বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০১:০৪ এএম
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১:৩৭ এএম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ফটো
শিক্ষার্থীদের ওপর ১১ জুলাই হামলার ঘটনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন, সাবেক প্রক্টর ড. কাজী ওমর সিদ্দিকীসহ ৩৬ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনার সময় ভারতে অবস্থান করা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসির সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. রশিদুল ইসলাম শেখের নামও রয়েছে এ মামলায়।
মামলার বাদী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় তিনি এ মামলাটি করেন।
সদর দক্ষিণ থানার মামলা তদন্ত কর্মকর্তা এস এম আরিফুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা আছে, হুকুমমতে বেআইনি জনতাবদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে সাধারণ জখম করা এবং ককটেল বিস্ফোরণ করে ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টির অপরাধে এ মামলা করা হয়েছে।
এ মামলায় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন ছাড়াও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট চারজন শিক্ষকের নাম রয়েছে। তারা সবাই প্রক্টরিয়াল বডির দায়িত্বে ছিলেন আন্দোলনের সময়। শিক্ষকরা হলেন সাবেক প্রক্টর ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কাজী ওমর সিদ্দিকী, আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. রশিদুল ইসলাম শেখ, সহকারী প্রক্টর ও মার্কেটিং বিভাগের প্রভাষক আবু উবাইদা রাহিদ, সহকারী প্রক্টর ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক অমিত দত্ত। এর মধ্যে অধ্যাপক ড. রশিদুল ইসলাম শেখ ১১ জুলাই বাংলাদেশেই ছিলেন না বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া এ মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামও রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেন, সেকশন অফিসার রেজাউল ইসলাম মাজেদ, বিল্লাল হোসেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদের সভাপতি জসিম উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যানিং দপ্তরের কম্পিউটার অপারেটর মো. মহসিন, আইকিউএসির অফিস সহকারী কাম ডেটা প্রসেসর মো. জসিম, হিসাব বিভাগের অফিস সহকারী কাম ডেটা প্রসেসর মো. ফখরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাপ্রহরী মিজানুর রহমান।
এ মামলায় বিবাদী করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মীকেও। রাকিবুল ইসলাম রকি নামে একজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও রয়েছেন বিপ্লব চন্দ্র দাস, রেজা-ই-ইলাহী, এ এস এম সায়েম,অর্ণব সিংহ রয়, মাহমুদুর রহমান মাসুম, রাকেশ দাস, বিশ্বজিৎ সরকার, পার্থ সরকার, রিয়াজ, আবদুল্লাহ আল মামুন, পারভেজ মোশারফ, এস কে মাসুম, রাকেশ দাসসহ অনেকে।
মামলার বাদী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সমন্বয়কদের সিদ্ধান্তক্রমে আমাকে বাদী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই মামলাটির বাদী হয়েছি।’
‘কোন সমন্বয়কদের সিদ্ধান্তক্রমে মামলায় বাদী হয়েছেন?’ এমন প্রশ্নে তিনি তিনজন সমন্বয়কের নাম বলেন। তারা হলেন মোহামদ সাকিব হোসাইন, আবু রায়হান ও মুহাম্মদ রাশেদুল হাসান।
মামলায় এমন অনেক নাম এসেছে যারা দেশেই ছিলেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাখাওয়াত বলেন, ‘১ থেকে ৬ পর্যন্ত যাদের নাম রয়েছে তারা সবাই হুকুমদাতা। এদের প্রত্যক্ষ নির্দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এখানে দেশে থাকা আর না থাকা কোনো বিষয় না।’
এ ব্যাপারে সমন্বয়কের মধ্যে অন্যতম আবু রায়হান বলেন, ‘বিষয়টি জানতাম এবং আমাদের আলোচনার পরই এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
অন্য সমন্বয়ক মোহাম্মদ সাকিব হোসাইন বলেন, ‘আমি মামলা নিয়ে কাজ করি না তাই এ বিষয়টি সম্পর্কে জানতাম না। পরে জানতে পেরেছি যে মামলা হয়েছে।’
এ ছাড়া মুহাম্মদ রাশেদুল হাসানকে মোবাইল করা হলেও রিসিভ করেননি।
মামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ‘আমি শুনে অত্যন্ত আশ্চর্য ও মর্মাহত হয়েছি যে, আমাদের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না এবং আমরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কোনো বাধা দিইনি, কাউকে আঘাত করার জন্য কোনো নির্দেশও দিইনি। উপরন্তু শিক্ষার্থীদের বাস, অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে সহায়তা, গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তির ব্যবস্থাসহ যখন যে সহায়তার জন্য বলা হয়েছে তার ব্যবস্থা করেছি। শুধু শুধু হয়রানির জন্য মামলাটি করা হয়েছে এবং এটি তুলে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাই।’
সাবেক প্রক্টর ড. কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি মামলার বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এ মামলা দেওয়া হয়েছে। মামলার বিষয়ে আমি আইনি পদক্ষেপ নেব।’
আইকিউএসির সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. রশিদুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘আমার নাম দেখে আমি বিস্মিত ও লজ্জিত। আমার ছুটি ছিল ১১ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত। আমি দেশের বাইরে ছিলাম তখন। কিন্তু কীভাবে নাম এলো জানি না। আমি আমার সব ডকুমেন্টস থানায় জমা দিয়েছি।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘৩৬ জনের নামসহ এবং ৫০-৬০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। এখানে যেহেতু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকদের নামও রয়েছে আমাদের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মোতাবেক তদন্ত করা হবে।’