মীর রবি
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৩ ১৪:৫৩ পিএম
গড়িয়ে পড়ার
দৃশ্য
মসুর ডাল,
কিশমিশ, আতপ চাল— সুগন্ধি ঘ্রাণ, হাঁড়িতে চাপে ভোজন
কোলাহল। ভোগ-উপভোগে নারকেল শাঁস ডুবে আছে সামুদ্রিক স্নান। সূর্যাস্ত বিকেল— গোপন দুরবিন,
পরাভূত সাবমেরিন— জানালা খুলে দেখে সহবাসের শেষ দৃশ্য।
তাথই নৃত্য— নূপুরের ঝংকার,
অনাবৃত এটিএম কার্ডের ঝিলিক— চকচকে রাত। ঝাউবাতি— অন্তরঙ্গ
ছায়া দুলছে বা কাঁপছে কোমর ও ঠোঁট। তড়িৎ তরঙ্গে নাচে ছায়াবৃক্ষ— শাখাপ্রশাখায়
জড়িয়ে আছে স্বর্ণলতা— প্রভুর হাতে খুলে যাচ্ছে বেমানান দাসীর
মালা।
হালাল ফুড
পোল্ট্রি ফার্মের
গল্প— ফিডের সঙ্গে
মিক্সড ভিটামিন সি। জল ও হাইড্রোলিক অ্যাসিড— বিজারিত পুষ্টি
আমিষের অভাব পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। সমান্তরাল বাঁশ মুরগির খাঁচায় নিক্ষেপিত জিয়াতারের
গিঁট। ঘোরপ্যাঁচ, ইলেকট্রিক শক— ফেঁপে তুলছে অস্থিমজ্জা।
মাংসের দোকান— কর্তিত মাথা,
পাঁজর ও রান। ঝালফ্রাই-গন্ধ মাখছে স্টার কাবাব। জিবের ডগায় কুকুরের লালা— ফুড হ্যাভেন,
হুইজ পিপল ট্রিট ইউ! হাউ ফানি! ডিম হাতে পালিয়ে যাচ্ছে— অদেশি মুরগি।
আর তুমি অসদুপায়ে খুঁজছো হালাল ফুড!
হযবরল
নগরে বৃষ্টি— অন্তর্জালে
গুম হাওয়া। এলোমেলো বাতাস— উড়ছে বহুবর্ণের নিখোঁজ গন্ধ। পুব থেকে
পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ— চারদিক গোল গোল মেঘ। তথ্যঝড়ে বিধ্বস্ত
জনপদ ঢুকছে অবিশ্বাসের স্তূপে।
ঘিরে আছে নতুন
জাহেলিয়া। ঐশী ভূবোধ প্রশ্ন তুলছে তোমার আমার প্রতি। ভুলছি অনন্ত বিশ্বাস কিংবা পরকীয়ার
মতো মাথায় চেপে বসেছে সন্দেহ। প্রশ্নবিদ্ধ রাষ্ট্র, অবিশ্বাসী জনতা পৌঁছে গেছে লওহে
মাহফুজ। দ্বিখণ্ডিত চাঁদে ঝুলছে আগামী। রহস্যজটে দেবশিশুরা বলছে— আমার বাবা
কে? প্রমাণ দাও!
আমরা গুজব
ভাবতাম আর সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য। এভাবে আরও জটিল হয়ে উঠলে সময়— সুগম হচ্ছে
শোষণের পথ। অঘোষিত বিপৎসংকেত— ব-বর্গমাইল পৌঁছে দিয়েছে আবহাওয়া বার্তা,
শোষক সুসংহত ধর্ম ও ক্ষমতা।
দিওয়ানা
তোমার লাইগা
মিলাদ দিমু মান্নত করছি বিধুয়ার জুম্মায়। শিন্নি দিমু পাড়ায়— তোমার লাইগা
তাবিজ দিছে মুনশি গরিবুল্লায়। তুমি যদি আমার হও, আল্লা—ওলির কসম!
দুঃখ থুমু না কোনো, আগলাই রাখুম বুক পিঞ্জিরায়।
তোমারে পাইলে
আর চামু না বেহেশতি হুর, হাতে হাত রাইখা পাড়ি দিমু নীল দরিয়া পুলসিরাতের পুল। তোমার
লাইগা দোজখে যামু, পুড়তে রাজি জাহান্নামে। ডানে—বামে সবখানে
তোমার জিকিরে মন মশগুল।