× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পড়ন্ত বিকেল

ফরিদুল ইসলাম নির্জন

প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬ ০৮:৫৪ এএম

পড়ন্ত বিকেল

তীব্র শীত উপেক্ষা করে ছুটে চলছে কানু কাকা। হেমন্তের হেলে পড়া সূর্যের মতো, তার শরীর হেলে পড়ার পথে। শরীরের চামড়া সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ভাজ না পড়লেও বয়সের ছাপ স্পষ্ট। মাথার চুলগুলো আধেক কাঁচা, আধেক পাকা। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, সাথে গোঁফ। বুড়ো বা জুয়ান তাকে এক নামেই চেনে কানু কাকা। সে যেন একই বয়সে নিজেকে ধরে রেখেছে, হালকা পাতলা গড়নের মানুষ। পেশায় নরসুন্দর। তার চুল কাটা মানে একই ডিজাইন। এলাকায় ‘আর্মি ছাঁট’ বাচ্চা কাচ্চা ভীষণ পছন্দ, বড়দের কাছেও পরিচিত। তাই যেকোনো পোলাপানকে চুল ছোট করতে, আর্মি ছাঁট বলে বেড়ান তিনি। কখনও বড়দের চুল মনের অজান্তে বেশি ছোট করে ফেললে, তাকে সান্ত্বনা দেন এটা আর্মি ছাঁটের নতুন রূপ। 

কানু কাকা ছুটছে খোলা আকাশ, মাঠের পর মাঠ পেরিয়ে, ছোট্ট রাস্তা অনেকটাই আইলপথের মতো পথ ধরে। তিনি ঝড়বাদল কিছু বোঝেন না, শীত-বসন্ত বা কোনো ঋতু কিছুই মানেন না। ভয়-ডর তাকে ছুঁতে পারে না। তার দরকার জীবন ধারণের জন্য কিছু অর্থ আয়। গত পড়শু দিন এসেছিল ছদবের, তার মায়ের বয়স বেড়ে গেছে। চুলগুলো কোঁকড়া হয়ে জট বেঁধেছে। পরদিন ভোরে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু যেতে পারেনি। কারণ পাড়ার জমিলা চাচি ভীষণ অসুস্থ। যেকোনো সময় না ফেরার দেশে চলে যেতে পারেন। বয়সও তার ভারী হয়ে গেছে। চুল কাটাতে আঁটসাঁট বেঁধে ধরেছিলেন তার পরিবারের সন্তানরা। অনেকটাই কানু কাকাকে হাইজ্যাকের মতো নিয়ে যান। তাকে সেদিন চুল ছাঁটাই শেষ করে বেরোবেন, কিন্তু অনেকেই এসে হাজির। পরে বাড়ির উঠানে টুল নিয়ে বসে যান। একের পর এক চুল ছাঁটাই করতে থাকেন। 

কেউ নানাবাড়ি ঘুরতে এসেছেন। চুল কাটানোর সুযোগ হয়নি। সে এসে হাজির তার কাছে। কেউ সড়ক দুর্ঘটনায় মাথা কেটে গেছে, চুল ফেলে দেওয়া দরকার, তার ডাক পড়ে। সেও হাজির হয় তার কাছে। তারপর কালো পাতলা একটি কাপড় দিয়ে শরীর প্যাঁচিয়ে নেয়, সেটা আবার গলার সঙ্গে বেঁধে নেয়। দুই হাঁটুর চিপায় মাথা রেখে, ঘ্যাচাং ঘ্যাচাং করে কেটে ফেলে চুল। ছোট্ট বাটিতে টিউবয়েল থেকে পানি নিয়ে আসে। ক্ষুর দিয়ে চুল কাটার সমাপ্তি ঘটে। সেদিন তাদের চুল ছাঁটাই করতে করতে সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে যায়। পরে আর যেতে পারেনি।

এমন অনেক অসুস্থ মানুষ উঠতে পারে না, চুলগুলো বড় বড়। কানু কাকা সেখানে গিয়ে হাজির। তার চুল কেটে দিতে সেসব যন্ত্রপাতি নিয়ে উপস্থিত, সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েই সেখানে যায়। এজন্য তাকে আলাদা বকশিশ দিতে হয়। তা ছাড়া এলাকায় অনেক বয়স্ক মহিলার চুল জট লাগে। কোঁকড়া হয়ে যায়, দেখতে অনেকটাই ভুতুড়ে টাইপের। সেসব জট ছাড়াতেও তিনি গিয়ে হাজির হয়। বাচ্চারা তাকে দেখে ভয় পায়। এটাই এক ধরনের সৌন্দর্য। বেশিরভাগ সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে চুল কাটে। আরও দুয়েকজন এই পেশায় যুক্ত কিন্তু তার মতো এত পরিচিতি কেউ পায়নি। এসবের অনেক কারণ আছে। তিনি চুল কাটার পাশাপাশি মানুষের বিনোদন দিয়ে থাকে। তা ছাড়া গ্রামের কোনো সংস্কৃতি অনুষ্ঠান হলে, সে হাসির অভিনয়ের মাধ্যমে সবার কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। একদিকে চুল কাটছে অন্য দিকে গল্প বলছে। চুল কাটার মাঝেই অনেক সময় গল্প বলতে থাকেন। একই গল্প বারবার বলে না। তবে অনেক গল্পই ঘুরিয়ে ফিরে বলে। এক দিন বলবে, ‘আরেহ অনেক দিন আগের কথা। দুপুরবেলা পাশের গ্রামে চুল কেটে বাড়ি ফিরছি। এক বাড়িতে মুড়ি আর তেলের পিঠা ভেজেছে। আমাকে খাবার জন্য দেয়, আমি গামছার একপাশে মুড়ি, আরেকপাশে তেলের পিঠা বেঁধে নেই। মনে মনে ভাবি, বাড়ি গিয়ে পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে খাব। বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই। খোলা আকাশের নিচ দিয়ে, ক্ষেতের ভেতর দিয়ে চলতে শুরু করি। পথ সহজ করার জন্য। তারপর বুড়ামারা বিলে পানির ছোট্ট ডোবার পাশে আসতেই গায়েবি আওয়াজ। প্রথমে আমি বিষয়টি পাত্তা না দিলেও এমন গায়েবি শব্দ শুনে অবাক। এই দেখ ঘটনাটি বলছি, আর শরীরের লোম দাঁড়িয়ে গেছে, যখনি ঘটনাটি বলি, তখনি আমার বুকের ভেতর, চুল কাটার সময় কাঁচি যেমনি চলে, তেমনি হার্টবিট চলছে। তখনকার অবস্থা আমি বলে বোঝাতে পারব না। তারপর আমি বললাম, ‘কে, কে? কীসের শব্দ করো।’ তারপর তারা বলল, ‘এই কানু কাকা। একটা গরম তেলের পিঠা দে, একটু খাই। এল্লা গরম মুড়ি দে, একটু খাই। দে না কানু কাকা। বাড়ি গিয়ে পরিবার নিয়ে খাবি, আমাদের এল্লা দে না।’ তোমরা কে কে বলে আওয়াজ তুলি। তারপর বলি সামনে আয়, আয় তোরা, এই নে মুড়ি, এই নে পিঠা। কিন্তু তারা সামনে আসে না। হাঁটতে থাকি তড়িঘড়িতে। তবু পিছ ছাড়ে না। পিছে পিছে আসে আর বলে, ‘এই কানু কাকা, এল্লা পিঠা দে না, এক মুঠো মুড়ি দে না। আমি ভয়ে কান্না করে ফেলি। তারপর দৌড়ে চলে আসি।’ 

এবার পেছন থেকে একজন এসে বলবে, গল্প বাদ দিয়ে জলদি করেন। এসব গল্প অনেকবার শুনেছি। তখন তিনি চুল কাটতে থাকবেন আবার। কিছুক্ষণ পর আরেকটি গল্প বলবেন। নতুন একটি গল্প যুক্ত করেছে। ইদানীং সেটা বেশি বলছে। 

কেউ কেউ ভীষণ বিরক্তি। অন্যরা সিরিয়াল দিয়ে রেখেছে। সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই। কানু কাকার বড় সমস্যা চুল কাটার মাঝেও বিড়ি টানবে। কত দিন এর জন্য ধমক খেয়েছে কিন্তু তা মনে রাখেনি। পরের দিনই ভুলে গেছে।

এসবের বাইরে হাটবারে সে চুল ছাঁটাই করে থাকে। বেশিরভাগ হাটবার তার ভীষণ পছন্দের। এই পছন্দের অন্যতম কারণ টাকা আয় বেশি। এই হাট নিয়ে কত স্মৃতি। বাবার কাছ থেকে তার চুল কাটার দীক্ষা, এই হাট থেকেই শুরু হয়। প্রতি হাটে তার বাবা নিয়ে আসত। তাকে সামনে রেখে চুল কাটত। এভাবেই দিন দিন সেও নিজেকে গড়তে থাকে। তার পর একসময় সে কাঁচি ধরে ঘ্যাচাং ঘ্যাচাং করে কাটতে থাকে। প্রথম প্রথম কানু কাকার কাছে বড় মানুষকে চুল ছাঁটাই করতে দিত না, কেউ এসে সাহস পেত না। ছোট কেউ এলে চুল কাটাত। ধীরে ধীরে তার দীক্ষা পরিপক্বতা পায়, চুলের গ্রাহক বেড়ে যায়। তার বাবা মারা যাওয়ার পর পেশাটি নিজের ভেতর আত্মস্থ করেছে। তার সন্তানকেও সেভাবে গড়ছে। 

হাট আগে এত বড় এবং মানুষের তেমন সমগম হতো না। এখন তো বড় হয়ে গেছে। কোনো জায়গাতে ছন দিয়ে ছোট খুপরি তুলেছে। রোদ বা বৃষ্টিতে এটা দারুণ উপকার হয়। হাটে বেশি টাকা আয় হতো, তার কারণ অনেক মানুষ সেদিনের জন্য চুল কাটার অপেক্ষায় থাকত। পাশে আরেকজন এলেও তার তেমন সিরিয়াল নেই। কিন্তু তার কাছে দাঁড়িয়ে আছে চুল কাটার জন্য। সে টাকা নিয়ে কোনো জোরাজুরি করে না। একজন সেভ করে, চুল কেটে বলবে, এটা রেখে দাও কাকা। সামনেবার পুষিয়ে দেব। আরেকজন এসে বলবে, কাকা আমার টাকা নেই। সামনে মাসে দেব। আজকে একটু চুল কেটে দেবা? তাকে বলে অপেক্ষা করো। 

আরেকজন এসে বলবে, আজ আমার ভীষণ জরুরি। একটু আগে কেটে দাও। চুল কাটা শেষে টাকার হিসাব করতে থাকে। খুচরা টাকা, ভাজ দেওয়া। সব এক করে গুনতে থাকে। তার পর যেদিন আয় বেশি হয়, সেদিন কানু কাকা গামছাভর্তি চাল, হাট থেকে অনেক সবজি, আর ছোট মাছ নিয়ে বাড়ি ফেরে। ফেরার সময় ছেলেমেয়েদের জন্য বাদাম, মটকা, কোনো কোনো দিন বোনাস হিসেবে সন্দেশ কিনে বাড়ি ফিরত। হাটের দিন তার ছেলেমেয়ে অপেক্ষায় থাকে, কখন আসবে তার বাবা। কখন তারা পছন্দ অনুযায়ী মটকা বা সন্দেশ খেতে পারবে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাবার জন্য অপেক্ষা করত।

তবে শরৎকালে হুটহাট বৃষ্টি নেমে পড়ত। দৌড়ে খুপরির নিচে যেতে যেতেই বৃষ্টি থেমে যেত। হাটবারে কানু কাকা একই স্থানে টুল নিয়ে বসত বটতলাতে। চুল কাটা শেষে বটগাছের পাশে চুল ফেলে দেওয়া হতো। তবে বর্ষাকালে হাটবার অনেক ভোগান্তি। ঝুমবৃষ্টিতে এলোমেলো হয়ে যেত সবকিছু। টুলটা রেখেই ফাইভজি গতিতে ছুটে যেত। কোনোদিন বটতলা আবার কোনোদিন খুপরি ঘরে আশ্রয় নিত। সেখানে মানুষ গিজ গিজ করত মৌমাছির মতো। বৃষ্টি ঝরত অঝোরে, এদিকে কানু কাকার মনের ভেতর ছটফট করতে থাকত। কখন বৃষ্টির কোলাহল থামবে, নৈঃশব্দের আহাজারি কমবে। বৃষ্টির সময় যত গড়ত, জবাই করা মুরগির মতো ছটফট করতে থাকত তার মনের ভেতর। বাড়িতে চাল নেই, পোলাপান অপেক্ষায় আছে। এসব চিন্তা তাকে তাড়িত করত বেশি। 

কোনো কোনো দিন এই বৃষ্টির জন্য, আয় হতো না। চাল বাকিতে কিনলে, নগদ টাকায় কিছু সবজি, সন্তানদের জন্য বাড়িতে শূন্য হাতে ফিরত। এই খালি হাতে ফেরাই তার জন্য কাল হয়ে পড়ত। কারণ বাজার করে টাকা শেষ। মটকা বা সন্দেশ কেনার টাকা নেই। সেসব মানতে চাইত না তার সন্তান, বুঝতেই চাইত না। তাদের দাবি কেন সন্দেশ বা মটকা আনোনি। দুজন পাল্লা দিয়ে কান্না করত। তাদের প্রতিযোগিতা শুরু হতো কান্নার। কোনো রকমভাবে কান্না না থামলে পিঠের ওপর গুরুম গুরুম কিল দিত কানু কাকার বউ। কান্নার পরিমাণ বেড়ে গেলেও এই কিল খেয়ে থেমে যেত।

সন্তানদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বয়স বাড়তে থাকে। হঠাৎ করেই তার বউ এক দিন চলে যায় না ফেরার পথে। সে যেন একাকী হয়ে যায়। ছেলেটা নতুন সেলুন দিয়েছে, ঘরে বউ এনেছে, তার আবার সন্তান হয়েছে। মেয়েটির বিয়ে হয়ে গেছে। কানু কাকার আগের মতো শরীর পারে না চলতে। এক দিন জ্বর, আরেক দিন কাশি, আরেক দিন ঠান্ডা এভাবেই চলতে চলতে ঘরে পড়ে যায়। ওঠার শক্তি হারিয়ে যায়।

এক দিন ফ্যাল ফ্যাল চোখে তাকিয়ে কানু কাকা। কথা বলার শক্তি ক্ষয়ে গেছে। রক্তবমিতে চোখ-মুখ ফ্যাকাশে। তুলসীতলায় শুইয়ে রেখেছে। বেশ কিছুক্ষণ এভাবে রাখার পর ধরাধরিতে তাকে রুমে নিয়ে যায়। অথচ এখন রুম থেকে বেরোনোর সুযোগ হাতছাড়া। তাকে দেখার কেউ নেই। সে যেন ফুটপাতে পড়ে থাকা সিগারেটের শূন্য প্যাকেট। কতজনের পায়ের নিচে পিষ্ট হচ্ছে। ছেলেটি সেই সকালে বের হয়, দুপুরে কোনোদিন ফেরে। কিন্তু দেখা হয় না কানু কাকার সঙ্গে। 

জীবনের সেসব স্মৃতি তাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। চোখের সামনে তারার মতো জ্বলে। ঘুম থেকে উঠেই মুখটা বুলেট ট্রেনের গতিতে ধৌত করবে। তারপর এক হাতে ব্যাগ, আরেক হাতে টুল নিয়ে ফাইভজি গতিতে ছুটবে। মাঝেমধ্যে বিড়ি টানবে, কখনও গামছা থেকে মুড়ি নিয়ে খেতে খেতে রওনা হবে। তারপর মাঠের পর মাঠ পেরিয়ে, আঁকাবাঁকা মেঠোপথ দিয়ে চলে যাবে দূর কোনো গায়ে। পাড়ার ভেতর গিয়ে ডাকবে। এত মাঠঘাট, গ্রাম পেরিয়ে যাওয়া মানুষটি এখন একা বাথরুমে যেতে পারে না, একা উঠতে পারে না। কিছু খেতে দিলে, সেটাও ঠিকমতো মুখে তুলে নিতে পারে না। বাড়ির সবার চোখে সে যেন এখন বাড়তি মানুষ। ভালো চিকিৎসার টাকা-পয়সা নেই। কারও কাছে সাহায্য তুলে চিকিৎসা করবে, সেটাও সে মেনে নিতে চায় না। এক বছরে তার শরীর একদম অন্যরকম হয়ে গেছে। সে চলে যেতে পারলে যেন সবাই হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। অপেক্ষায় পার করছে, কখন যমদূত এসে তাকে নিয়ে যায়। একটু ঘরে ঠক ঠক শব্দ করলেই মনে করেন, এই বুঝি যমদূত এসেছে। তাকে নিয়ে যাবে, দুনিয়া থেকে জীবনাবসান ঘটবে!

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা