নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৭:৫৫ পিএম
আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৭:৫৭ পিএম
গড়পড়তা ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের পাঁয়তারা শিক্ষাঙ্গনে ফ্যাসিবাদী মনন গড়ে তুলবে বলে মন্তব্য করে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারসহ ৮দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং সংবাদ সম্মেলন করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ছাত্রদল।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে তারা সংবাদ সম্মেলন করেন।
নোবিপ্রবি ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য সচিব সাহারাজ উদ্দীন জিহানের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে স্মারকলিপি উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী জাহিদ হাসান। এছাড়া ছাত্রদলের সাব্বির হোসাইন শান্তসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জাহিদ হাসান বলেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আপনি (উপাচার্য) ও প্রশাসন যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন, তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তবে, নোবিপ্রবিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে কিছু নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করছি যে, প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকায় ক্যাম্পাসে ‘অপরাজনীতি’ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষত, নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এবং খেলাধুলা, ক্লাব ও মানবিক কার্যক্রমের আড়ালে ছাত্রলীগের পুনর্বাসনের মতো ঘটনাগুলো আমাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি, গণতান্ত্রিক চর্চা ও ছাত্ররাজনীতি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বদানের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গড়পড়তা ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের পাঁয়তারা শিক্ষাঙ্গনে ফ্যাসিবাদী মনন গড়ে তুলবে। সুষ্ঠু ছাত্ররাজনীতি তরুণদের সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তোলে। তদুপরি, নিষিদ্ধের পরিবর্তে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পরিবেশে সংস্কারমূলক, ইতিবাচক এবং ইনক্লুসিভ ছাত্ররাজনীতি পরিচালিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ আরো উন্নত হবে বলে বিশ্বাস করি। আমরা ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল’ নোবিপ্রবি শাখার পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ৮ দফা দাবি জানাই।
দাবিগুলো হলো- ছাত্র রাজনীতি পুনর্বহাল, গণতান্ত্রিক রিজেন্ট বোর্ড গঠন, দোসর ও অবৈধ নিয়োগ মুক্ত ক্যাম্পাস, নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সেবার উন্নয়ন, মেয়েদের হল রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখতে হবে এবং প্রতিটি হলে ভর্তুকি সংযুক্ত ডাইনিং চালু করতে হবে, শিক্ষার্থীদের বসার স্থান, প্রযুক্তি ও আলোকসজ্জা, সৌন্দর্য রক্ষা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোবিপ্রবি সমন্বয়ক জাহিদ হাসান জাহিদ বলেন, ‘লেজুড়ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি যে কোন ক্যাম্পাসের জন্য ক্ষতিকর। আমরা চাই কোন লেজুড় ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি যেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় না হয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে অতীতের ন্যায় রাজনীতি বন্ধে দাবি জানিয়ে যাব এবং আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা স্মারক লিপি পেয়েছি। বিষয়টি উপাচার্য স্যারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। তারপর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হবে। তবে প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। যেহেতু রিজেন্ট বোর্ড থেকে এটি পাস হয়েছে। তবে ছাত্র সংসদ চালুর বিষয়ে আমরা আন্তরিক।’