প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬ ০৯:০০ এএম
যা বুঝিস্ না তা
রেজা ফারুক
যা বুঝিস্ না তা বলতে আসিস্ না
মেয়েদের রাগাস না ওদের কিন্তু ঠোঁটের ওপর তিল
নাকের আগায় রাগ :
প্রথমটা বিউটিস্পট দ্বিতীয়টা ভেরি হট।
সো মেঘের ছায়া চিনে নিও
বৃষ্টি ভেবে হাত বাড়িও
প্রথমত ফ্রেন্ডশিপ, অতঃপর পাখির শিস দিয়ে যখোন
ঝুঁকবে মন ঝাউবনে
মেঘশিরিষের ম্যাক্সিতে নীল জ্যোৎস্নাডোবা সন্ধ্যারাত
হ্যালো, হ্যালো... কে নুসরাত!
হ্যাঁ বলো, শুনছি নদীর কলস্বর
মর্মরিত ঝরাপাতা যায় উড়ে দূর স্ট্রিটে
সোলিংজ্বলা কংক্রিটে
ভোরের রোদ আর কুয়াশার
উপচ্ছায়া হাত বাড়ায়।
যা জানিস্ না তা করতে আসিস্ না
আগে মেঘের ইস্কুলে যা
সি-গাল এবং সমুদ্র শিখ
করৌঞ্জলাল মন ছুঁয়ে যায়
ঝিরিঝিরি ইলশেগুঁড়ি বুঝেছিস।
সফল সমৃদ্ধি
আরিফ মঈনুদ্দীন
আমি তোমার স্বপ্নের সমুখে দাঁড়িয়ে
আমি জানি তুমি চাও সফল সমৃদ্ধি
অথচ তোমার চাওয়ার বিচ্যুতির জন্যে সমৃদ্ধি যদিও আসে
সফলতা পায় না তা
আপাত সফল বিপন্ন বিন্যাসে লন্ডভন্ড হতে সময় লাগে না
যেকোনো ফুরসতে ভেঙে পড়ে পাড় বাঁধ ধসে
হুড়মুড় হাজির হয় প্লাবন দুর্বিনীত,
সাফল্যের চাবিকাঠির সন্ধানে যারা অষ্টপ্রহর চষে বেড়াচ্ছে
মাঠঘাট বন্দর বাজার,
যারা ঢুকে পড়েছে তথাকথিত নিষিদ্ধ জমিনে
তাদের হাতেই লোকালয়ের ভাগ্যের চাকা
একা তো আর ঘোরানো যাবে না তা
দলে দলে এসে কাফেলায় যদি মিশে সৃষ্টি হবে অপার ক্ষমতা
স্বপ্ন বসে আছে, বেশি তো না, সামান্য একটু দূরে
অভিযান শেষ হলে ধরা দেবে ধরা দেওয়ার জন্যেই
তার অমোঘ অপেক্ষা
অধরা থেকে সাফল্য পায় না সে
দিন গুনে কখন মাথাটা রাখবে প্রেমিক পুরুষের কাঁধে।
রোদ ও সমুদ্র
মাসুদুল হক
বনের গভীরে ডোরাকাটা চাদর জড়িয়ে
শীতের রোদে বসে আছে বাঘিনী
হঠাৎ তার চিৎকারে
সমুদ্র হয়ে ওঠে রোদ
ঢেউয়ের মধ্যে ছুটতে থাকে হরিণী
শান্তি শান্তি
মনিজা রহমান
পাখিরা প্রতিজ্ঞা করল ওরা আর ঘরে ফিরবে না
পাখায় পাখায় বানাবে পৃথিবীর ঢাল
গোলাপ ও লিলি জানিয়ে দিল
তারা ফুটবে না অনির্দিষ্টকাল
সান্টুর আর তাম্বুরে বাজল ভোর ভাঙা সুর
আকাশ বলল এ আকাশ পাখিদের, যন্ত্রের জন্য নয়।
ভোরের প্রথম রোদ্দুর
দাঁড়িয়েছিল ঝুল বারান্দায়।
বহুদূর
পাহাড়ের ওপার থেকে
ভেসে আসা কমলা রঙের ক্ষেপণাস্ত্র দেখে
বাতাস বিদ্রোহের স্লোগান তুলল দ্ব্যর্থহীন দুপুরে
ভেসে এলো একঝাঁক পঙ্গু ফড়িঙের গোঙানি।
সব শিশু জমা রাখছে নির্মমতার প্রশ্ন–
কেন এই চোখ রাঙানি?
পাখিরা আবার প্রতিজ্ঞা করল, আজ ওরা ঘরে
ফিরবে না, পাখায় পাখায় থরে থরে
বানাবে সামিয়ানা
পারস্যের আকাশ ঢেকে দেবে যূথবদ্ধ মুন্সিয়ানায়,
ঢুকতে পারবে না কোনো ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র।
ওরা কি ভুলে গেছে
এ মাটিতে ঘুমিয়ে আছেন হাফিজ, ফেরদৌসি, খৈয়াম…
জেগে আছে শাহানামা, রুবাইয়াৎ আর জরাথুস্ত্রুর শাস্ত্র?
মানুষের মনে জেগে আছেন ইবনে সিনা, মাজদাক
আলোকের দর্শন বিলাচ্ছে মোহন মোমবাতি?
অজানা খাম
বয়ে আনছে সেই প্রাচীন ডাক
শান্তি শান্তি
গম-ফুলের শীষে শীষে শান্তি
মৌমাছি-বৃষ্টিতে শান্তি
নিত্য নিঃশ্বাসে শান্তি
যে শান্তি বিছানো আছে হাফিজে আর খৈয়ামে।
কাচ পুড়ে গেছে
গাছ জ্বলে গেছে
মাছ হয়ে গেছে অন্ধ।
জানি, পারস্য গোলাপ হয়ে যাবে পারিজাত,
সব অভিঘাত
সহে সব বুলবুল পাখি হয়ে যাবে ফিনিক্স
গোলাপ আর বুলবুলের প্রতিজ্ঞায় বেঁচে থাকব
আমাকে মারবে কীভাবে?