× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সৈয়দ শামসুল হক : জীবনের দীর্ঘ সাধনায় সিদ্ধি

ড. দিলারা হাফিজ

প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:০৩ পিএম

সৈয়দ শামসুল হক : জীবনের দীর্ঘ সাধনায় সিদ্ধি

একটি জাতির জাতীয় জীবনের ঐতিহাসিক মুহূর্তের গুরুত্বপূর্ণ, কালজয়ী কিছু অর্জন থাকে; যা কেবল ইতিহাসবিদরা লেখেন না এবং ইতিহাসেই কেবল সীমাবদ্ধ নয়। কবি-শিল্পী-সাহিত্যিকের হাতে তার পুনর্মূল্যায়ন এবং পুনর্জাগরণ ঘটে ধ্রুপদি শৈল্পিক মহিমায়।

সেসব রচনার মধ্য দিয়ে নতুন এক দিগন্তের উন্মোচন ঘটে, যা পুরো জাতিকে আবেগে উদ্বেলিত ও আলোড়িত করে দেশ ও স্বদেশ প্রেমের হিরণ্ময় দ্যুতি ছড়িয়ে।

চিরায়ত বাংলা ভাষার এক নতুন আয়নায় প্রতিবিম্বিত হতে থাকে পাঠক-শ্রোতার নিজস্ব অবয়ব। হাজার বছরের বাংলা সাহিত্যের পথে পথে এরকম বহু রচনার পরিচয় পাই আমরা।

মধ্যযুগের কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্যে তৎকালীন সমগ্র বাংলার অর্থনৈতিক যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা বাঙালিমাত্রেরই মুখে মুখে ফেরে মাত্র দুটি চরণেÑ

প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে।

আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে॥

কে না জানে এ চরণটি? অর্থাৎ যা অল্পকথায় বা স্বল্পায়তনে বাঙালি জাতিরাষ্ট্রের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিচয় এভাবেই সমাজ দর্পণে উৎকীর্ণ হয়ে আছে কবিতাশিল্পের শাশ্বত ও চিরন্তনী রূপ নিয়ে। বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতির প্রধান প্রবণতার এ চাবিশব্দ দিয়ে কবি রচনা করেন গুরুত্ববহ ও নান্দনিক এক আলেখ্য; যা পাঠের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের পরিচয় সম্যকভাবে জানতে পারি, গর্বিত হতে পারি বাঙালি জাতি হিসেবে।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রতীক হয়ে আছে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর একটি মাত্র সংগীতÑ

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি,

আমি কি ভুলিতে পারি?

একইভাবে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দিনটি এলেই মনে পড়ে কবি শামসুর রাহমানের ‘আসাদের শার্ট কবিতাটি। রক্তাক্ত শার্টটিকে কবি রূপ দিয়েছেন মুক্তির পতাকায়Ñ

আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা/সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক/আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা

 

এরপর এলো মহান একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধ, হাজার হাজার কবিতা ও গান রচিত হলো বিভিন্ন কবির হাতে।

বাংলাদেশ নামক নতুন রাস্ট্রের সদ্যস্বাধীনতা লাভের সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠে এলো।

ছয় মাত্রার মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত কবি শামসুর রাহমানের একটি অবিনাশী কবিতা।

কবিতাটির শিরোনাম দিলেন ‘স্বাধীনতা তুমি

স্বাধীনতা তুমি

রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।

স্বাধীনতা তুমি

কাজী নজরুল, ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো

মহান পুরুষ, সৃষ্টিসুখের উল্লাসে কাঁপা

স্বাধীনতা তুমি

শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা

স্বাধীনতা তুমি

শামসুর রাহমানের পরে একই দশকের পঞ্চাশের কবি সৈয়দ শামসুল হক, বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক বিকাশ ও বিবর্তনের পথ ধরে বাঙালি জাতির উৎস-পরিচয় এবং তার সাহসী, কাব্যিক, শিল্পিত পরিচয় মেলে ধরেছেন অপূর্ব এক বাকভঙ্গিমায়।

ভাব-ভাষা ও ছন্দের সযত্ন ব্যবহারে এ কবিতা যেন হরগৌরী মিলনের উত্কৃষ্ট উদাহরণ। এমন একটি কবিতার জন্য এ মহৎ কবি ও স্বপ্নদ্রষ্টা সব্যসাচী লেখক হিসেবে পাঠকের হৃদয়ে, তরুণ কবিদের কাছে মূর্তিময় এক অনুপ্রেরণার উৎস ও আদর্শ হয়ে বেঁচে থাকবেন, যত দিন বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশ বর্তমান আছে।

উল্লিখিত কবিতায় তিনি ছয় মাত্রার মাত্রাবৃত্ত ছন্দের সুনিপুণ ব্যবহারে যেমন শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন, তেমন চরণ শেষে বিদগ্ধ অন্ত্যমিলে বিমোহিত করেছেন পাঠককে।

এতে কবিতাটি পাঠে আবেগের এক সমুজ্জ্বল-সম্মোহন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়েছে অনায়াসে। এক কথায় বলা যায়, ‘আমার পরিচয় কবিতাটি বাঙালি জাতির পূর্বাপর সাহসী ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের এক আখ্যান পর্ব।

যার শেষ স্তবকে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মহানায়কের প্রসঙ্গ। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যথার্থ মূল্যায়ন এবং তাঁর সম্মোহন চিন্তা-চেতনা, স্তুতি ও প্রশস্তির বিবরণ। ফলে ইতিহাস ও ঐতিহ্য বয়ানের পাশাপাশি তা জ্বলন্ত সত্যের এক আলেখ্যে পরিণত হয়েছে এবং দেশপ্রেমের শীর্ষচূড়া স্পর্শ করেছে অতুলনীয়, অনবদ্য এ কবিতাটি।

কবিতাটি স্কুলপাঠ্য হলেও কবির প্রয়াণের পরে তা প্রতিটি বাঙালির কাছে পৌঁছে গেছে আত্মপরিচয়ের এক মহাদলিল হিসেবে।

যা দেশপ্রেম ও প্রত্যয়ে শিশু থেকে সব বয়সের পাঠকের মন ও মননে গভীর ছায়া ফেলে যায় মনের অজান্তে এবং বাঙালিমাত্রকে ভালোবাসায় সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে অবশ্যম্ভাবীরূপে।

সৈয়দ শামসুল হকের ‘আমার পরিচয় তেমনি একটি অসাধারণ কবিতা। দীর্ঘ এ কবিতার প্রথম ও শেষের দুটি স্তবক আমি পাঠ করছি এখানেÑ

আমি জন্মেছি বাংলায়

আমি বাংলায় কথা বলি।

আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।

চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।

তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে?

আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে

আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে।

আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে

আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে।

আমি বাঙালি, আমার আছে ইতিহাস গর্বের-

কখনোই ভয় করিনাকো আমি উদ্যত কোনো খড়গের।

শত্রুর সাথে লড়াই করেছি, স্বপ্নের সাথে বাস;

অস্ত্রেও শান দিয়েছি যেমন শস্য করেছি চাষ;

একই হাসিমুখে বাজায়েছি বাঁশি, গলায় পরেছি ফাঁস;

আপোষ করিনি কখনোই আমিÑ এই হলো ইতিহাস।

এই ইতিহাস ভুলে যাবো আজ, আমি কি তেমন সন্তান?

যখন আমার জনকের নাম শেখ মুজিবুর রহমান;

তারই ইতিহাস প্রেরণায় আমি বাংলায় পথ চলিÑ

চোখে নীলাকাশ, বুকে বিশ্বাস পায়ে উর্বর পলি।

শুধু কবিতায় নয়, বাংলা ভাষা তথা বাংলাদেশের সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কর্ণধার, মেধাবী লেখক সৈয়দ শামসুল হক তার দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে শিল্প-সাহিত্যের যে শাখায় হাত রেখেছেন, সেখানেই সোনা ফলেছে। বহুমুখী মেধা-মনন-প্রজ্ঞার স্বাক্ষর রেখেছেন শিল্প-সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায়। কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, অনুবাদ নাটক, কাব্যনাটক, চিত্রনাট্য, গীতিকার কোথায় নেই তিনি।

বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজের দুঃখকষ্টের আবেগ-অনুভূতি-সাহস-ভালোবাসা সবই সাবলীল, প্রাঞ্জল ভাষা ও সহজ কথায়, ভাব-রূপ-ছন্দে উঠে এসেছে তার রচনাসমূহে।

কাজী নজরুলের পর এজন্য সব্যসাচী লেখক উপাধি পেয়েছেন পঞ্চাশের দশকের সবচেয়ে মেধাবী, মননশীল, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই লেখকসত্তা; যার নাম কবি সৈয়দ শামসুল হক। সাহিত্যের সব শাখায় সাবলীল পদচারণের জন্যই তিনি ‘সব্যসাচী লেখক হয়ে উঠেছেন ৬২ বছরের লেখক জীবনের দীর্ঘ সাধনায়। এ সিদ্ধি তার প্রাপ্য ছিল।

দুই.

শিল্পক্ষেত্রে সৈয়দ শামসুল হকের অবদান শুধু নাটকেই সীমাবদ্ধ নয়, তিনি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখেছেন, এমনকি চলচ্চিত্রের জন্য গানও রচনা করেছেন। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

তার রচিত ‘হায়রে মানুষ, রঙিন ফানুস গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

তার নাটক রচনার নেপথ্য কাহিনী খুবই আকস্মিক ও অনুপ্রেরণাজাত। বিবিসি বাংলায় নাটকে কাজ করার মাধ্যমে তিনি নাট্যকার হিসেবে পরিচিতি পান। ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় নাটকটি তার মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত প্রথম কাব্যনাট্য। এরপর রচনা করেন গণনায়ক (১৯৭৬ সালে প্রকাশিত)। এর ছয় বছর পর ১৯৮২ প্রকাশিত হয় নুরুলদীনের সারাজীবন। এর কাহিনী মূলত ফকির বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত। এখানে এখন (১৯৮৮)। এরপর কাব্যনাট্য সমগ্র প্রকাশিত হয় ১৯৯১ সালে। এর কিছু পরে ঈর্ষা, বাংলার মাটিজল, নারীগণ এবং এবং যোদ্ধাসহ সর্বমোট আটটির মতো উল্লেখযোগ্য রচনা রয়েছে সৈয়দ হকের। কাব্যনাটকের যে উর্বর একটি ধারা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের সাহিত্যে, তা এককভাবে সৈয়দ হকের অবদান।

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় নাটকটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি কাব্যনাট্য, এ কথা আমরা সবাই জানি। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় শীর্ষক গ্রন্থটির পৃষ্ঠা ৬৪। এর মধ্যে ‘নাটকের করণকৌশল শিরোনামে ৫ পৃষ্ঠার একটা ভূমিকা রয়েছে নাট্যকারের জবানিতে।

সেখানে তিনি বলেছেন, ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় লিখেছিলাম দেশ থেকে বহু দূরে বসে, এক কামরার ছোট একটি ঘরে, শীতার্ত লন্ডন নগরীতে, শীত ভেঙে তখন সেখানে নেমে আসছে গ্রীষ্মকাল, গাছের পাতাগুলি আবার উঁকি দিচ্ছে মরা ডাল থেকে, কিন্তু বৃষ্টি, সে বছর উনিশ শ পঁচাত্তর সালÑবৃষ্টি আমাদের তুমুল তাড়া করে ফিরছিল, তাই শীত যদিও কমবার কথাÑকমেনি, আমি ভোরে উঠে কাজে বেরোই ছাইরঙা মোটা ট্রেঞ্চকোট পরে, পাতাল রেলের ইস্টিশানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করি ট্রেনের হ্যাম্পস্টেডে। ট্রেন বড় দেরি করে আসে, লন্ডনের গভীরতম এই ইস্টিশানের প্ল্যাটফরমে দাঁড়িয়ে মনে মনে রচনা করে চলি পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়-এর সংলাপ, তারপর অফিসে পৌঁছেই নিচতলার ক্যান্টিন থেকে কফি নিয়ে পাঁচতলায় উঠে আমি আমার কামরায়, দ্রুত লিখে রাখি সদ্যরচিত সংলাপগুলো, তারপর ডুবে যাই কাজে, সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে রান্না ও আহার শেষে বিছানায় যাই, ছোট ঘরÑটেবিলের সংকুলান হয়নি, বিছানায় আধো শুয়ে পা দেয়ালে ঠেকিয়ে হাঁটুর ওপর খাতা রেখে লিখে চলি, উনিশ শ পঁচাত্তর সালের পয়লা মে লিখতে শুরু করে তেরোই জুন মধ্যরাতে নাটকটি শেষ করেছি।

তুলনামূলক আলোচনা করলে দেখা যায়, সৈয়দ হকের পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় কাব্যনাটকটি রবীন্দ্রনাথের বিসর্জন কাব্যনাটকের সঙ্গে ভাবাশ্বর্যে এবং উপসংহারে কোথায় যেন অন্তর্নিহিত একটি মিল রয়েছে। রাজর্ষি উপন্যাস অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার বিসর্জন কাব্যনাটক লিখেছেন। আখ্যানভাগ গড়ে উঠেছে ত্রিপুরার রাজ পরিবারকে কেন্দ্র করে। সন্তানহীন রাজমহিষীর সন্তানাকাঙ্ক্ষা, দেবীর কাছে সন্তান প্রার্থনার বিনিময়ে পুরোহিত রঘুপতির পরামর্শে রক্তবলীদানÑঅবশেষে অন্ধ ধর্মবিশ্বাস ও কুসংস্কারের রক্তপিপাসার প্রতি তরুণ জয়সিংহের আত্মোৎসর্গের মাধ্যমে নাটকের পরিসমাপ্তি। এখানে জীবপ্রেম, মানবপ্রেমসহ ধর্মীয় গোঁড়ামির ফলে কুযুক্তির সঙ্গে যুক্তিবাদিতার চিরন্তন দ্বন্দ্বের একটি বিভীৎস রূপের দেখা মেলে। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় কাব্যনাট্যেও মূল পটভূমি মুক্তিযুদ্ধ হলেও এতেও ধর্মীয় কুসংস্কার/কুযুক্তি প্রতিরোধের বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে।

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়ের মূল ঘটনা এই যে, কোনো একটি গ্রামের মাতবর পাকিস্তানি সেনাদের মদদ জুগিয়ে যাচ্ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে, মাতবরের ছিল যুবতী মেয়ে, পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি বাহিনী পিছু হটবার মুহূর্তে তাদের আঞ্চলিক অধিনায়ক এক ক্যাপ্টেন এসে মাতবরের মেয়েকে এক রাতের জন্য চায়, মাতবর চমকে ওঠে, সে তো এই ক্যাপ্টেনকে বন্ধু বলে জেনেছে এবং তাকে যথাসাধ্য সাহায্য করেছে যুদ্ধে, তার কাছ থেকে এ রকম একটি প্রস্তাব আসবে দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেনি, মাতবর যখন বুঝতে পারে যে ক্যাপ্টেন তার মেয়ের সম্ভ্রম নষ্ট না করে আঙিনা থেকে বিদায় নেবে না তখন সে তাকে অনুরোধ করে, আপনি এক রাতের জন্য হলেও আমার মেয়েকে বিয়ে করুন, ক্যাপ্টেন কী ভেবে রাজি হয় এবং মাতবর নিজেই মেয়ের সঙ্গে ক্যাপ্টেনের বিয়ে দেয়, ক্যাপ্টেন তার সম্ভ্রম হরণ করে সৈন্যসহ পালিয়ে যায়।

পরদিন মুক্তিযোদ্ধরা যখন গ্রামের সীমান্তে এসে পৌঁছায় তখন গ্রামবাসী মাতবরের কাছে আসে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে এবং এরই এক পর্যায়ে মাতবরের মেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে গত রাতের ঘটনা প্রকাশ করে দেয় ও বিষপানে আত্মহত্যা করে। গ্রামবাসী এই প্রথম মাতবরের প্রকৃত চরিত্রটি উপলব্ধি করে এবং বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের কয়েক মুহূর্ত আগেই তারা মাতবরকে হ্ত্যা করে।

টি এস এলিয়টের কাব্যনাট্য ভাবনা দ্বারা প্রভাবিত নাট্যকার সৈয়দ হকের কথা দিয়ে শেষ করব এ লেখাÑ

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, মুক্তিযুদ্ধের নাটক হিসেবে পাঠক ও দর্শকের কাছে চিহ্নিত হলেও এ নাটক আমি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের নাটক হিসেবে রচনা করিনি, আমি চেয়েছি মুক্তিযুদ্ধ পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করে আরও বড় একটি মুক্তির জন্য দর্শককে প্রাণিত করতেÑসে মুক্তিযুদ্ধ ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে, ধর্মের নৌকায় নৈতিক অন্যায়কে পার করিয়ে দেওয়অর যুগযুগান্তরের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে।  

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা