আজ
খালেদ হোসাইন
আজ
বনশ্রীর পথ পাড়ি দিয়ে
কোথায় যেন গিয়েছিলাম
সুতরাং পার হতে হলো অজস্র খানা-খন্দ
মনে হয়েছিল যাওয়াই হবে না,
ফিরবার পথ বন্ধ।
আরো পথ ছিল যাওয়ার
প্রসন্ন আবহাওয়ার
তবু যে গেলাম, কারণ সুবাস
পেয়েছিল নাসারন্ধ্র!
এখন অতীত। সত্যি তা ছিল?
মনের ভেতর দ্বন্দ্ব।
তবু পাই আশ্লেষ
প্রগাঢ় হৃৎস্পন্দ।
একজন কবি হেঁটে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির পাশ দিয়ে
আরিফ মঈনুদ্দীন
আমি হাঁটছি হাঁটাই আমার নিয়তি
এক জায়গায় বসে থাকলেও আমি হাঁটি
শুয়েও হাঁটতে থাকি আমি
স্বপ্নে-জাগরণে হাঁটি
কথায়-চুপ থেকেও হাঁটি
আমি এখন হাঁটছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পবিত্র আবাসস্থল
গুলশান অ্যাভিনিউর দৃষ্টিনন্দন বাড়ির পাশ দিয়ে
সর্বংসহা জমিনে বিছানো নিরিবিলি ফুটপাত ধরে
হাঁটতে হাঁটতে রচিত হয় মহাকাব্যের প্রশস্ত জমিন
অতঃপর হাতে কেউ-একজন তুলে দেন ঝরনাকলম
তরতর করে অক্ষরের-পর-অক্ষর বসিয়ে
বর্ণ-শব্দ-বাক্যে রচিত হয় যে পবিত্র কাব্য ভুবন
তাতেই তো চিন্তার সাগরে ঢেউ উঠে
উত্তাল তরঙ্গে ভাঙে পার কী চমৎকার!
শস্য-শ্যামল সবুজ মুগ্ধকর এ-দেশের নাগরিক আমি
কতশত কথা ভিড় করে ক্ষিপ্র প্রতিযোগিতায়
একের-পর-এক প্রশ্নরা বল্লমের ধার নিয়ে হাজির হয় মস্তিষ্কে ... ... ...
সাদামাটা জীবন বেছে নেওয়া একজন বিশিষ্ট মানুষ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
বৈশিষ্ট্যে ধারণ করেছেন মরমি আচার সর্বত্রই যদি
ফেলতে পারেন সরল ছাপ তাহলেই উতরে যাবে পথ
সত্য সুন্দরের কসম ন্যায়ের দরোজায় দাঁড়িয়ে কান্ডারি যদি
শক্ত হাতে চেপে রাখে হাল
করজোড়ে তারাও দাঁড়িয়ে যাবে
ধূর্ততা রুমালে বন্দি করে যারা গোপন পকেটে নিয়ে হাঁটে
যারা এখনো বিপথগামী যারা এখনো নির্বোধ বেসামাল
সমালোচনা সহ্য করার সহনশীল মানসিকতা নিয়ে
রাজনৈতিক পর্দায় যার আবির্ভাব, তার হাতেই গোটা বাংলাদেশ,
হাতের মুঠোয় মানচিত্র নিয়ে
বিসমিল্লাহ বলে তিনি নেমে পড়েছেন মাঠে
কতশত আমলা অমাত্য সমভিব্যাহারে গুনছেন দিন
প্রত্যেকের মাথায় অদৃশ্য পুস্তকের পাতায় পাতায়
কী কী লেখা আছে পড়তে হবে তা যতটুকু পড়া যায়
বাকিটুকু এমনিতেই অবলীলায় দেবে ধরা
শুধু সত্য সুন্দরের ঝাঁকুনিতে যদি বাঁধা যায় গাঁটছড়া
পরিচ্ছন্ন গুলশান অ্যাভিনিউর মসৃণ ফুটপাত ধরে হেঁটে চলেছেন কবি
পায়েহাঁটা পর্যটক নিজের ভেতর থেকে উত্থানপর্বে অঙ্কিত হচ্ছে
সময়ের শ্রেষ্ঠ আয়োজন
শুভ্র প্রাচীরে মোড়ানো নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে জড়ানো
প্রকৃতির কোলজুড়ে শান্ত সমাহিত একটি বাড়ির
সমূহ সদর দরোজায় নিরাপত্তাকর্মীদের চোখেমুখে
অকৃত্রিম বিনয়ের ছাপ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হৃদয়-সঞ্জাত দৃশ্যমান যে বিনয়
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের পুরো ভূখণ্ডজুড়ে প্রবহমান।
সবুজ পত্রালি শোভিত বৃক্ষরা নৈঃশব্দ্যের কণ্ঠে কণ্ঠ
মিলিয়ে বলছে কথা যে কথা বলা হয়নি
সৌহার্দের পরম পরাকাষ্ঠায় হেঁটে হেঁটে কবি
হৃদয়ের চোখে দেখছেন বটবৃক্ষের ছায়াকে ম্লান করে দিয়ে
কার ছায়া পড়েছে এখন বদ্বীপের বিস্তৃত জমিনজুড়ে?
তার ছায়া যিনি হাতে নিয়েছেন ভার
হাহাকার দূর করিবার
যিনি কবিতা ভালোবাসেন, ভালোবাসেন কবিদেরও
ভালোবাসেন একটি দেশদেশের মানুষকেও
একদার কথা কঠিন সময় পার করে এসেছেন বাংলার কবিরা,
কবিদের টুঁটি চেপে ধরা ছিল
এখন কবিরা মুক্ত
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতায় শালীন মাত্রায় সবকিছুই বলা যায়
তাইতো বলছি যাহা ভুল
শোধরানোয় বিলম্ব হলে দিতে হবে তার মাশুল, এ শুধু
সাবধানবাণী অন্য কিছু নয়
হিতাকাঙ্ক্ষীর মুখের কথা যদি ফলপ্রসূ হয়
তাহলেই মরুভূমে মরূদ্যান, ফুল ফুটবে বাগানময়
ধৈর্য ও সহনশীলতার অনন্য নজির স্থাপনের দিকে অগ্রসরমাণ
হতে হলে সকলের জীবনের সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে, সংঘাত-সংঘর্ষে,
দ্বন্দ্ব-কলহে, ঝগড়া-ফ্যাসাদে সর্বাবস্থায় সংযম ও সহনশীলতার প্রতীক
হয়ে ওঠার এইতো চমৎকার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে অল্পতেই।
নিশ্চিত অদম্য কৌতূহল নিয়ে যারা তাকিয়ে আছেন দৃষ্টি ফেলে রেখেছেন পথে
তাদেরকে হতাশ করার অপর নাম ‘হৃদয় ভেঙে দেওয়া’।
যারা আজ হাত পেতে বসে আছে তাদের একটি মাত্র আরাধ্য জীবন
পুষ্পের সৌরভে সিক্ত প্রশান্তির সুবাতাস যেন গায়ে এসে লাগে
নতুন আশায় বীজ বুনেছেন তারা থেকে থেকে মনে এই স্বপ্ন জাগে
অসত্যকে আশকারা না দিয়ে অসভ্যকে সুস্থির সভ্যতা শিক্ষা দিয়ে
আধিপত্যবাদের বজ্রনখর প্রতিপদে তীক্ষণ্ন দৃষ্টি রেখে
আপনিও তো হতে পারেন সবে ধন নীলমণি এক
অত্যাশ্চর্য নেতৃত্বের অবয়ব
বিশ্বকাঁপানো বরেণ্য নেতা
দুর্নীতিবাজদের চরম ঔদ্ধত্যকে উপড়ে ফেলে
সরকারি নথির ডাকসাইটে কলেবরে
সেঁটে দিতে পারেন পরিশুদ্ধির ছাপ।
পদক্ষেপ রচনায় যেদিকেই পা ফেলেন
পলকহীন ছত্রিশ কোটি চোখ কৌতূহলী দৃষ্টি ঢেলে
সে পথেই রচনা করেন প্রত্যাসন্ন সাফল্যের মানচিত্রময় দেদীপ্যমান আলপনা
শিল্পের সৌন্দর্য মাথায় নিয়ে হাজির হয় ক্যানভাস, তুলি,
রামধনুর সাতরং, ধূসর মেঘের মাঝখান থেকে
বিদ্যুৎ ঝিলিক ভেতর থেকে জৌলুসপূর্ণ আলো
পরিচ্ছন্নতার মাপকাটিতে হিতাকাঙ্ক্ষীর
হিসাবনিকাশ পরিষ্কার হতে হতে
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের নাতিশীতোষ্ণ জমিনে বিরচিত হয়
প্রত্যাশার রুপালি আখ্যান
সারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গল্পের আদলে দেশে দেশে বজ্রনির্ঘোষে ঘোষিত হয়,
তিনি এসেছেন দেখেছেন কর্মনিষ্ঠায় চষে বেড়িয়েছেন
অতঃপর অটল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, পেতেছেন হাত
নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রিত্ব।
বৃষ্টিতে সতেজ সব জমিনে প্রাণসঞ্চারে ফলোদয় হবে
এই আশ্বাসে, বিশ্বাসে বুক বেঁধেছেন কিষান-কিষানি, কারখানার শ্রমিক,
শিক্ষক, শিক্ষার্থী কর্মজীবীসহ অগুনতি আপামর জনগণ
তারা ভাবছেন ধৈর্য, অসীম সাহস, মুক্তমন এবং বাস্তবমুখী প্রজ্ঞা নিয়েই
সমুখে এগিয়ে যাবেন তিনি।
এরপর যদি ভয়াবহ হাঙ্গামায় ফুটো হয়ে যায় ক্যানভাস,
ভেঙে যায় জলকেচলা নববধূর কাঁখের কলস তখন সবই শেষ
অর্জনের নামতায় কেবল শূন্যের বসবাস
কী হবে এমন ভবিতব্য হাতে নিয়ে দিয়ে দিয়ে পত্রাঙ্কে আশ্বাস।
ছোট্ট দেশ লক্ষকোটি সমস্যায় জর্জরিত
সমস্যা সম্পদে নয়, সমস্যা মানুষে
আমাদের কিছুরই অভাব নেই, অভাব শুধু মানুষের।
প্রতিটি কাজের জন্যে জবাবদিহিতা আছে এপারে যেমন, ওপারেও
এই আমূল প্রোথিত বিশ্বাস যার হৃদয়ে লালিত, যে মানুষটি
এই ভয়াবহ ভীতি নিয়ে জীবন নির্বাহ করে
তাকেই আমার দরকার এবং আপনারও।
সেই মানুষের আকাল চলছে খরাকবলিত এই বদ্বীপের মাটি
যাকে বুকে আগলে রাখবে, যার ব্যক্তিত্বের পবিত্রতায় ভিজে উঠবে
গোটা জনপদ তিনিই আজ বড়ো বেশি আরাধ্য মানব
কাঙ্ক্ষিত স্বজন
যদি অভাবের মূলে রচিত হয় একটি নাম তাহলে যাচিত সর্বনাম হয়ে
গোটা জলযানের মাল্লারা জেঁকে বসবে আসনে
একসময় জলযানটি ফুটো হয়ে পানিতে প্লাবিত হয়ে যাবে পাটাতন
এ এক অবশ্যম্ভাবী ধস ধ্বংসের তাণ্ডবে তলিয়ে যাওয়ার
অরুন্তুদ আয়োজন
যেমন মহান কর্মযজ্ঞ ফল তার উল্টো হবে না
বপন প্রক্রিয়া বিশুদ্ধ না হলে অপবিত্র সমাহারে ঢেকে যাবে সব
প্রকৃতির প্রতিশোধ বলে যে কথাটি সর্বজনে প্রচলিত
তাতে কারও হাত নেই! কীভাবে কোন ফুরসতে এসে হানা দেবে
কেউ তা জানে না জানেন স্বয়ং তিনি,
অতীতে যেমন বহু কর্দমাক্ত পঙ্কে দিয়েছিল হানা,
কার কী করার ছিল জানেন সকলে কিছুই তখন করার থাকে না,
বড়ো হতভাগ্য আমরা অতীত থেকে শিক্ষা নিতে বড়োই কুণ্ঠিত হই,
ইতিহাস থেকে তো শিক্ষা নিই না।
যদি শিক্ষা নেওয়া যায়, অকৃপণ সফলতা পায়ে এসে চুমু খায়।
পরিণাম চিন্তা করে পা ফেললেই রচিত হয় বকুলছড়ানো পথ
বনবীথি হয় মায়ায় জড়ানো মেঠোপথ
কণ্টকাকীর্ণ বন্ধুর পথ হয় মসৃণ সড়ক
যে পথ মাড়িয়ে হেঁটে এসে ঝলমলে মঞ্চে ওঠেন প্রিয় বরেণ্য নেতা
দিকে দিকে সাড়া পড়ে যায় মরুভূমিতে গজিয়ে ওঠে গাছ
জনপদে জনপদে ঢেউ খেলে যায় আবেগে সবেগে মায়ায় মায়ায়
এবারে সিদ্ধান্ত তার যার হাতে কাদায় আটকে যাওয়া ভাগ্যের চাকা,
উদ্দেশ্য বিশুদ্ধ হলে পবিত্র ইচ্ছাশক্তির দোহাই সমস্ত কুজ্ঝটিকা ঝেড়ে ফেলতে
পুরো সমাজের সব অন্ধকার বিনাশ করতে
উপর থেকে নেমে আসবে অলৌকিক আলো
ভাগ্যের চাকায় উঠে আসবে প্রসন্ন গতি ঘুরে যাবে দেশ
মুছে যাবে অতীতের যত গ্লানি
দলে দলে দেশব্যাপী ভালোমানুষেরা জড়ো হবে
এ এক নতুন প্রারম্ভ আরেক যুগশ্রেষ্ঠ মহাসমাবেশ
ভেতরে ভেতরে হয়তোবা ভাববেন তিনি, ‘কী করে বুঝাই ‘কবি’কে আমি ...!’
আমিও কিছুটা বুঝি বাদপড়া আরও যত কিছু আছে
কত কথাই তো বলা যায় আজ তবে থাক,
সব কথা বলা হবে থেকেও নির্বাক।
মরণাস্ত্র, দুর্বৃত্তের হাম...
হেনরী স্বপন
পাখি রোজনাচায় ঝরে
কৃষকের ভ্যাসলিন রোদ,
গাঁয়ের কিচিরমিচির ঘাম।
বাণিজ্যিক মেলা এসে
ধানক্ষেতের গুনাইবিবির পালা
উঠে গেছে নভোথিয়েটারে।
আঁতুরঘরের ডিজিটাল ক্যাম্পজুড়ে
কান্নার এগ রোল,
দুধধানের শরবত প্রয়াতির বুক ভর্তি
ওয়ান টাইম গ্লাসের
কোকোকোলা উপচে পড়ছে
মরণাস্ত্র, দুর্বৃত্তের হাম...
বাড়ছে ফ্যাশন শোয়ের
র্যাম্প কলোনি,
কারখানার শ্রমিক ছাঁটাই
শহরতলীর হাউজিং সোসাইটি।
বৃষ্টির দিনে
নভেরা হোসেন
বৃষ্টির দিনে তোমার মন খারাপ হয়
বেশ একটা ক্লান্তি এসে ভর করে মনে
আগে বৃষ্টির দিনে তুমি রোমান্টিক হয়ে উঠতে
একটা গোলাপি স্কার্ট পরে
রাস্তার মাঝ বরাবর ভিজতে ভিজতে প্রেমিকের ঘর
সেখানে কম্বল মুড়ো হয়ে সারাটা দুপুর
পথ -ঘাট জলে ডুবুডুবু
তার মধ্যে তোমরা রিকশা ভ্রমণ করো
রিকশার হুট খোলাই থাকে
চন্দ্রিমায় মুষল বৃষ্টি
এক হাত দূরের কিছু দেখা যায় না
গাছের সব ভিজে সপসপ
কাউকে আলাদা করে চেনা যায় না
বৃষ্টিতে নৌভ্রমণ, বুড়িগঙ্গায় ভেসে চলা
ঘরে বাজছে
আজি ঝরো ঝরো মুখরও বাদলও দিনে
উনুনে খিচুড়ি, ইলিশ ভাজা
এই সব রোমান্টিকতা এখনো আছে
সারাদিন ছাদের বৃষ্টিতে
বিলে-ঝিলে মাছ ধরার উৎসব চলে-
এখনো তেমন বৃষ্টি হয়
রাস্তার ওপারের মাঠ জলে থৈথৈ
তুমি বিছানায় অর্ধ-শায়িত
হাতে মিশেল ফুকো অথবা সামির আমিন
দুনিয়াটাকে আজ তুমি ক্রিটিক্যালি দেখতে শিখেছো
জল থেকে কীভাবে মাটিকে আলাদা করা যায়
কীভাবে বাঁধ দিয়ে জল বন্ধ করে দেয়া যায়
এসব তুমি ভালোই জানো
কখনো কখনো তোমার চোখও জলে ভিজে ওঠে
তবে তা নেত্রনালীর অসুখের জন্য ...
বৃষ্টির পরে
ঊষাতন চাকমা
বৃষ্টিরা ঝরে পড়ে উঠানময়
সারা মাঠ ও ঘাটে
জেলেরা ছুটে যায় খাল, বিল ও হাওরের তীরে
খুশিতে মেতে ওঠে মীন,
উজানের দিকে পুরো শৈশব
কিন্তু অলক্ষে বেজে ওঠে মৃত্যুর বারতা-
জেলেদের কাছে নিষ্পাপ জীবনের অন্তিম শ্বাস।
আগুন শহুরে অতিষ্ঠ মানুষ
গায় স্বস্তির গান
সজীবতা আসে মর্মর গাছে, পত্র-পল্লবে
বৃষ্টির পরে নরম মাটির মতো গলে তরুণ হৃদয়
ঠিক সে সময় পাকা ধান হেলে পড়ে, স্বপ্নেরা থেমে যায়
কেউ মাঠ থেকে ঘরে নেবে, নেই অবসর
এইসব দিনে
মাঝে মাঝে আসে আগামীর ভয়।
বাবাকে মনে পড়লে
জাহিদ আল হাসান
বাবাকে মনে পড়লেই মনে হয়,
পৃথিবীতে আমি ছাড়া কোনো মানুষ নাই
আমি ছাড়া সবাই মৃত
যেন আর্কটিক মরুর বুকে আমি এক নিঃস্ব, অসহায় মানুষ
বাবাকে মনে পড়লেই মনে হয়,
আমার চোখের ভেতরে
বয়ে চলে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাঞ্জেল
কান্না হয়ে ঝরে
আমি শিশুর মতো কাঁদি
বুকের ভেতর তেড়ে আসে প্রশান্তের ঢেউ
ভাটার সাথে তলিয়ে যাই...
বাবাকে মনে পড়লেই
আমার মনে হয় বাবা ছাড়া আমি এক গরিব ভিখারি
মনে হয় বাবা থাকা সবাইকে ডেকে ডেকে বলি,
বাবা বেঁচে থাকলে -
মানুষ কখনো কখনো গরিব হয় না।