বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৪ ২২:২২ পিএম
সোমবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য ড. সত্য প্রসাদ মজুমদারকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। প্রবা ফটো
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য ড. সত্য প্রসাদ মজুমদারকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
সোমবার (২৪ জুন) বিকালে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাদের সংক্রান্ত পদোন্নতি নীতিমালা-২০১৫ স্থগিত করায় তা পুনর্বহালের দাবিতে তাকে অবরুদ্ধ করা হয়।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ৯টা) আন্দোলন চলছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
এসময় বিক্ষোভকারীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’, ‘পদোন্নতি নীতিমালা ফিরিয়ে আনতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৫৪০তম সভায় ২৭-১২-২০২৩ তারিখের পরবর্তী সময়ে নীতিমালা-২০১৫ এর মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা/কর্মচারী পদোন্নতি, পদোন্নয়ন, সিলেকশন গ্রেড, সিনিয়র গ্রেড স্কেল প্রাপ্যতার জন্য বিবেচিত হবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিষয়টি জানিয়ে গতকাল রবিবার (২৩ জুন) বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি অফিস আদেশ জারি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফোরকান উদ্দিনের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ফাইন্যান্স কমিটির ৫৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে একই বছরের ২৭ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৫৪০তম সভায় নতুন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এগুলো হলো:
(ক) ২৭-১২-২০২৩ তারিখের পরবর্তী সময়ে নীতিমালা-২০১৫ এর মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা/কর্মচারী পদোন্নতি, পদোন্নয়ন, সিলেকশন গ্রেড, সিনিয়র গ্রেড স্কেল প্রাপ্যতার জন্য বিবেচিত হবেন না।
(খ) নীতিমালা-২০১৫ এর মাধ্যমে এরইমধ্যে যাদের পদোন্নতি, পদোন্নয়ন, সিলেকশন গ্রেড, সিনিয়র গ্রেড সেল দেয়া হয়েছে তা অপরিবর্তিত থাকবে। যাদের পদোন্নতি, পদোন্নয়ন, সিলেকশন গ্রেড, সিনিয়র গ্রেড স্কেল দেওয়া হয়েছে, তাদের চাকরি শেষ হলে বা পদত্যাগ করলে বা অপসারণ বা পদচ্যুত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের অর্গানোগ্রাম বর্হিভূত পদ বিলুপ্ত হবে এবং অর্গানোগ্রামভুক্ত মূল পদ শূন্য হবে।
(গ) গত বছরের ২৭ ডিসেম্বরের পরবর্তী সময়ে প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে পদোন্নতি, পদোন্নয়ন, সিলেকশন গ্রেড, সিনিয়র গ্রেড স্কেল প্রদানে সরকারি নীতিমালা এবং ইউজিসি অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম প্রযোজ্য হবে। কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারী যদি সরকারি নীতিমালায় এরইমধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রণীত নীতিমালা-২০১৫ এর মাধ্যমে প্রাপ্ত গ্রেডের চেয়ে উচ্চতর গ্রেড অথবা পদ প্রাপ্ত হন তাহলে তা প্রদান করা হবে।
(ঘ) ওপরের সব সিদ্ধান্ত উল্লেখপূর্বক অনুমোদনের জন্য ইউজিসিতে পাঠানো হবে।
বুয়েটের সিনিয়র অ্যাসিসটেন্ট লাইব্রেরিয়ান ইসমাইল বলেন, ‘আমরা যাতে কিছু করতে না পারি তাই এতদিন নীতিমালা বাতিলের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ লুকিয়ে রেখেছিল। আমরা নীতিমালা বহাল চাই। এই দাবিতে উপচার্যকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। তিনি যেন আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করেন সেই দাবি জানাই।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বর্তমান উপাচার্যের মেয়াদ আগামীকাল মঙ্গলবার (২৫ জুন) শেষ হতে চলেছে।