× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মাহমুদ শফিকের কবিতা: কালজ রূপাধারে

আহমেদ মাওলা

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৩২ পিএম

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:১৪ পিএম

মাহমুদ শফিক পেশায় সাংবাদিক, এ ছাড়া রাজনীতি-সাংস্কৃতি, অর্থনীতি, পরিবেশ, উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়ে উল্লেখযোগ্য গবেষণা গ্রন্থ রচনা করলেও তার প্রধান পরিচয় কবি হিসেবে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

মাহমুদ শফিক পেশায় সাংবাদিক, এ ছাড়া রাজনীতি-সাংস্কৃতি, অর্থনীতি, পরিবেশ, উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়ে উল্লেখযোগ্য গবেষণা গ্রন্থ রচনা করলেও তার প্রধান পরিচয় কবি হিসেবে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বাংলাদেশের কবিতা এখন শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির একাংশের সম্পত্তি হয়ে পড়েছে। মধ্যবিত্তেরও সবটুকু নয়, নগরের সাহিত্যমনস্ক একটি অংশ, যারা কবিতাকে বেছে নিয়েছে বিলাসী ও বিনোদনের অনুষঙ্গ হিসেবে। গ্রামের কৃষক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ যেভাবে জীবনকে দেখেন, সমাজকে দেখেনÑ সেভাবে নয়, মধ্যবিত্তের কৃত্রিম দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা ভোগ-উপভোগের সমাজটুকুই উঠে আসছে কবিতায়। বলা যায়, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের কবিতা রোমান্টিক আত্মভুক, উৎকট ব্যক্তিবোধ ও মধ্যবিত্ত সুলভ দৃষ্টিভঙ্গি, আত্মতা, ব্যক্তি সর্বস্বতার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশ শতকের বিশ্বকবিতা এবং কলকাতার তিরিশের দশকের পরবর্তী কবিতার যেসব রীতি ও কলাকৌশল দৃষ্টিগোচর হয়, বাংলাদেশের পঞ্চাশ-ষাট এমনকি স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে সেই সচলতা, প্রবণতা বিস্তার লাভ করেছে। আমার এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে হয়তো অনেকেই দ্বিমত-ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন, কিন্তু আমার যুক্তি হচ্ছেÑ মুক্তিযুদ্ধোত্তরকালে কবিতার বাচন এবং বিষয়ের সীমানা ভাঙার যে প্রত্যাশা ছিল, অজস্র বিস্ফোরক, বৈপ্লবিক উপকরণ বিরাজমান থাকা সত্ত্বেও সেরকম কিছু দেখা যায়নি। ভাব-ভাষায় বর্ণনামূলকতা, কথার ঢং, সামষ্টিকতার বদলে ব্যক্তিকতাই প্রাধান্য পেয়েছে। সত্তর দশকে বাংলাদেশের কবিতার যে তরুণ কবিগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটেছিল, স্বাভাবিকভাবেই তারা হৃৎপিণ্ডে ধারণ করেছিল সমকালীনতার উত্তাপ, জীবাণুভূতির ভিন্ন এক ব্যাখ্যা উপস্থিত করেছেন তাদের কবিতায়। স্বাধীনতার-পরবর্তী সমাজের চেহারাÑ ছবি সত্তর দশকের কবিতায় অনিবার্যভাবে পড়তে থাকে এবং উপমা, রূপকÑ চিত্রকল্পে মুক্তিযুদ্ধের নানা অনুষঙ্গের উপস্থিতি সত্তরের কবিতাকে নতুনভাবে তাৎপর্যবান করেছে। নবজাগ্রত সমাজ, নবপ্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের নব-উদ্দীপনায় অজস্র কবি জোয়ারের মতো উপস্থিত হয়। ‘যেহেতু জোয়ার ছিল প্রবল, জোয়ার নেমে গেলে, দেখা গেল সত্তরের অনেক কবিরই হাত ও চেতনা থেকে কলম খসে গেছে। এই খসে যাওয়ার একটা কারণ রয়েছে কবিতার আত্মস্বভাবে। কবিতা কখনও একেবারে কালজ হতে পারে নাÑ তার একটি পা ঢুকে আছে কালোত্তরে। শুধু পা নয়, চোখও। আজ বলতেই হয়, সত্তরের অনেক কবির মধ্যে ছিল না এই কালোত্তরের চোখ।’ (আবদুল মান্নান সৈয়দ/ করতলে মহাদেশ, পৃ: ২০২) সত্তরের কবিতার একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সমকালীন সামাজিক-রাজনৈতিক চেতনা সম্পৃক্তি। কালোত্তরের চোখ ছিল না বলেই সমকালীন প্রয়োজন মিটিয়েছে সত্য, কিন্তু চিরকালীন চেতনায় অভিসিক্ত হতে পারেনি। সত্তরের আত্মচারিত্র্য খচিত কবিরা হলেনÑ আবিদ আজাদ, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, দাউদ হায়দার, নাসির আহমেদ, শিহাব সরকার, কামাল চৌধুরী, সাইফুল্লাহ্ মাহমুদ দুলাল, হাসান হাফিজ, ময়ূখ চৌধুরী, আসাদ মান্নান, ত্রিদিব দস্তিদার, মিনার মনসুর, আবিদ আনোয়ার, নাসিমা সুলতানা, মাহমুদ কামাল, মাহমুদ শফিক প্রমুখ।

মাহমুদ শফিক (জন্ম: ১৯৫৪) পেশায় সাংবাদিক, এ ছাড়া রাজনীতি-সাংস্কৃতি, অর্থনীতি, পরিবেশ, উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়ে উল্লেখযোগ্য গবেষণা গ্রন্থ রচনা করলেও তার প্রধান পরিচয় কবি হিসেবে। মাহমুদ শফিকের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ছবি প্রকাশিত হলে (১৯৭৩) প্রকাশের পর রণেশ দাশগুপ্ত লিখেছেনÑ ‘মাহমুদ শফিকের ছবি প্রকাশিত হলে কবিতা গ্রন্থটি পড়তে পড়তে বিস্মিত হইনি কবিতাগুলির বিস্ফোরক ধর্মিতায়। সীমানা ভাঙার শুরুতেই এই তরুণ কবির লেখা শুরু। তবু এই কবির কলম কোনোরকম ভণিতা না করেই যেভাবে অভিজ্ঞতাকে রূপাধারে স্থাপন হয়েছে, তাতে কিছুটা আশ্চর্য হয়েছি। এই কবি নিজেকে এবং দেশকে যে অসংকোচে ব্যক্ত করতে চেয়েছেন, আকাঙ্ক্ষা আর যন্ত্রণাকে সাহসিকতার চাক চাক জ্বলন্ত অঙ্গার দাখিল করে, এটা নিশ্চয় আমাদের কবিতার জগতে একটা ঘটনা।’ (রণেশ দাশগুপ্ত, দৈনিক বাংলা, ১১/১১/১৯৭৩) ‘ছবি প্রকাশিত হলে’ নামিক কবিতায় সময় ধারণ করা হয়েছে এভাবেÑ ‘তুমি যত দূরেই থাক না কেন একবার এসো/গোপের বাগানে ছবি প্রকাশিত হলে/ দেখে যেও আমি কেমন আছি/ তোমার রক্তের মমতায়/ বন্দীশালায় নিহত সৈনিকের সমাবেশে/ রক্ষিতার মতো ভোগ করে যেও/ যদি থাকে তাতে নির্মল সুগন্ধ’ মুক্তিযুদ্ধোত্তর প্রতিবিপ্লবের ভ্রষ্টরাজনীতি, গুপ্তহত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, গণতন্ত্রের অপমৃত্যু, হত্যা, সামরিক ক্যু ইত্যাদি পরিস্থিতির কারণে কাব্যভাষায় ছড়িয়েছে অন্তর্লিন বিষাদ। ‘যুদ্ধাহত, স্বপ্নভঙ্গ, বিষাদ ইত্যাদি শব্দপ্রতিমা হতে থাকে পুনরাবৃত্ত। কবিতার নান্দনিক, প্রাকরণিক, দার্শনিক চিন্তা গৌণ হয়ে বিষয় সর্বস্বতা ভর করে সত্তরের দশকের কবিতায়। তাই কবিতায় স্বাভাবিক ছন্দও অনুপস্থিত এবং নিরেট গদ্য-সজ্জা কবিতার প্রধান ভূষণ হয়ে পড়েছে। ফলে গদ্য-সজ্জার কংক্রিট কবিতা ছন্দহীনতার কারণে গভীরতর জীবনবীক্ষা বা নান্দনিক ভাব-ব্যঞ্জনায় ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ‘রক্ষিতার মতো ভোগ করে যেও’Ñ এই উপমার মধ্যে মুক্তযুদ্ধোত্তর দেশের বিধ্বস্ত, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকেই ইঙ্গিত করে। ‘চিরন্তন ভঙ্গুরতা’ কবিতায় কথার ভঙ্গিতে বর্ণিত হয় সময়ের চিত্রকল্পÑ ‘বলো কি আমার অপরাধ? কেন তোমরা চাও/ আমার প্রেমিকার কপালের/ সুখের টিপ মুছে দিতে? ভেঙ্গে দিতে চাও হাতের শঙ্খ/ বলো কি আমার অপরাধ? তোমরা কেন গোপন সুখের ভিতে/ নির্মাণ করেছ আমার শাস্তির মিথ্যা ধারণা?’ ব্যক্তিক দৃষ্টিতে বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে, ‘আমার প্রেমিকার কপালের সুখের টিপ মুছে দিতে চায়’ কারা? কারা তাকে অপরাধী করছে? শাস্তির আয়োজন করছে? এই জিজ্ঞাসা চিহ্ন বোঝা যায়, যে জনপ্রত্যাশা সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, তা পূরণ হচ্ছে না। ‘প্রেমিকার কপালে সুখের টিপ’ আসলে দেশমাতৃকার রূপকল্প। এই ‘টিপ’ মুছে দিতে চাচ্ছে বৈরী রাজনৈতিক বাস্তবতা। মাহমুদ শফিকের কবিতা সম্পর্কে রণেশ দাশগুপ্তের চিহ্নায়ন সেই অর্থে যথার্থ। কোকিলের বাণিজ্য ভবন (১৯৭৫), ঝর্ণার পাখি (১৯৭৮), বিদ্যুতে বাঁধা বুক (১৯৮০), ভিতরের নীরব যাত্রী (১৯৮৮), দহনের পিপাসা (১৯৯০), ভিতরের গল্প (১৯৯০), অন্ধ শিকারি (১৯৯৫), তৃষাণার ময়ূর আগুন (২০০২) মাহমুদ শফিকের উত্তরকালের কাব্যগ্রন্থগুলোতে প্রাকরণিক নিরীক্ষার বদলে বিষয় বৈচিত্র্যের সম্প্রসারণ লক্ষ করা যায়। রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে নানান সামাজিক বাস্তবতার অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে তার কবিতায়। যেমন ‘কোকিলের বাণিজ্য ভবন’ শিরোনামের কবিতায় বাস্তবতার রূপকল্প তৈরি হয় এভাবেÑ ‘নির্জন কুসুমের নদী দিয়ে নিঃসূর্য রঙিন/ নক্ষত্রের দাঁড় বেয়ে চাঁদের পানসিতে/ চলে যায় বাসন্তী বালিকা/ মনোরম বিষাদে সবুজ নির্জনতায়/ কবরী থেকে ঝরে পড়ে তার বিদীর্ণ বকুল… অঙুলের ভাঁজে ভাঁজে জমে যাওয়া তিমিরের পিপাসা/ আর্দ্র হয় পূর্ণিমার মলিন দীপ/ দেহবাস খুলে গৈরিক রমণী সুরের গোলাপে বোনে/ কোকিলের বাণিজ্য ভবন।’ বাকপ্রতিমাগুলো লক্ষ করলে বোঝা যায়, ‘নির্জন কুসুমের নদী’, ‘বাসন্তী বালিকা’, ‘মানোরম বিষাদ’, ‘সবুজ নির্জনতা’, ‘অঙুলের ভাঁজে’, ‘তিমিরের পিপাসা’, ‘সুরের গোলাপে বোনে’, ‘বাণিজ্য ভবন’ এগুলো কেবল শব্দসজ্জা নয়, চিত্রকল্পের সমাহার দিয়ে অঙ্কিত হয়েছে বৈরী বিরূপতা। কবিত্বের প্রমাণ মেলে এখানে। কবি মাহমুদ শফিক, ম্যাটাফোর নির্মাণে স্বতন্ত্র। কাব্যভাষা অজটিল, কথার আদলে বর্ণিত কিন্তু ভেতরে অন্তর্দৃষ্টির গভীরতা রয়েছে। ‘হে বাংলাদেশ/ তুমি বড় বেশি নিচে পড়ে আছ/ তোমার গণ্ডদেশে চুমু খায় একাত্তরের ঘাতক/ তিরিশ লাখ শহীদের লাশ কাঁদে/ হেঁটে যায় কাতারে কাতারে মানুষ/... হে বাংলাদেশ/ আবার কি তুমি গর্জে উঠবে?’ (আবার কি তুমি গর্জে উঠবে) রাজনৈতিক বাস্তবতার সত্য থেকে এই বর্ণনা আলাদা করা যায় না। 

সাংস্কৃতিক উৎপাদন ও ভোগ-উপভোগের সামগ্রী হিসেবে কবিতা পড়ার নানান তরিকা আছে। কেউ ‘কবিতা’ না পড়ে ‘কবি’কে পড়ে, কবির মতাদর্শ পড়ে। নন্দনতত্ত! বা দার্শনিক চিন্তার ঐশ্বর্য কারও কবিতা পাঠ-অভিজ্ঞতাকে তৃপ্তি দেয়। আবার এদেশের লক্ষ-কোটি মানুষ আছে, যারা একশব্দ কবিতা না পড়েও একটা চমৎকার জীবন কাটিয়ে দিচ্ছে। প্রাচীন ও মধ্যযুগের কবিতা প্রধানত ধর্মকে ভিত্তি করেই রচিত। ভণিতায় থাকত কবির নাম ও আত্মপরিচয়, কবিতাচ্ছলে কবিরা ধর্মকেই প্রচার করেছেন। জ্ঞান ও চিন্তা, সামষ্টিক মানুষের ভোগ-বিনোদনের অন্যতম উপাদেয় সামগ্রী ছিল কবিতা, কারণ তখন কবিতা পড়া হতো না, স্বর ও সুরে গাওয়া হতো। আধুনিকতার যুগস্রষ্টা কবি টি এস এলিয়ট ধর্মনিপেক্ষ জীবনকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে শেষ জীবনে নিজেকে ধর্মে অ্যাংলো-ক্যাথলিক বলে ঘোষণা করে চার্চের সিঁড়িতে উবু হয়ে পড়েছিলেন। আধুনিক কবিতার জনক শার্ল বোদলেয়ার নিজেকে রোমান ক্যাথলিক হিসেবে গণ্য করতেন। মনে করতেন, ‘প্রকৃত কবি তিনিই, যার কবিতায় আধ্যাত্মিক ভাবনার উত্তরোত্তর পরিণতি এবং নির্মাণ কৌশলে তার সুস্পষ্ট ছাপ রাখতে সমর্থ হবেন।’ বর্তমান যুগে ‘ধর্মের’ জায়গায় স্থান করে নিয়েছে ‘রাজনীতি’। কবিতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কবির নাম। ‘কবিতার’ সঙ্গে এখন সমান্তরালভাবে ‘রাজনীতি’ও পঠিত হয়। মাহমুদ শফিকের কবিতায় জাতীয়তাবাদী রাজনীতি স্পষ্ট প্রকাশ দেখা যায়Ñ একজন কৃষক কৃষক ফসলের আঁটি মাথায়/ দাঁড়ালো চোখ থেকে ঝরলো ঝরনার ভোর/ মুখের কুঞ্চিত ভাঁজে ভাঁজে ননদীর মতো জাগলো বয়সের রেখা/… এরপর মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে দিল উপরের দিকে/ এবং চিৎকার করে বললো ‘খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ’/ টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত/ বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম/কম্পিত হলো একই স্লোগানে। (স্লোগান/ ভিতরের নীরব যাত্রী) সমকালীন বাংলাদেশের সমাজ ‘রাজনীতি-আক্রান্ত’। মানুষ ‘দলতন্ত্র’ দ্বারায় বিভাজিত। এ সমাজে কবি যেন ‘দণ্ডিত অ-পুরুষ’। বিবদমান, হিংসা ও জিঘাংসার সংসারে কবিকে কেউ এই বস্তু-বাস্তবতার অধিবাসী দেখতে চায় না। তাহলে কবিরা কি নির্বিকার, নির্বিরোধ সন্ত? একজন কবির ধর্মবিশ্বাস না জেনেও কবিতা পড়া যায় তো, যদি সেই কবিতার কাব্যগুণ পাঠকের হৃদয় মঞ্জুরিত হয়। ‘ব্যক্তি-কবি’র মতাদর্শ কবিতা পাঠে কখনও অন্তরায় হতে পারে না। কিন্তু ঢাকার মূলধারার বয়ানে রয়ে গেছে উপনিবেশিক মনস্তাত্ত্বিক ল্যাগেসি। দলীয় মতাদর্শের অনুসারীরা মূলধারার ম্যাটান্যারেটিভে প্রধান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে যান, অন্যরা পড়েন গৌণ। দেখা যায়, অনেকেই প্রাপ্যের অধিক খ্যাতি আত্মসাৎ করে বসে যান সামনের কাতারে। এসব ভুল রিডিং আমাদের কাব্য-বিবেচনায় একটা মর্মান্তিক ক্ষত ও ক্ষতি সৃষ্টি করেছে। সাহিত্য-সমালোচনা যে একজন সুবেদী পাঠকের প্রতিক্রিয়া, এই ধারণাই এখন হারিয়ে গেছে। এই জন্যই আমাদের এখানে ভালো ক্রিটিক বা সমালোচক নেই, যার লেখায় শিল্প-সৌন্দর্যের অন্তর্দৃষ্টি থাকবে, পাঠকের প্রতীতী জন্মাবে, পাওয়া যাবে লেখা এবং লেখকের গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নায়ন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা