ফেনী সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২২ ১২:১৮ পিএম
আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২২ ১৮:৪৪ পিএম
ছাত্রাবাসে প্রবেশের মুখে আবর্জনার স্তুপ। প্রবা ফটো
প্রবেশ পথেই ঝোপঝাড়। চারতলার ছাত্রাবাস ভবনের ভেতর ময়লার স্তুপ। দরজা-জানালায় জড়িয়ে আছে ময়লা। ভেতরে উঁকি দিলে পাওয়া যায় উৎকট গন্ধ। কয়েক বছর ধরেই ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রাবাসের এমন দুরাবস্থা।
করোনার প্রকোপ কমার পর দেশের অন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ছাত্রাবাস সচল হলেও শতবর্ষী এ কলেজের ছাত্রাবাসটি গত তিন বছর ধরে বন্ধ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের হাসপাতাল মোড় সংলগ্ন সড়কের পাশে ছাত্রাবাসটির টিনশেডের একটি সাইনবোর্ড রয়েছে। দীর্ঘদিন যাতায়াত না থাকায় প্রবেশমুখে সড়কের ওপর আবর্জনা ফেলেন আশপাশের লোকজন। তাই ছাত্রাবাসের প্রবেশপথটি এখন ঝোপে ভরা। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং-এর ঝোড়ো হাওয়ায় একটি গাছ হেলে পড়ে আছে। মূল ফটকে ঝুলছে তালা।
ছাত্রাবাসে যাওয়ার পথে ভেঙে পড়া গাছ
সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন নিষ্প্রাণ পড়ে থাকায় চৌকি, চেয়ার, টেবিল, পানির ট্যাব ও শোচাগার সব নষ্ট হওয়ার উপক্রম। এখানে চারতলা ভবনের প্রতিটি তলায় ৯টি করে কক্ষ রয়েছে। প্রতি কক্ষে ৪ জন করে থাকার সুযোগ রয়েছে। পুরো ভবনে থাকার আসন রয়েছে ১১৮টি।
করোনা মহামারিতে শেষ হলেও আর ছাত্রাবাস খুলে দিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ নেই। তাই আবাসন সুবিধা থাকলেও তা ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল কালাম আজাদের নির্বাহী আদেশে তখনকার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোক্তার হোসেনকে ছাত্রাবাসের সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ২০২০ সাল পর্যন্ত ওই পদে থাকলেও কখনো সেখানে যাননি। বর্তমানে তিনি পদোন্নতি পেয়ে বদলী হয়ে নোয়াখালী সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ।
২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আফতাব উদ্দিনকে নির্বাহী আদেশ সুপারের দায়িত্ব দেন বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর বিমল কান্তি পাল। তার সঙ্গে ছাত্রাবাস পরিচালনা কমিটিতে সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আলম ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শরীফুল ইসলাম রয়েছেন।
প্রফেসর মোক্তার হোসেন জানান, তাকে সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হলেও কোনো কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তাই তিনি কখনো সেখানে যেতে আগ্রহ পাননি।
মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, 'দায়িত্ব পাওয়ার পর একবার অধ্যক্ষ ও আরেকবার কমিটির সদস্যরাসহ দুইবার ছাত্রাবাস পরিদর্শন করেছেন। বিদ্যুৎ আর গ্যাস বিল বাবদ প্রায় ৪ লাখ টাকার মতো বকেয়া পড়ে আছে। ছাত্রাবাসের অবস্থা খুবই নাজুক। ছাত্রাবাসটি পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করতে সংস্কার করা জরুরি। শুধু তাই নয়, পুরো ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামতের আগে কোনো শিক্ষার্থী উঠানো যাবে না। সার্বিক বিষয় অধ্যক্ষ স্যারকে জানানো হয়েছে।'
একাধিক শিক্ষার্থী জানান, অনেকে বাড়তি খরচ দিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন। খাবার ও থাকা মিলিয়ে গড়ে তাদের খরচ হয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। অথচ ছাত্রাবাসে থাকলে তাদের খরচ হতো ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।
ফেনী কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি নোমান হাবিব জানান, ছাত্রাবাস চালু না থাকায় দূর-দূরান্তের ছাত্ররা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
ফেনী কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি তোফায়েল আহম্মদ তপু জানান, করোনাকালে বন্ধ করা হলে বর্তমানে সবকিছুই চালু রয়েছে। অথচ ছাত্রাবাস চালু না করা দুঃখজনক। থাকার উপযোগী ছাত্রাবাস চালু থাকলে শিক্ষার্থীরা পড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ পাবে। এ ব্যাপারে কলেজ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করেন তিনি।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বিমল কান্তি পাল বলেন, ছাত্রাবাস সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পেলে কলেজ প্রশাসন ছাত্রাবাস সংস্কার করে চালুর উদ্যোগ নেবে।