বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৪ ১৮:৪২ পিএম
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৪ ১৯:০৩ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি, ছাত্রশিবিরের রাজনীতি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার রাখা ও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনসহ বেশ কয়েকটি এজেন্ডা সামনে রেখে ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিয়াজোঁ কমিটি। সোমবার (১২ আগস্ট) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটরিয়ামে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে ১৫ আগস্টে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন না করাসহ সর্বসম্মতভাবে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এতে ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশনসহ বেশ কয়েকটি বামপন্থি সংগঠন এবং ইসলামী ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে আসিফ মাহমুদ ও নাহিদ ইসলাম বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। লিয়াজোঁ কমিটির পক্ষ থেকে ছিলেন, সমন্বয়ক মাহফুজ আলম, সদস্য নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ও আরিফুল ইসলাম আদীব। ছাত্রলীগ ও ছাত্রসমাজের কোনো প্রতিনিধি সভায় ছিলেন না।
বৈঠকে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো— জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সুসংহতকরণের লক্ষ্যে ন্যূনতম এক মাস বা পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও বেশি সময় ছাত্রসংগঠনগুলো ক্যাম্পাসগুলোতে নিজেদের আলাদা করে কোনো কর্মসূচি দেবে না, বরং আন্দোলনের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধভাবে গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে রক্ষা করার জন্য এবং সব ধরনের প্রতিবিপ্লব রুখে দেওয়ার জন্য লড়বে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করে কোনো ছাত্র ক্যাম্পাসে বা অন্য কোথাও কারও ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন, হুমকি কিংবা ট্যাগ-ব্লেইম দিতে পারবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাত্রলীগের কোনো কর্মী বা নেতা ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবেন না। এ ছাড়াও ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন না করার বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। উপস্থিত সব ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি এসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে লিখিতভাবে একমত পোষণ করেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- ছাত্ররাজনীতির ধরন ও প্রকৃতি নিয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে এ অন্তর্বর্তী সময়ে সংলাপ অব্যাহত থাকবে। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি চলবে কি না সে বিষয়ে আলোচনা আন্দোলন অব্যাহত থাকা পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। তবে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ছাত্রসংগঠনগুলোর ভূমিকা থাকবে না।
জাতীয় শোক দিবসের বিরোধিতার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘যেহেতু ১৫ আগস্টকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতীকে রূপান্তর করা হয়েছে এবং এ দিবসকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পুনরায় সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে তাই জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা ও অভ্যুত্থান সংহত করার লক্ষ্যে ১৫ আগস্টকে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করাটা সমীচীন নয়।’ নেতৃবৃন্দরা জুলাই ও আগস্ট মাসকে বাংলাদেশের জনগণের শোক, সংহতি ও প্রতিরোধের মাস হিসেবে সাব্যস্ত করেন।
বৈঠকে যে সব ছাত্রসংগঠন উপস্থিত ছিল— বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন (রাগিব নাঈম), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন (মুক্তি কাউন্সিল), বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (ইউপিডিএফ), বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (জেএসএস), বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ (নুর), বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ, ছাত্র আন্দোলন (এনডিএম), বিপ্লবী ছাত্রসংহতি, রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র অধিকার পরিষদ (রেজা কিবরিয়া), বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস, গণতান্ত্রিক ছাত্রদল (এলডিপি), নাগরিক ছাত্র ঐক্য, জাগপা ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম (গণফোরাম-মন্টু), ভাসানী ছাত্র পরিষদ, জাতীয় ছাত্র সমাজ (কাজী জাফর), জাগপা ছাত্রলীগ (খন্দকার লুৎফর) , ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র সমাজ, বাংলাদেশ ছাত্র মজলিস, বাংলাদেশ জাতীয় ছাত্রসমাজ, বাংলাদেশ ছাত্রমিশন, বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল, জুম লিটারেচার সোসাইটি।