জাবি সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২২ ১১:১৭ এএম
আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২২ ১৩:৩৩ পিএম
বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ আয়োজিত সেমিনার। প্রবা ফটো
রান্নার পর বেঁচে যাওয়া পোড়া তেল থেকে রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ায় তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব বায়োডিজেল; যা জীবাশ্ম পেট্রোলিয়াম ডিজেল থেকে শতকরা ৯০ শতাংশ কম কার্বন নিঃসরণ করে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন মুনজের বাংলা প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শামীম আহমেদ।
সেমিনারে তিনি বলেন, খাবার রান্নায় পোড়া তেল ব্যবহার মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে এ তেল কিনে নেন তারা। প্রতি লিটার পোড়া তেল ৫৫-৬০ টাকায় কিনে জাহাজে করে অস্ট্রিয়া পাঠানো হয়। সেখানে বড় পরিসরে তা রিসাইক্লিংসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়োডিজেল, গ্লিসারিন ও পটাশিয়াম সালফেট তৈরি করা হয়।
শামীম আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে রান্নায় ব্যবহৃত এ পোড়া তেল থেকে বছরে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন বায়োডিজেল প্রস্তুত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ, ভারত, কেনিয়া, নেদারল্যান্ডসসহ বিশ্বের ৯টি দেশে পোড়া তেল থেকে বায়োডিজেল তৈরির মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করছে।’
বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে দেশে শতকরা ৩২ জন হৃদরোগে মারা যাচ্ছেন। পোড়া তেল বারবার ব্যবহার করলে শরীরে ফ্রি রেডিক্যালসের পরিমাণ বাড়তে পারে; যা আমাদের শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এটি ক্যান্সার সৃষ্টির অন্যতম কারণ। পোড়া তেল ব্যবহারে শরীরে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ায় ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধা, হার্ট বা স্নায়ুর সমস্যাসহ নানা রোগ দেখা দিতে পারে।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্যাম্পাসে প্রতিটি খাবারের দোকানে এবং হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনে খাবার তৈরিতে পোড়া তেল ব্যবহার করা হচ্ছে; যা আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। তাই ক্যাম্পাসে যেন কোনোভাবেই পোড়া তেল ব্যবহার না করা হয় সেজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।