গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:২১ পিএম
মজানদী
গোলাম কিবরিয়া পিনু
বিশ্বস্ত নদী পেলাম না,
ইচ্ছেমতো সাঁতরাবো!
নদীটায় এঁদোপুকুরের জল,
টলমল করে না!
রুদ্রস্রোতে!
জলপ্রবাহ নেই!
জলের তরঙ্গ নেই!
নদীতে তরঙ্গ না থাকলে?
তরাঙ্গায়িত হব কীভাবে!
এ কেমন নদী?
বৃষ্টির জলওÑ
ধারণ করতে পারে না!
এতোটা মজানদী?
মজতে পারলাম না!
কার্বনভোর
অদ্বৈত মারুত
ভোরের মাঠ উষ্ণপ্রবণ;
অশ্বথ গাছ হঠাৎ সটান
নাগরিক জানালায়
ঝুলে থাকে প্রশ্ন
ছায়া হয়ে বসে ঝিমায়
কুয়াশার শরীর কোটে।
শিশির মাখানো পাহাড়
একাকী, দূষিত হাওয়ার
বমি গিলে
উঠে দাঁড়িয়ে থাকে
জ্বালানির আগুনে
নতজানু শহরের বিপরীতে।
দূরে নিকোটিনের আয়ু
বীজতলায় বিপ্লবী হাহাকার
কার্বনের স্পন্দন,
অন্ধকারÑ
গিলে খায় নরম বালি।
বৃষ্টিরা ভাষার শিক্ষক
প্রতিটি বর্ণ কেটে কেটে
বানায় মৃত মৌমাছি নগর।
চাপা পড়ে থাকে ঘাসচুক্তি;
শুধু এগিয়ে আসে থাবা
না-বাঘের, না-মানুষের।
মাটিই জানে নিগূঢ় সত্য।
পুনর্জাগ্রত আকাশের
দিনলিপি
সহিদুল আলম স্বপন
আজ আকাশের নীলপত্র খুলতেই
দেখি,
বৈশাখ নিজ হাতে লিখে গেছে
আলোর বার্তা,
ঝরে পড়া রোদের ভেতর এক
কোমল কম্পন,
যেন সূর্যের হৃদয়ও অতল
স্পর্শে ভিজে আছে।
কৃষ্ণচূড়া আজ শুধু আগুন
নয়,
সে এক দীপ্তিমান কবিতার
দেহÑ
তার প্রতিটি পাপড়ি লিখে
যায়
অপ্রকাশিত ভালোবাসার গোপন
ইতিহাস।
বৈশাখ আসে না কেবল
পঞ্জিকার নির্দিষ্ট দিনে,
সে আসে অন্তরের নিভৃত
ভাঙনে,
যেখানে মানুষ নিজেকে নতুন
করে আবিষ্কার করে
পুনর্জন্মের মৃদু
বিস্ময়ে।
আজ, সবকিছু আবার শুরু হোক
একটি নির্মল আলোর মতো,
যেখানে প্রতিটি শ্বাসে
লেখা থাকবে
‘আমি আবার জীবনের দিকে
ফিরে আসছি।’
হাসনা
মো. মুজিবুল হক
হাসনা, তোমার কেমন জীবন
এটা
ছয় ফুট ঘরে বন্দি নির্জনতা
ঘরের ভেতর ছড়িয়ে আছে বই
জীবনানন্দের দর্শন তোমার
কই?
হাসনা, তোমার কলতাবাজার
কেমন
হৈহুলুর আর গিঞ্জি অলিগলি
দেড়শ টাকার মাখন বিরিয়ানি
সন্ধ্যা হলেই তোমার
ফন্দিফিকির।
হাসনা, তোমার রঙ ছড়ানো
ঠোঁটে
মুখোশ থাকে চোখের আড়ালে
ভিক্টোরিয়া পার্কে বসে
প্রেম
বাদাম কাটো দাতের ফাঁকে
ফাঁকে।
হাসনা, তোমার অসভ্যতার
জীবন
মুখে মুখে কিরা, কসম কাটা
ঘরের ভেতর গান বাজানো ঘুম
তোমার পাশে আমার শরীর কই?
হায়েনা, তোমার মারামারির
সংসার
ব্যস্ত ঢাকায় রুম
পাল্টানোর অভ্যাস
তোমার অনেক বন্ধু হোয়াটসঅ্যাপে
যেখানটাতে আমার কিছুই নেই।