ফারুক মাহমুদ
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:২৯ পিএম
খসখসে ত্বকের মতো ইতিউতি পাতা ঝরে আছে
জলের সকল উৎস ম্লান— মৃত মাছিদের
চোখ—
ঝড়ো, মৃদুমন্দ নয়; বাতাসের শৈত্যচলাচলে
যথেষ্ট চঞ্চল থাকে ডাঁশ, মধুপোকাদের হুল
অবশ্য রসিক যারা— তারা চায়
অবারিত ওম
বহু পথে মন থাকে, সে-ও আজ দ্রুত ঘরে ফেরে
অগুরুচন্দনঘ্রাণ, নারীটির মুক্তবস্ত্রশোভা—
চৌম্বক-শক্তির জাদু, চোখ থেকে সরে না নয়ন
উদগ্রীব পিচ্ছিল পথ স্বাদমতো ভ্রমণের সাধ
সাপের ফণার শব্দ, ভেঙে যায় শরীরের ঘুম
মধুরার তীরে
মোস্তাক আহমাদ দীন
এই শীতে আমি সখাহারা, নদী মধুরার তীরে
জানি না ঘুমের মধ্যে এই সখা-স্মরমাল্য জলে ডুবিল কোথায়? পাশে তৃণরাজি
রয়েছে ছড়িয়ে; এই ছোটো ছোটো দেহে তার ক্ষার ধূলিকণা কীভাবে যে বাঁধা রাস্তা হয়েছে চুরমার,
যেন মহিলা-চুলের রহস্যে আর কোনো দিন পুবাকাশে জমবে না মেঘ; হয়েও হবে না বৃষ্টি কালো
চরাচরে; ষণ্ডা ষাঁড়ের নৃত্যে দুলবে না মাটি, কোড়ানাচে গাইবে না কোড়াসখী তার
শুধু দূর-পথিকেরা নানা ভাবে আসে, আর নানা বেশ-বাসে যায়, আমি তাই গুনে
দেখি শীতে মাথার ওপরে কার কয় ফোঁটা শিশিরের জল
শীতে একদিন আরেকদিন
আলফ্রেড খোকন
একদিন
তোমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল দূরের মোড় ঘুরতে
আরেকদিন
তুমি আর আমি এবং সেÑ কেউ থাকব না শীতে;
একদিন
তোমাকে কেউ এসে লিখে দেবে ভোর-জানালায়,
আরেকদিন
দোয়েল পাখিটা ভোরবেলা ঘুম ভাঙানোর গান গায়
একদিন
আমাদের সম্পর্করা মুখোমুখি হয় সেমিকোলনহীন
আরেকদিন
স্কুলে যেতে হয় রাগতস্বরে, ধরতে হবে মায়াবী হরিণ
(হরিণকে ধরা যায় না
যদি সে নিজে না ধরা দেয়)
একদিন
একটা শতাব্দী আসে আরেকটা শতাব্দী চলে যায়;
আরেকদিন
আমরাওÑ ডুবেছি যারা জীবন-মদির এই সন্ধ্যায়!
সুযোগ
সাকিরা পারভীন
বেছে নেবার পেলে কোন ঋতুকে তুমি নির্ধারণ করতে শীত গ্রীষ্ম হেমন্ত শরৎ নাকি বসন্ত?
বর্ষা তোমাকে আগেই বাদ দিয়ে রেখেছি তালিকা থেকে। বৃষ্টিতে ভিজে কেউ লাশ বহন করার দায়
কাঁধে নেবে না। তা ছাড়া মাটি খুঁড়লেই বিব্রত হবে স্বজনরা পর্যাপ্ত পিঁপড়ে সুবিন্যন্ত
তেলা-গুবরে পোকা... এ ছাড়া এসব সংক্রান্ত অন্যান্য খবর... এ ছাড়া নির্মীয়মাণ বহুতল
ভবনের মতন সুনির্মিত সুখবর... এ ছাড়া ব্যালট বাক্সে উল্লসিত সহস্র চড়ুই
এক হাজার ভ্রূণ দুহাজার সফল সন্তান
বহুতলবিশিষ্ট সুউচ্চ শিক্ষাব্যবস্থায়
দেশের একটিও ছাগল
অশিক্ষার আলোতে থাকতে পারবে না
না কোনো করুণা আমি প্রত্যাশা করি না। একটিও আহা উঁহু উচ্চারিত না
হোক এই মরণের যেন সকলেই খুশি। তিন হাত গভীরতা অর্জনের আগেই ভেজা মাটি জল ও অগ্নির সমান্তরালে
সনাতন কূপ নাইলনের দড়িতে বালতি ঝুলিয়ে স্বচ্ছ জলের গুনটানা। তবে তাই হোক। শীতকালকে
বিবেচনায় রেখে মরতে গেলাম। তাতে আমার সন্তানদের উপকার হবে। কেননা শীতকালে হিমাগারের
খরচ অপেক্ষাকৃত কম থাকবার কথা।
পুরান দিনের কবিতা
মুজিব ইরম
তোমার বাড়ি যাইব আমি বসতে দিও দাওয়ায়, নকশি পাখায় করিও বাতাস কিংবা
তালের পাখায়... খাইতে দিও সবরিকলা বিন্নিধানের খই, আমি যেন তোমার বাড়ি মেহমান হয়ে রই...
জলপান করিতে দিও শালি ধানের চিড়া, সাচি পানের খিলি দিও, দিও মাথার কিরা... আর যেন গো
না যাই ফিরে তোমার কাছেই থাকি, যেন আমি তোমায় নিয়ে পুরান ছবি আঁকি... ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত
আমি ক্লান্ত আমার হিয়া, আমায় তুমি করিও শীতল তোমার আঁচল দিয়া... গাইও তুমি সেই পুরাতন
গীত, গড়িও তুমি সেই পুরাতন মিথ... ঘুরতে যাব পাড়ায় পাড়ায় হাতটি রেখো হাতে, পঞ্চ ব্যঞ্জন
ঢালিয়া দিও দুপুরবেলার পাতে... তোমার খেতের মটরশুঁটি জড়িয়ে নেবে পা, আমায় যেন দেয় নিমন্ত্রণ
তোমার শ্যামল গাঁ... পুরান পুরান পদ্যগুলি পড়ব দুজন মিলে, পা ভিজিয়ে বসব দুজন পদ্মফোটা
ঝিলে... শ্যামল বরণ কন্যা তুমি হাসিও পুরান হাসি, বলিও তুমি ঠারেঠোরে, ওরে মানু, তোমায়
ভালোবাসি।
আমি তো হায় পুরান মানুষ, পুরান আমার হিয়া, আমায় তুমি কইরো নয়া তোমার
আদর দিয়া।
ইনিই অন্তর্যামী
অরবিন্দ চক্রবর্তী
এ সকাল দেখা হলো না কোনো সকালে কারণ এখন এমন সকাল
ফুটেছে ওই আকাশ বেয়ে সকালের আশডায়ে পাশবাঁয়ে ছিটানো সকাল
শীত যদি এর চেয়ে আরও ঠাঠা কুসুম কুসুম সকাল
যেন উসুম উসুম সকাল নদীবর্তী একূল ওকূল সকাল
একমাত্র সকালেরই টাটকা নীরবতা
তুমি এর ঈশানে! কোন ঈশানে?
তুমি গভীর সকালে! কোন সকালে?
বিবাহ করতে মজেছ এই সকালে! থাক থাক এখন সকালের
কারণ দাঁড়িয়ে
যেখানে আবছা
প্রেক্ষাপট কামরাঙাসকাল
হয়তো সকালেরই সবজি-কাটা জিব
বিভোর খুঁজছে
যে-বা যিনি-বা অথবা তাহারই সেই সকাল