চবি সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২২ ০৮:১৯ এএম
আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২২ ১১:২৬ এএম
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো
ক্যাম্পাসে ফেরার এক দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের চলমান ক্লাস বর্জন ও অবরোধ কর্মসূচি বুধবার (২৩ নভেম্বর) ২২ দিনে গড়িয়েছে।
২ নভেম্বর শিক্ষার্থীরা ২২ দফা সংস্কারমূলক দাবিতে এ আন্দোলন শুরু করেন। শুরুতে ২২ দফার মধ্যে ক্যাম্পাসে ফেরার কোনো দাবি না থাকলেও পরে তা ক্যাম্পাসে ফেরার আন্দোলনে মোড় নেয়।
রবিবার (২০ নভেম্বর) শিক্ষকরা স্থানান্তরের কাগজপত্র নেওয়ার কথা বলে গেট খুলে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ কাগজ নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাদের আটকে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সেদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত চারুকলা ইনস্টিটিউটে অবরুদ্ধ ছিলেন চারুকলার পরিচালকসহ মোট ১০ জন শিক্ষক। সঙ্গে অবরুদ্ধ ছিলেন সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ ইয়াকুব ও চবির ডেপুটি রেজিস্ট্রারও।
শিক্ষকদের নিজস্ব কাগজপত্র বাদ দিয়ে শুধু স্থানান্তরের বিষয় সম্পর্কিত কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার শর্তে রাতে শিক্ষকদের যেতে দেন আন্দোলনকারীরা।
স্থানান্তরবিষয়ক কমিটির প্রধান ও চবির সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ ইয়াকুব বলেন, ‘তারা সেদিন শিক্ষকদের কোনো ব্যক্তিগত ফাইল নিতে দেয়নি; শুধু আন্দোলনসংক্রান্ত ফাইল ছাড়া। আমি তাদের বলেছি শিক্ষকদের ট্যাক্সসংক্রান্ত ফাইল আছে সেগুলো বের করতে হবে। তারা বলে, ঠিক আছে। কিন্তু শিল্পকর্ম সম্পর্কিত কিছু বের করতে দেওয়া হবে না। এটা বলার মূল উদ্দশ্যে হচ্ছে, একজন শিক্ষকের এশিয়ান এক্সিভিশনে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করা। একজন শিক্ষকের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সঙ্গে আন্দোলনের কোনো সর্ম্পক নেই। চারুকলার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এটা কখনই আশা করা যায় না। চারুকলার শিক্ষার্থীরা সেদিন রাতে (২০ নভেম্বর) শিক্ষকদের সঙ্গে যে আচরণ করেছে তা শিষ্টাচারবহির্ভূত।’
‘ট্যাক্স, পরীক্ষা সংক্রান্ত বিলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে না দেওয়ায় শিক্ষকরা স্থানান্তরবিষয়ক কাগজপত্রও আর নেননি; যার দরুন এখন আমি কাজ আগাতে পারছি না,’ বলেন সহকারী প্রক্টর।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার যেটা মনে হয় তাদের দাবির প্রতি তাদের কোনো আন্তরিকতা নেই। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে তারাই চাচ্ছে একটা ঝামেলা সৃষ্টি হোক। এখন ধৈর্য ধরা ছাড়া আমি কিছুই দেখছি না।’
চারুকলার চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ ফাহমি বলেন, ‘২২ দিনের মতো আমাদের এ আন্দোলন চলমান রয়েছে। প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আমরা এখনও কোনো আশ্বাস পাইনি। আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
শুক্রবার (১৮ নভম্বের) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন করতে দেখলে তার বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে আসার সময় একটি ছোট মানববন্ধন দেখেছি। আমরা ছাত্র থাকাকালে চারুকলার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শহরে যেতাম। চারুকলা বিভাগকে ক্যাম্পাস থেকে গুটিয়ে শহরে পাঠিয়ে দেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত।’