শাহাবুদ্দীন নাগরী, দ্রাবিড় সৈকত ও জিয়াউল জিয়া
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬ ১৫:০১ পিএম
আপডেট : ০১ মে ২০২৬ ১৫:০৫ পিএম
গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পাখি
শাহাবুদ্দীন নাগরী
ধাতব চাকার নিচে পিষ্ট হবার আগে
আমি বুঝতে পারলাম
সবচেয়ে সুন্দর হলো জ্যোৎস্না,
আর সবচেয়ে মায়াবতী চাঁদ।
আমি হাত বাড়িয়ে ছুঁতে চাইলাম জ্যোৎস্না,
তাকাতে চাইলাম গোলগাল চাঁদের দিকে,
এক ঝাপটা অন্ধকার এসে চিতার মতো
লাফিয়ে পড়ল চোখের ওপর,
আমি অন্ধকার ঠেলে মুঠো মুঠো জ্যোৎস্না
নিয়ে উড়তে থাকলাম পাখির মতো।
মানুষও কি পাখি হতে পারে?
তুমিও পিষ্ট হও, পাখি হবে অনন্ত আকাশে।
কুত্রাপি ৬৬০
দ্রাবিড় সৈকত
কে বোঝে কার কথা?
যে বোঝে তার ব্যথা উবে যায় সংবেদনায় থাকে হৃদয়ের ঝিল
নিদয়ের কিল খেয়ে পদ্ম ফোটানোর কথা যুগের যজ্ঞে ঢালে জল
সদ্য গোটানো পালে বাতাসের দাগ যারা খুঁজিতে গিয়েছে তার
ঘাড় ধরে ফিরিয়ে দেয়ার নাম নৈর্ব্যক্তিক
যার ঘরে জিড়িয়ে নেবার কথা সেই তো দাবি করে অধিকার
দধি কার? দুধের? গাইয়ের? নাকি গোয়ালার?
বাকি ওয়ালারাও বেশ হাজিরা খাতায় থাকে টনটনে হাজির জনাব
পাজিরা মাথায় রাখে
ভ্রাতায় চাকে দিলে ঢিল, মধুর ভাণ্ড নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে বলে জয়ী হোক বন্ধন আত্মীয়তা।
এখানে খুব একটা...
জিয়াউল জিয়া
এখানে খুব একটা মানুষ মারা যায় নাÑ
সেই কবে মসজিদের মাইকে ঘোষণা করেছিল,
‘একটি শোক সংবাদ’-মনে নেই।
এখানে খুব একটা রাত্রি নামে নাÑ
যেই না অন্ধকার বুঝতে পারে তার সময় শেষÑ
অমনি আঁধারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জ্বলে ওঠে
মোমের আলো, ঝাড়বাতি, নিয়নবাতি আরও কত রকমের বাতি।
এখানে খুব একটা বৃষ্টি নামে নাÑ
বৃষ্টির ছদ্মবেশে দিনমজুরের শরীর আর জোড়াভাঙা কিশোরীর
চোখের কোণে খেলা করে লোনা পানি বিশেষ।
এখানে খুব একটা শীত নামে নাÑ
রুম হিটার আর রাজকীয় লাম্পট্যের উত্তাপেÑ
শীতেরা আজ সাইবেরিয়ামুখী।
এখানে খুব একটা মানুষ মারা যায় না,
এটাই তো স্বাভাবিক, প্রতিনিয়ত ধ্বংসের ভাগীদার বাড়েÑ
মানুষ তো বাড়ে না!