× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ডাকটিকিটে পহেলা বৈশাখ

নিজাম বিশ্বাস

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০৬ পিএম

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৪৭ পিএম

ডাকটিকিটে পহেলা বৈশাখ। কোলাজ; প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ডাকটিকিটে পহেলা বৈশাখ। কোলাজ; প্রতিদিনের বাংলাদেশ

পহেলা বৈশাখ ধর্ম মত নির্বিশেষে সকল বাঙালির জীবনে এক মহা উৎসবের দিন। এই দিনে পুরোনো বছরের সব ক্লান্তি, ঝরা, গ্লানি ঝেড়ে নতুন বছরের দিকে পা বাড়ায় বাংলার মানুষ । গ্রাম, নগর, শহর সর্বত্র সাজে এক নতুন রূপে। বৈশাখী মেলা, মঙ্গল শোভাযাত্রা, হালখাতাসহ বিভিন্ন উৎসবের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে। বর্ষ বরণের এমনই অনেক আয়োজনের মধ্যে ডাকটিকিট প্রকাশেরও নজির রয়েছে।   

বাংলাদেশ ডাকবিভাগ ১৩৯৪ বঙ্গাব্দের বৈশাখে (১৬ এপ্রিল ১৯৮৭)  সর্বপ্রথম বাংলা নববর্ষকে ঘিরে প্রথম ১ ও ১০ টাকা সমমূল্যের দুটি ডাকটিকিট প্রকাশ করে। এক টাকা মূল্যের প্রথম টিকিটে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৈশাখ নিয়ে গানর শিরোনাম ‘এসো হে বৈশাখ’ তুলে ধরা হয়– 

এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ।

তাপস নিশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,

বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক॥

যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে-যাওয়া গীতি,

অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক॥

মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,

অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।

রসের আবেশরাশি শুষ্ক করি দাও আসি,

আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শঙ্খ।

মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক॥

দশ টাকা মূল্যের দ্বিতীয় টিকিটে দেখা যায় এক বাঙালির বধূর প্রতিকৃতি, যিনি আপন মনে একে চলেছেন বৈশাখের আল্পনা। দুটো ডাকটিকিটেই ‘বেঙ্গলি নিউ ইয়ার’ কথাটি রোমান হরফে যুক্ত করা হলেও দ্বিতীয় টিকিটে ইংরেজির পাশাপাশি ‘পহেলা বৈশাখ’ শব্দ যুগলের ব্যবহার দেখা যায়। বহুরঙা এ দুটি ডাকটিকিটের ছিদ্রক দূরত্ব  ১২ × ১২½ এবং মুদ্রণ প্রক্রিয়া অফসেট লিথোগ্রাফি। ডাকটিকিটগুলো সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ছাপাখানা মেঝদুনারোদনায়া ক্নিগা থেকে ছাপানো হয়। নকশাকার শিল্পী মাহবুব আকন্দ। ব্রিটিশ ক্যাটালগ স্ট্যানলি গিবনসের হিসাব অনুসারে এ দুটি বাংলাদেশের ২৯০ ও ২৯১ নম্বর ডাকটিকিট। এবং জার্মান ক্যাটালগ মিশেলে ২৬০–৬১ নম্বর বাংলাদেশি ডাকটিকিট হিসেবে তালিকাভূক্ত। 

বাংলা পঞ্চদশ শতাব্দির আগমন উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ ১৪০১ বঙ্গাব্দে (১৪ এপ্রিল ১৯৯৪) বাংলাদেশ ডাকবিভাগ আরও একবার ডাকটিকিটে বাংলা নববর্ষ স্মরণীয় করে রাখে। দুই টাকা সমমূল্যের এ স্মারক ডাকটিকিটে দেখা যায় একতারা হাতে এক বাউল গান গাইছে, কৃষক বাঁশিতে তুলেছে সুর, গ্রাম্য বধূ তৈরি করছে বৈশাকের মুখরোচক খাবার, নাটাই–ঘুড়ি হাতে ছুটছে এক দূরন্ত কিশোর আর দলবেধে উড়ে চলেছে শান্তির পায়রা। বহুরঙা এ ডাকটিকিটের ছিদ্রক দূরত্ব ১৩¾ × ১৪¼ এবং মূদ্রণ প্রক্রিয়া অফসেট লিথোগ্রাফি। ব্রিটিশ ক্যাটালগ স্ট্যানলি গিবনসে এটি বাংলাদেশের ৫০৩ নম্বর ডাকটিকিট হিসেবে তালিকাভূক্ত। 

১৪০১ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত বাংলাদেশের আরও দুটি ডাকটিকিটে বৈশাখের বর্ণিল আগমন ঘটতে দেখা যায়। ২৯ বৈশাখ ১৪০১ বঙ্গাব্দে (১২ মে ১৯৯৪) প্রকাশিত ৪ টাকা সমমূল্যের একটি  স্মারক ডাকটিকিটে তুলে ধরা হয় বৈশাখী উৎসব। বহুরঙা ওই টিকিটে দেখা যায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের নজরুল মঞ্চে বাউলদের গান, রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ উৎসব, বৈশাখের মঙ্গলশোভাযাত্রা ও গ্রামীণ বৈশাখী মেলা। ডাকটিকিটটির ছিদ্রক দূরত্ব  ১৪½ × ১৩¾ এবং মূদ্রণ প্রক্রিয়া অফসেট লিথোগ্রাফি। স্ট্যানলি গিবনস ক্যাটালগ অনুসারে এটি বাংলাদেশের ৫০৪ নম্বর ডাকটিকিট। একই সময় প্রকাশিত আরেকটি ডাকটিকিটে গ্রাম বাংলার অন্যান্য লোকজ উৎসব চিত্রিত হয়, যেখানে বাংলা নববর্ষ কেন্দ্রিক উৎসবেরও আমেজ ফুটে ওঠে।

৩০ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দে (১৩ এপ্রিল ২০১৭) প্রকাশিত একটি সি–টেন্টেট (দুটি টিকিটের সমন্বয়) উঠে আসে মঙ্গল শোভাযাত্রা। প্রতিটি টিকিটের মূল্যমান ১০ টাকা। টিকিটদ্বয়ে দেখা যায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হাতি, পেচা, টেপা পুতুলসহ বৈশাখের নানা মোটিফ নিয়ে অসংখ্য মানুষের এক বর্ণিল শোভাযাত্রা। এ টিকিট দুটি জার্মানির ক্যাটালগ মিশেলের হিসাব মতে বাংলাদেশের ১২০৪–৫ নম্বর ডাকটিকিট। ডাকটিকিটের পাশাপাশি বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ওই একই তারিখে প্রকাশ একটি বহুরঙা সুভেনির শিট। ছিদ্রকবিহীন ওই সুভেনিরে সিটেন্টেটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রার আলোকচিত্রের উপরে লেখা হয় ‘এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ’ এবং নিচে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা, শুভ নববর্ষ, বাংলা ১৪২৪’ কথাগুলো যুক্ত করা হয়।

পরের বছর, ১৪২৫ বঙ্গাব্দের ২৮ অগ্রাহায়ন (৪ ডিসেম্বর ২০১৮) প্রকাশিত বাংলাদেশের আরেকটি ডাকটিকিটে উঠে আসে পহেলা বৈশাখ। পাচ টাকা সমমূল্যের বহুরঙা ওই টিকিটেও বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা চিত্রিত হয়েছে। ডাকটিকিটে ইংরেজিতে লেখা হয়েছে ‘পহেলা বৈশাখ, বেঙ্গলি নিউ ইয়ার’। বাংলাদেশের প্রতি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত চারটি ডাকটিকিটের মধ্যে এটি একটি ডাকটিকিট।

এ ডাকটিকিটগুলো ছাড়াও আরও অসংখ্য ডাকটিকিটে পহেলা বৈশাখের অনেক মোটিফ দেখা যায়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের অনেক ডাকটিকিটেও বাঙালির উৎসব পহেলা বৈশাখের শৈল্পিক রূপ ফুটে উঠেছে। ডাকটিকিট ও সুভেনির শিটের পাশাপাশি বাংলাদেশ উদ্ভোধনী খাম, বিশেষ সিলমোহর ও তথ্য কার্ডসহ নানান ডাক প্রকাশনার মধ্য দিয়ে স্মরণীয় করে রেখেছে বাঙালির এ মহা উৎসবকে। 

নিজাম বিশ্বাস 
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা