কোটা আন্দোলন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৪ ২২:০৯ পিএম
আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৪ ১০:০৯ এএম
কোটাপ্রথা বাতিলের দাবিতে বরিশাল নতুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল চত্বরে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছে বিএম কলেজ শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে যে সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত নিরসনে সমঝোতার কোনো লক্ষণ ও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এ আন্দোলনে শিক্ষাঙ্গনে অচলাবস্থার সঙ্গে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধের কারণে জনদুর্ভোগও বেড়েছে। শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। কেননা সরকার ২০১৮ সালে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করলেও হাইকোর্টের রায়ে তা কার্যকারিতা হারিয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানও সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, ‘রাজপথের আন্দোলন দেখে সুপ্রিম কোর্ট-হাইকোর্ট রায় পরিবর্তন করে না।’ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নীরব রয়েছে। এ অবস্থায় এ আন্দোলন ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবে, এর পরিণতিই-বা কী হবে, অচলাবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটবে কীভাবেÑএসব প্রশ্ন পর্যবেক্ষকদের কাছে বড় হয়ে উঠেছে।
রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কোটাবিরোধী আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই; কোটা বন্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু হাইকোর্টের রায়ে বহাল হয়েছে। পড়াশোনা বাদ দিয়ে ছেলেমেয়েরা আন্দোলন করছে। এটা এখন একটা সাবজুডিস ম্যাটার।’
কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে ‘ষড়যন্ত্রীরা’ সুযোগ নিতে পারে-এ মন্তব্য করে গত বৃহস্পতিবার সবাইকে সতর্ক থাকার তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেছেন, ‘জনপ্রিয় অনেক বিষয়কে পুঁজি করে ষড়যন্ত্রকারীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়।’ আন্দোলনকারীদের প্রতি তিনি এদের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলন পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সময়মতো সমাধান হয়ে যাবে।’
অন্যদিকে রবিবার বিকাল থেকে শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। বিকাল ৩টায় ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি শুরুর আগেই রাজধানীতে যানজট শুরু হয়ে যায়। অবশ্য নওগাঁয় কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের মাঠে নামতে দেয়নি ছাত্রলীগ।
কে কী বলেছেন
গত ৪ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান মন্তব্য করেন, ‘কোটা নিয়ে এত কীসের আন্দোলন? রাজপথের আন্দোলন দেখে সুপ্রিম কোর্ট-হাইকোর্ট রায় পরিবর্তন করে না।’ এদিন এ বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল (নিয়মিত আপিল) করতে বলেন আপিল বিভাগ।
গত ৬ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে ‘যৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে তাতে সমর্থন জানায় বিএনপি। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিÑকোনো শ্রেণিতেই কোটা পদ্ধতি মেধা বিকাশে সহায়ক হতে পারে না। এটি মেধাভিত্তিক বৈষম্যহীন জাতি ও সমাজ বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’ এর আগে এ আন্দোলনকে সমর্থন জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
গত ৬ জুলাই গাজীপুর জেলা জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে। আমাদের দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে কোটা পদ্ধতি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোটা পদ্ধতি বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯-এর ১, ২, ৩ এর সম্পূর্ণ পরিপন্থি। সংবিধান সংশোধন করে এটাকে বৈধ করতে পারবে না।’
কেন এই আন্দোলন
২০১৮ সাল পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রচলিত ছিল বাংলাদেশে। তার মধ্যে ৩০ শতাংশই ছিল মুক্তিযোদ্ধা কোটা।
বাকি কোটার মধ্যে ছিল ১০ শতাংশ নারী কোটা ও ১০ শতাংশ জেলা কোটা। ৫ শতাংশ কোটা ছিল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জন্য। এ ছাড়া এক শতাংশ কোটা ছিল প্রতিবন্ধীদের।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২০১৮ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। তাদের দাবি ছিল, কোটা ৫৬ শতাংশ না হয়ে ১০ শতাংশ করা হোক।
তাদের দাবির মুখে সে বছর পুরো কোটা পদ্ধতিই বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কিন্তু ২০২১ সালে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা ফিরে পেতে উচ্চ আদালতে রিট করেন। এ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ জুন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের এই রায় স্থগিত না করায় আগের নিয়মানুযায়ী সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা আপাতত বহাল রয়েছে ।
হাইকোর্টের ওই রায়ের পর গত ৬ জুন থেকেই তা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। তবে কিছুদিন আন্দোলন চললেও মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা চলে আসায় ২৯ জুন পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখেন শিক্ষার্থীরা। গত ৩০ জুন থেকে তারা ফের আন্দোলন শুরু করেন। পহেলা জুলাই থেকে এই আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের এখন এক দফা দাবি
কোটা পদ্ধতির সংস্কারের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। দাবিগুলো হচ্ছেÑ ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কার করা এবং কোটায় প্রার্থী না পাওয়া গেলে মেধা কোটায় শূন্যপদ পূরণ করা; একজন ব্যক্তি যেন তার জীবদ্দশায় সব ধরনের সরকারি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় একবার কোটা ব্যবহার করতে পারে; প্রতিটি জনশুমারির সঙ্গে অর্থনৈতিক সমীক্ষার মাধ্যমে বিদ্যমান কোটার পুনর্মূল্যায়ন নিশ্চিত করা; এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কিন্তু রবিবার দাবি এক দফায় নামিয়ে আনা হয়েছে। এটি হচ্ছেÑ সব গ্রেডে সব ধরনের অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংসদে আইন পাস করতে হবে। রবিবার রাত ৮টায় শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচির শেষে নতুন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সোমবার (আজ) বেলা সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে মূল ব্লকেড আন্দোলন শুরু হবে। তা ছাড়া একই সময়ে সারা দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে এই ব্লকেড কর্মসূচি শুরু হবে।’
বিভিন্ন স্থানে অবরোধ, স্থবির ঢাকা
রবিবার রাজধানীর শাহবাগ মোড়সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আশপাশের ১০টি স্থানে অবরোধ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। শাহবাগ ছাড়া অবরোধ করা হয়- সায়েন্স ল্যাব মোড়, চানখাঁরপুল মোড়, নীলক্ষেত মোড়, হাতিরপুল বাজার মোড়, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, পরীবাগ মোড়, বাংলামোটর মোড়, হাতিরপুল মোড় ও কারওয়ান বাজার মোড়। এ ছাড়া আগারগাঁও সিগন্যালে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও পুরান ঢাকায় কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন।
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের কারণে রবিবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় যানজট ছিল। দুপুরে কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করলে যানজট আরও বাড়ে। এরপর বিকাল ৪টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অবরোধ করলে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।
চানখাঁরপুলে অবরোধের কারণে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ উড়ালসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুর ২টা থেকে থেমে থেমে গাড়ি চললেও বিকাল ৪টার পর থেকে উড়ালসড়ক হয়ে রাজধানীর ভেতরে গাড়ি প্রবেশ করতে পারেনি। ফ্লাইওভারের ওপরে-নিচে দীর্ঘ যানজট দেখা যায়। অফিস শেষে ঘরমুখী মানুষ পড়েন ব্যাপক ভোগান্তিতে। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করেন। মেট্রোরেলে ছিল অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ।
সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ
বরিশালে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এবং ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত নথুল্লাবাদ এলাকায় পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। মহাসড়ক অবরোধের ফলে দুই স্থানে কয়েক কিলোমিটার যানবাহনের তীব্র জট লেগে যায়।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন। বেলা ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দিলেও পরে সাভারের ধামরাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রার জন্য সময় পরিবর্তন করে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেফমুবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।
কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা। এ সময় সড়ক অবরোধ করে তাদেরকে ফুটবল খেলতে দেখা গেছে।
প্রায় দেড় ঘণ্টা দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ী অংশে অবরোধ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। বিকাল ৪টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এসে মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন।
সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। তারা বেলা সাড়ে ৩টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।
ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়েও কোটার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর আড়াইটার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা চত্বরে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ ছাড়া অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজেশিক্ষার্থীরা কোটার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
রেলপথেও অবরোধ
ময়মনসিংহ নগরীতে জামালপুরগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বেলা ৩টা ৪০ মিনিট থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নগরীর সানকিপাড়া রেলক্রসিং এলাকায় জামালপুরগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকে রাখা হয়। এই আন্দোলনে নগরীর আনন্দমোহন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
একই দাবিতে সোমবার (আজ) ঢাকা-রাজশাহী রেলপথ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় প্যারিস রোডে বিক্ষোভ থেকে এ ঘোষণা দেন তারা। এর আগে রবিবার দুপুরে বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে প্যারিস রোডে সমবেত হন তারা।
(প্রতিবেদনটিতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন জেলার প্রতিদিনের বাংলাদেশের প্রতিবেদকরা)