× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রবীন্দ্র-পরিচয়

প্রমথ চৌধুরী

প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬ ০৮:৪৪ এএম

আপডেট : ০৮ মে ২০২৬ ০৮:৪৭ এএম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ২৫ বৈশাখ ১২৬৮- ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ। স্কেচ: জয়নুল আবেদিন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ২৫ বৈশাখ ১২৬৮- ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ। স্কেচ: জয়নুল আবেদিন

রবীন্দ্রনাথের জীবনে অশীতিতম জন্মদিনের উৎসবটি ছিল মনে হয় আনন্দ ও আশঙ্কা মিশ্রিত। কবির শরীর প্রায়ই খারাপ যাচ্ছিল। দূরদর্শী কবি-সম্পাদক বুদ্ধদেব বসু ‘কবিতা’ পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করলেন। চৈত্র, ১৩৪৭ সংখ্যার শেষ পৃষ্ঠায় বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হলো : ‘রবীন্দ্র-অভিনন্দন’ শিরোনামে– ‘কবিতা’র আগামী আষাঢ় সংখ্যা ১৩৪৮-এর ২৫ শে বৈশাখ তারিখে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে ‘রবীন্দ্র-সংখ্যা’ হয়ে আত্মপ্রকাশ করবে। রবীন্দ্র প্রতিভার বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলার বিশিষ্ট লেখকরা এতে আলোচনা করবেন। এই সংখ্যার লেখকদের নাম অজিত দত্ত, অতুলচন্দ্র গুপ্ত, অন্নদাশঙ্কর রায়, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমল হোম, অমিয় চক্রবর্তী, আবু সয়ীদ আইয়ুব, ইন্দিরা দেবীচৌধুরাণী, ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, প্রমথ চৌধুরী, প্রমথনাথ বিশী, বিমলাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, বিষ্ণু দে, বুদ্ধদেব বসু, সমর সেন, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, হিমাংশুকুমার দত্ত, হুমায়ুন কবির।

ঐ সংখ্যার অধিকাংশ লেখক কবি-প্রতিভার বিশেষ একেকটি দিকে কবির সৃজনশীলতার বৈশিষ্ট্য ও তাঁর অনন্যতার মাত্রা স্পর্শ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কিছু কিছু লেখা একান্ত ব্যক্তিগত রবীন্দ্রনাথকে চিনিয়েছিল। যেমন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন— রবিকাকার গান, ইন্দিরা দেবীচৌধুরাণী লিখেছিলেন ‘পূর্বস্মৃতি’, অতুলচন্দ্র গুপ্ত লিখেছিলেন আমাদের ছাত্রাবস্থা ও রবীন্দ্রনাথ, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন—বাকপতি শ্রীরবীন্দ্রনাথ, ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথের রাজনীতি, প্রমথনাথ বিশী লিখেছিলেন ভবিষ্যতের রবীন্দ্রনাথ, অন্নদাশঙ্কর রায় লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবন এবং হুমায়ুন কবির লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ও মানবধর্ম শিরোনামে প্রবন্ধ। রবীন্দ্রনাথের নিজের একটি রচনা আছে, যা চিঠিও (নন্দগোপালকে তাঁর বই পড়ে), আবার প্রবন্ধও-নাম ‘সাহিত্য-বিচার’। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবৎকালে উদযাপিত জন্মদিনের শেষ উৎসব-উপলক্ষে প্রকাশিত কবিতা পত্রিকায় বাংলার দ্বিতীয় প্রধান চরিত্র প্রমথ চৌধুরী লিখেছিলেন ‘রবীন্দ্র-পরিচয়’। কবি স্বয়ং পাঠ করেছিলেন তাঁর যে পরিচয়জ্ঞাপক প্রবন্ধ প্রমথ চৌধুরী প্রণীত সেই স্মরণীয়, ঐতিহাসিক ‘রবীন্দ্র-পরিচয়’ পাঠের মধ্য দিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৪৩৩-এর জন্মজয়ন্তীতে আমাদের বিনীত শ্রদ্ধার্ঘ্য।— ইসরাইল খান 

রবীন্দ্র-পরিচয়
প্রমথ চৌধুরী

আমি ১৮৮৬ খিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে প্রথম রবীন্দ্রনাথের দর্শন লাভ করি। কলকাতায় নয়, কৃষ্ণনগরে : কোনো সভা-সমিতিতে নয়, আমাদের কৃষ্ণনগরের বাড়িতে।

রবীন্দ্রনাথ যখন দ্বিতীয়বার বিলেত যাত্রা করেন, তখন আমার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আশুতোষ চৌধুরী কলকাতা থেকে মাদ্রাজ পর্যন্ত জাহাজে তাঁর সহযাত্রী ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ও তার ভাগিনেয় সত্যপ্রসাদ গাঙ্গুলী মাদ্রাজ থেকেই ফিরে আসেন; দাদা অবশ্য বিলেত পর্যন্ত পাড়ি দেন। এই দু-চার দিনেই দাদা ও রবীন্দ্রনাথ পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট হন।

দাদা উক্ত সনের ৩রা মার্চ তারিখে ফিরে আসেন। এ তারিখ আমার মনে আছেÑ কেননা ঐ তারিখেই আমি একটি ভয়ংকর পীড়াদায়ক রোগে আক্রান্ত হই। এবং মাসখানেক অসুস্থ যন্ত্রণা ভোগ করে বেঁচে উঠি।

রবীন্দ্রনাথ কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন দাদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। বোধহয় দাদার সঙ্গে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী শ্রীমতি প্রতিভা দেবীর সমন্ধ করার অভিপ্রায়ও তাঁর ছিল। আমার বয়েস তখন আঠারো, আর রবীন্দ্রনাথের বয়েস পঁচিশ। ইতিপূর্ব্বে রবীন্দ্রনাথের নাম অবশ্য শুনেছিলুম, কিন্তু তাঁর কাব্যের সঙ্গে আমার বিশেষ পরিচয় ছিল না।

আবার বয়েস যখন আট, তখন নাবালক রবীন্দ্রনাথ সেকালের কোনো একটি মাসিক পত্রিকায় দুটি একটি কবিতা প্রকাশ করতেন। দাদা ও তাঁর বন্ধুবান্ধবরা সেই সব কবিতার বিষয় আলোচনা করতেন। এর থেকে প্রমাণ হয় যে, রবীন্দ্রনাথের লেখা কোনোকালেই উপেক্ষিত হয়নি,Ñ আর তাঁর কবিতা যে মামুলি নয়, তাও অনেকের চোখে পড়েছিল।

তারপর তেরো বৎসর বয়েস পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথের কোনো কাব্যই আমার হাতে পড়েনি।

তেরো বৎসর বয়সে আমি ম্যালেরিয়ার দৌরাত্ম্যে কৃষ্ণনগর থেকে পালিয়ে পশ্চিম যাই। আর সাড়ে তেরো বৎসর বয়েসে কলকাতায় পড়তে আসি ও হেয়ার স্কুলে ভর্তি হই। এই সময় কোনো sentimental সহপাঠীর অনুরোধে রবীন্দ্রনাথের ‘ভগ্নহৃদয়’ পড়ি। সে বই আমার মনের ওপর কোনো ছাপ রেখে যায়নি। তারপর সাড়ে ষোলো বছর বয়েসে আমরা কৃষ্ণনগরে ফিরে যাই এবং সেখানেই রবীন্দ্রনাথকে প্রথম দেখি। এসব কথা বলবার উদ্দেশ্য এই যে, রবীন্দ্রনাথের কাব্য পড়ে আমি তাঁর সঙ্গে পরিচিত হইনি। তাঁর সঙ্গে পরিচিত হবার পর তাঁর কাব্য পড়ি। অর্থাৎ আমি কোনো রঙিন চশমার ভিতর দিয়ে তাঁকে দেখিনিÑ দেখেছিলুম সাদা চোখে। আর তখন আমার চোখ কান দুই-ই খোলা ছিল।

আমি এর পূর্ব্বে রবীন্দ্রনাথের মতো পুরুষ কখনও দেখিনি। তাঁর বর্ণ ছিল গৌর, আকৃতি দীর্ঘ, কেশ আপৃষ্ঠ-লম্বিত ও কৃষ্ণবর্ণ, দেহ বলিষ্ঠ, চর্ম্ম মসৃণ ও চিক্কণ, চোখ-নাক অতি সুন্দর।

আমাদের সমাজে গৌরবর্ণ স্ত্রী-পুরুষ একান্ত বিরল নয়, বিশেষত আমাদের বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ সমাজে। কিন্তু সে বর্ণ প্রায়ই ‘কটা’। লম্বা লোকও দু-চারজন দেখেছি, কিন্তু তাঁদের দেহ সুগঠিত নয়, পদে পদে তাঁদের দেহের ছন্দপতন হয়। সুন্দর মুখও দেখেছি, কিন্তু সেসব মুখ যেন প্রক্ষিপ্ত, দেহ থেকে উদ্ভূত নয়। রবীন্দ্রনাথ সেকালে গায়ে জামা দিতেন না। পরতেন একখানি ধুতি আর গায়ে দিতেন একখানি চাদর। সুতরাং তাঁর সর্বাঙ্গ দেখবার আমার সুযোগ হয়েছিল; উপরন্তু তাঁর সর্বাঙ্গ ছিল প্রাণে ভরপুর, প্রাণ তাঁর দেহে ও মুখে টগবগ করত। তিনি ছিলেন একটি জীবন্ত ছবি। রূপের যদি প্রসাদগুণ থাকে ত সে গুণ তাঁর দেহে ছিল। 

এই সময়ে আমি তাঁর গানও শুনেছি। কণ্ঠস্বরের এতাদৃশ ঐশ্বর্য আমি পূর্ব্বে কখনও শুনিনি। বিলেতি বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে দুটি যন্ত্র আমাকে মুগ্ধ করত। একটি cornet, অপরটি cello; তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল cornet জাতীয়, callo জাতীয় নয়। প্রাণের উচ্ছ্বাস ও কণ্ঠস্বরের বিশেষত্ব ছিল। তিনি একটি হিন্দি গান গেয়েছিলেন, যা আমার আজও মনে আছে। তার প্রথম কথাগুলি ‘জন ছুঁয়া মোরি বইয়া নাগরওয়া’। এ গানটির সুর বোধহয় তোড়ি, নয়তো সেই ঘয়ের। এ রাগে গলা খোলবার ও তোলবার যথেষ্ট অবসর আছে। আর তাঁর সুর তারার পঞ্চম পর্যন্ত অবলীলাক্রমে উঠে যেত। কিন্তু সে সময়ে লক্ষ করি যে, তিনি তানের পক্ষপাতী ছিলেন না। খেয়ালের যে পরোয়া তানের ও টপ্পার অবিশ্রান্ত কম্পনের সাধনা তিনি করেননি। সংগীতের এ দুই কাজ বাঙালিদের কোনোকালেই শ্রোত্র-রসায়ন নয়, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কানে এ জাতীয় টপ্পাখেয়াল শ্রুতিকটু। সুর যখন কথার সঙ্গে সন্ধিবিচ্ছেদ করে যন্ত্রসংগীতের বৃথা নকল করে, কবির কানে তা গ্রাহ্য হয় না। আমি বুঝলুম যে, ধ্রুপদ অঙ্গের গানেই তাঁর কান অভ্যস্ত।

রবীন্দ্রনাথের স্বরচিত গানের বিশেষত্বও এই। তাঁর অন্তরের অদম্য প্রাণশক্তি সংগীতশাস্ত্রের বিধিনিষেধ অতিক্রম করতে বাধ্য। এ প্রবন্ধে অবশ্য আমি তাঁর গানের আলোচনা করব না। মোদ্দাকথা এই যে, তাঁর রূপ দেখে ও কণ্ঠস্বর শুনে আমি প্রথম থেকেই তাঁকে একজন লোকোত্তর পুরুষ বলে চিনতে পারি। যখন আমি রবীন্দ্রনাথকে প্রথম দেখি, তখন তিনি আমাকে দেখেননি। এর কারণ রোগশয্যায় আমার মস্তক মুণ্ডন করা হয়েছিল, তাই আমি লোকসমাজে দেখা দিতুম না।

সে যাই হোক, আমি পাশের ঘর থেকে তাঁর ও তাঁর সহচরদের কথাবার্ত্তা শুনতুম। তাঁর কথোপকথন আমাকে মুগ্ধ করত। তাঁর রসিকতায় চুমকি-বসানো কথাবার্ত্তা ও তাঁর মনের স্ফুর্ত্তি আমাকে অবাক করত। আমি আসলে বাঙাল হলেও হয়ে উঠেছিলুম কৃষ্ণনাগরিক। আর সেকালে কৃষ্ণ নাগরিকদের, বিশেষত নিষ্কর্মা বারেন্দ্র দলের আর কোনো গুণ না থাক, তাঁরা বাক্-চাতুরীরে চর্চা করতেন এবং রসিকতা যে বাক্যের একটা মহাগুণ তা আমি জানতুম। তাই রবীন্দ্রনাথের কথোপকথন যে যেমন মনোহারী তেমনি উজ্জ্বল, তা আমি হৃদয়ঙ্গম করি। রবীন্দ্রনাথের গদ্যসাহিত্য যে রসিকতায় চমকপ্রদ, তা আশা করি সকলেই জানেন। এ গুণ কবিত্বশক্তি মতোই স্বভাবসিদ্ধ। বড় করিও যে অসাধারণ witty হতে পারেন, ইনিই তার প্রমাণ।

আমি পূর্ব্বে বলেছি যে, আমি দূর থেকে রবীন্দ্রনাথকে দেখি, আর পাশের ঘর থেকে তাঁর কথাবার্ত্তা শুনি। রবীন্দ্রনাথের দুজন সঙ্গী ছিলÑ তাঁর ভাগিনেয় সত্যপ্রসাদ গাঙ্গুলী এবং দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জামাতা রমণীমোহন চট্টোপাধ্যায়। রমণীমোহন ছিলেন দাদার কৈশোরের সহপাঠী আর তাঁর আকৈশোর বন্ধু। উপরন্ত তিনি ছিলেন এমএ পাস আর অতি বুদ্ধিমান লোক। দাদা, রবীন্দ্রনাথ, সত্যপ্রসাদ ও রমণীমোহনÑ আমার যতদূর মনে পড়ে, এঁরা চারজনে হাসিঠাট্টাতেই দিন কাটাতেন। এঁদের মুখে কোনো সাহিত্য-আলোচনা শুনিনি। রবীন্দ্রনাথের স্ফুর্তিই আমাকে মুগ্ধ করে। আর একটি বিষয় আমি লক্ষ করিÑ রবীন্দ্রনাথের ভাষা। সে ভাষা খাস্ কলকত্তাই ভাষা নয়, সুশিক্ষিত ও ভদ্র ভাষা; যে ভাষায় আজকাল প্রায় সবাই কথা কন্। রবীন্দ্রনাথ বোধহয় তিন-চার দিন পরে কলকাতায় কিয়ে গেলেন; আমাদের বাড়ির আলো নিবে গেল।

এর মাসখানেক পরেই আমি দাদার সঙ্গে কলকাতায় আসি, আর তদবধি এইখানেই রয়ে গেছি। রবীন্দ্রনাথ বোধহয় হপ্তায় দু-তিন দিন আমাদের বাসায় আসতেন। সেই সময়েই আমি তাঁর সঙ্গে বিশেষ পরিচিত হই। তাঁর ‘কড়ি ও কোমল’ সম্পাদনের ভার দাদা নিয়েছিলেন এবং এ বিষয়ে তাঁদের যা আলোচনা হতো তাতে যোগ না দিলেও সেক্ষেত্রে আমি উপস্থিত থাকতুম। এর কারণ আমি তখন রোগমুক্ত হয়ে convalescent অবস্থায়, তাই কলেজ যেতুম না, বাড়িতেই থাকতুম। রবীন্দ্রনাথের আলোচনা শুনে আমি আবিষ্কার করি যে, কবিতা সম্বন্ধে তাঁর অসামান্য অন্তর্দৃষ্টি ছিল। আমি তখন বাঙলা জানতুম, কেননা আমি ছাত্রবৃত্তিপড়া ছেলে; আর ইংরাজিও মন্দ জানতুম না। তাই রবীন্দ্রনাথের কথার মর্ম গ্রহণ করতে পারতুম। আর একরকম রবীন্দ্রনাথের আবহাওয়ায় বাস করে আমার অন্তরের অঙ্কুরিত মতামত ক্রমে ক্রমে ফুটে উঠতে লাগল। এবং তাঁর কাব্যের সঙ্গেও পরিচিত হলুম। সেকালে অনেকে রবীন্দ্রসাহিত্যের বিরোধী ছিলেন। কিন্তু আমি এই বিরোধী সমালোচকদের কথা উপেক্ষা করতে শিখলুম।

আমি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের কথা মাত্র লিখলুম। আবার পরবর্ত্তী জীবন রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে এতদূর জড়িয়ে গিয়েছে যে, তার বিবরণ দিতে হলে আমার নিজের জীবনচরিত লিখতে হয়। আমার মহা সৌভাগ্য এই যে, আমার যৌবনের প্রারম্ভে আমি রবীন্দ্রনাথের পরিচয় লাভ করি এবং তাঁর মানসিক আবহাওয়াতেই মানুষ হই। রবীন্দ্রনাথ প্রথম থেকেই আমার প্রতি অনুকূল হন, আর এই দীর্ঘ জীবনে আমি তাঁর অনুগ্রহে কোনোদিন বঞ্চিত হইনি। আমার অন্তরে একটি প্রচ্ছন্ন অহং ছিল এবং আছে, যা সহজে কারও বাগ মানে না।

তিনি যে একজন লোকোত্তর পুরুষ, আজ তা সকলে স্বীকার করবেন।

তিনি কায়মনোবাক্যে পরিচয় দিয়েছেন যে, তাঁর বিচিত্র জীবন হচ্ছে একটি জীবন্ত কাব্য, যা শতদলের মতো ফুটে উঠেছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা