরনগর সংস্কার আন্দোলন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘মোদির দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘তুমি কে আমি কে? বাংলাদেশ বাংলাদেশ’, ‘তুমি কে আমি কে? সাইফুল সাইফুল’, ‘আবু সাইদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘দূতাবাসে হামলা কেন? মোদি তুই জবাব দে’, ‘ইসকনের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, 'সন্ত্রাসীদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। 

সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবি শাখার অন্যতম সমন্বয়ক তৌহিদ সিয়াম বলেন, ‘শেখ হাসিনা ভারতের পুতুল। আমাদের এই অভ্যুত্থান ছিল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। যারা ২৪’কে ৭১ এর বিরুদ্ধে দাড় করাতে চায় তারা ভারতের দালাল। শেখ হাসিনার মত শক্তিশালী স্বৈরশাসককে সরাইতে ৩৬ দিন সময় লাগছে। কেউ আধিপত্য দেখাতে আসলে তাদের অবস্থা ভয়াবহ হবে।’

গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক আব্দুর রশীদ জিতু বলেন, ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে দ্বিপাক্ষিক সমতার ভিত্তিতে। দল-মত, ধর্মীয় মতাদর্শ ভুলে এক হতে আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে দেশের জন্য লড়াই করে যাব। ২৪’র পরাজিত শক্তিরা এক দিনের জন্যও ষড়যন্ত্র করা থেকে বসে নেই। তারা অন্তবর্তীকালীন সরকারকে রাষ্ট্র চালাতে বিভিন্নভাবে বাধা দিচ্ছে। আমরা বলতে চাই তোমাদের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে আমরা বিশ কোটি জনগণ প্রস্তুত।’

এদিকে, রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের মুগ্ধ মঞ্চের সামনে রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেছে নাগরিক কমিটি ও স্থানীয় ছাত্র-জনতা।

আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে উত্তরায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ৫০ জনের এই মিছিলে শ্লোগান দেওয়া হয়, ‘ভারতীয় মাস্তানি ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও,’ ‘আমরা বাংলার দামাল ছেলে, ভারত তোমায় ভয় করি না।’

এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংসদ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন এবং নিরাপদ বাংলাদেশ চাইসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

বিক্ষোভ মিছিলগুলোতে অংশগ্রহণকারীরা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। ঢাবির শিক্ষার্থী জাহিদ আহসান বলেন, ‘ভারত আমাদের প্রতিবেশী, কিন্তু তাদের সঙ্গে রাজা-প্রজার সম্পর্ক নয়, সমমর্যাদার সম্পর্ক চাই।’

তবে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

উল্লেখ্য, সোমবার আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে হিন্দুত্ববাদী একটি সমিতির সদস্যরা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা