ক্যাম্পাসে বিশ্বকাপ জ্বর
সানজিদা ইমু
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২২ ১৭:২৫ পিএম
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২২ ১৭:৪০ পিএম
বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনায় ভাসছে ঢাবির বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা
রবিবার (২০ নভেম্বর) থেকে শুরু হবে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযজ্ঞ। বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মাতোয়ারা সারা বিশ্ব। বাংলাদেশেও চলছে এখন সেই উন্মাদনা। ব্যতিক্রম নয় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও।
বিশ্বকাপ উৎসবের অনুষঙ্গ হলো প্রিয়দলের জার্সি পরা, পতাকা অঙ্কন করা এবং পতাকা ওড়ানো। তাই প্রতি চার বছর পর প্রিয় দলকে সমর্থন দিতে ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে মেতে ওঠেন ঢাবিয়ানরাও। প্রিয় দলগুলোর পতাকার রঙে ভক্তরা রাঙিয়ে দিয়েছে হলের ছাদ, প্রবেশপথ, টিভি রুমসহ পুরো ক্যাম্পাস।
দেশের অন্যান্য জায়গার মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমর্থকরা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা এই দুই শিবিরে বিভক্ত রয়েছেন। জার্মানি, পর্তুগাল, ফ্রান্সের মতো দেশেরও সমর্থক একেবারে কম নয়। তবে মূল লড়াইটা যেন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মাঝেই বেশি।

বিশ্বকাপ ফুটবলকে স্বাগত জানাতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছেন ঢাবির বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলে প্রবেশ করলেই দেখা মিলবে সমর্থকদের সাঁটানো আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের বড় বড় পতাকা। শুধু এসএম হল নয় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় সব হলের চিত্র মোটামুটি একই। কোন দলের পতাকা কত বড় হলো, তা নিয়ে চলছে অঘোষিত প্রতিযোগিতা।
বিশ্বকাপ নিয়ে সব দলই আশাবাদী। ব্রাজিল সমর্থক শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন বলেন, ‘যখন থেকে ফুটবল খেলা দেখি তখন থেকে আমি ব্রাজিলের সমর্থন করি। কারণ ব্রাজিল দলে একটা ধারাবাহিকতা আছে। পেলে, রোনালদো, রোনালদিনহোর হাত ধরে এখন নেইমারের যুগ চলছে। নেইমার বিদায় নিলে অন্য কোনো তারকা খেলোয়াড়ের আগমন ঘটবে। যতদিন ফুটবল খেলা হবে, ব্রাজিল দলে ধারাবাহিকভাবে তারকা প্লেয়ার থাকবেই। বিগত কয়েকটি বিশ্বকাপে ব্রাজিল না জিতলেও এবার আমি আশাবাদী।
আর্জেন্টিনার সমর্থক শিক্ষার্থী সাইমুম হোসেন বলেন, বিশ্বকাপে আমার সমর্থন বরাবরের মতোই আর্জেন্টিনার প্রতি। কারণ এই টিমে আছে সময়ের সেরা প্লে-মেকার লিওনেল মেসি।
মজার বিষয় হচ্ছে হলে হলে দেওয়া হচ্ছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও জার্মানি দলের সাপোর্টার্স কমিটি। সমর্থকরা নিজ-নিজ পছন্দের দলের পতাকা টাঙাচ্ছে হলের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে দেয়াল ও বারান্দায়। হলগুলো সেজে উঠেছে বিভিন্ন দেশের পতাকায়।

জগন্নাথ হলে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ল আর্জেন্টিনার সবচেয়ে দীর্ঘ ১২০ ফুটের পতাকা! তার পাশেই ব্রাজিলের পতাকা। হলের ভবনে মেসির পোস্টারেও চোখ এড়াবে না কারও। বুঝতে বাকি রইল না ঢাবির হলে হলে বিশ্বকাপ উন্মাদনা ভিন্ন মাত্রায় রূপ নিয়েছে।
শুধু নিজের টিমের সমর্থনে পতাকা সাঁটানোতেই সীমাবদ্ধ নন শিক্ষার্থীরা। রীতিমতো ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে মুখরিত থাকছে ক্যাম্পাস।