যখন আমি অষ্টাদশী, এক কথায়, তখন ভালোবাসাকে ভালোবাসি...
পূর্বরাগে, অনুরাগে রাধাভাবে নিজেকে অনুভব করি, কৃষ্ণের বাঁশি শুনতে উন্মুখপ্রায়, উৎকর্ণ হয়ে বসে থাকি কালীগঙ্গার তরঙ্গ তীরে। মনে হয় বয়সটাই এমন রাজকীয়, একই সঙ্গে ভিখিরিও সারাক্ষণ মন যেন কী চায়, কাকে চায়— ঠিক বুঝতে না পারি! শৈশব-কৈশোরের চপলতা ছেড়ে আত্মনির্ভরশীল নারীজীবনের এক মহা সন্ধিক্ষণে— অষ্টাদশী নারীর জীবনে আসে নতুন স্বপ্ন ও দায়িত্বশীল কর্মপ্রবাহ। হঠাৎ ভেসে আসা দখিনা হাওয়া যেমন! দেহবল্লরীতে আসে নতুন বান, যেন কাঁচা অঙ্গে ঢলঢল সৌন্দর্যের প্রাণ। নিজের অজান্তে সে নিজের সৌন্দর্য অনুভব করতে চায় অন্যের চোখে, ফিরে চায় নতুন অনুভব। ফুল, পাখি, চাঁদ, জ্যোৎস্না রাত— অনাদি প্রকৃতির এইসব অনুষঙ্গই প্রাথমিকভাবে ভালোবাসার অনুপ্রাণ— এরাই আপনজন, ভালোবাসা উন্মোচনে যেমন নতুন এক অধিদপ্তর! বাড়ির পেছনে বাঁশঝাড় ঘেরা নির্জন কুয়াতলা আমার অন্যতম এক প্রিয় জায়গা। সেখানে গেলে পায়ের তলায় অসংখ্য ঝরা বাঁশপাতার মর্মরধ্বনি শুনি, অপরদিকে সমর্পণের ভঙ্গিতে পা জড়িয়ে ধরে— গাঢ় সবুজ পিপুল পাতাদের আকুতি-মিনতি। এরকম মোহময় এক শান্ত প্রকৃতিতে খুঁজে পাই আমার প্রথম প্রেম ও প্রেমাস্পদকে। কাজে অকাজে দিনে বেশ কবার আমি সেখানে যেতাম, কখনও কুয়া থেকে বালতি টেনে পানি তুলতাম, স্নান করতাম, নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলতাম। নিজের জীবনে কল্পনা করতাম চেনা-অচেনা কোনো এক নায়ককে। কখনও বা একা শুধু শুধু উদাসী হাওয়ায় বসে থাকতাম। চারপাশে নানা রঙের গভীর সবুজ আলো আমাকে খুব একলা করে দিত। এরপরেই দীর্ঘ সবুজ ক্ষেত— উদার নীলাকাশ, কালীগঙ্গার দিগন্তপ্লাবী জলরাশি— যেখানে শেষ হয়েছে, সেখান থেকে একটা স্নিগ্ধ উত্তরের বাতাসে বউ কথা কও পাখিরা ডেকে যাচ্ছে অবিরল।
ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে অভিমান হলেও ওই কুয়োতলায় এসে বসে থাকতাম। ভাত খেতাম না, যতক্ষণ না মা আদর করে ডেকে নিত ঘরে। ভালো লাগার এই আনন্দ আশ্রম, ঝরাপাতার রিনিঝিনি, পাখির কূজন আমাকে নির্জনতার প্রথম পাঠ বুঝতে শিখিয়েছিল। আনন্দ অবগাহনে ক্ষণে ক্ষণে আমাকেই যেন ডেকে নিত এই প্রকৃতি মাতা। আমি তাকে চিনেছিলাম এভাবেই, সেও কি চিনেছে আমাকে?
আমাদের একান্নবর্তী বাড়ির দখিনের দেওড়ি বেড়ার পাশে মাঝারি আকারের একটি গন্ধরাজ ফুলের গাছ ছিল। চৈত্রের মাঝামাঝি যখন ফুলে ফুলে শাদা হয়ে যেত গাছটি, দখিনা বাতাসে মিশে তার সুগন্ধ ও মৌতাত আমাকে সারাদিন অন্য এক মোহময় জগতের মায়ায় ডুবিয়ে রাখত। শুধু ভালোবাসতে ইচ্ছে করত, পাখির ছানা, একটি বেড়াল কিংবা ছাগলের শাবক— মানুষ কিংবা প্রাণিকুলে যাকে পাই তাকেই ভালো লাগে। প্রকৃতির সুধারসে এমন ভালোলাগার নামই হয়তো ভালোবাসা— যা আমাকে আকাশ-কুসুম ভাবাত।
আমাদের বাড়িটি মিয়াবাড়ি নামে পরিচিত।
শিক্ষিত পাড়া বলতে আমাদের বাড়ি সংলগ্ন কয়েক ঘর বসতি ছিল। আর বাকি সব ভূমিহীন শ্রমিক নয়তো বর্গাচাষি। আমাদের কাছাকাছি, পশ্চিম পাড়ায় একই কলেজের আমার একজন সহপাঠী ছিল। বিজ্ঞানের ছাত্র।
আমি মানবিক বিভাগের ছাত্রী। বাংলা আর ইংরেজি সাবজেক্ট নিয়ে কথা হতো মাঝেমধ্যে ওর সঙ্গে। কলেজে ভর্তি হওয়ার পরে বুঝতে পারলাম ওর সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে, যেন একটু বাড়তি আনন্দের সভা বসে মনের এক কোণে। আমাদের গ্রামীণ জীবনের বর্ষাকাল মানে নিজের ঘরে আবদ্ধ হয়ে থাকা— কারাবাসের মতো। তখনও রাস্তা হয়নি, হাঁটা পথ বা হালট ডুবে যেত, পানি ছুঁইছুঁই করত বাড়ির আঙিনায় এসে।
তখন নৌকা ছাড়া যাতায়াত সম্ভব হতো না। সচ্ছল গৃহস্থ বাড়ির ঘাটে ডিঙ্গি নৌকা বাঁধা থাকত হাট-বাজার কিংবা পাড়া-পড়শির বাড়ি যাতায়াতের জন্য। গ্রামের ছেলে-ছোঁকররা হরহামেশাই ডিঙি নিয়ে বের হতো। আমরা মেয়েরা বাড়িতেই বন্দি থাকতাম। সকাল-বিকাল শুধু বহির্বাটির কাছারি ঘরের সামনে এসে থৈথৈ জলরাশির দিকে তাকিয়ে থাকতাম। দুপুরে হলেই দলগতভাবে সাঁতার কেটে, ডুবিয়ে গোসল করতাম চাচাতো ভাইবোনদের সঙ্গে নিয়ে। হাটবারে দাঁড়িয়ে দেখতাম, মাছের খাড়ি নিয়ে নৌকা যাচ্ছে ডাউটিয়া হাটের দিকে, পাটবোঝাই নৌকা, এ রকম নানা মালপত্র নিয়ে হাটুরেরা নৌকায় চলাচল করত আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে।
হঠাৎ একদিন দেখি, আমার সেই সহপাঠী ডিঙি বেয়ে কোথায় যেন যাচ্ছে।
আমি বললাম কোথায় যাচ্ছ?
হাতে বৈঠা নিয়ে আমার দিকে পেছন ফিরে বলল, নয়া পাড়া যাচ্ছি।
কেন? এর উত্তর শুনতে পেলাম না, ততক্ষণে স্রোতের টানে ডিঙিটা অনেকটা দূরে ভেসে গেছে।
সেই ভেসে যাওয়া ডিঙি থেকে আমার দিকে ছুটে আসা ওর সম্মতিসূচক সুমিষ্ট হাসিটি মুহূর্তেই যেন যেন চিরঅম্লান হয়ে গেঁথে গেল আমার হৃদয় গভীরে। সেদিনই প্রথম অনুভব করলাম— সেও বুঝি ভালোবাসে আমারে!
ভাবতেই চিত্ত দুলে উঠেছিল নতুন অনুরাগে, নিরব অভিযোগে আর অভিমানী প্রেমে। এতদিন ভাবতাম আমারই বোধহয় ভালো লাগে ওকে।
কিন্তু একই অনুভূতির অপর পাশে সেও যে আমার দিকে বদ্ধমূল ছিল— এভাবে স্পষ্ট বুঝতে পারিনি আগে।
তবে, যে যার মতো বুঝে নিয়েছি বটে, কোনো দিনও আমরা পরস্পরকে মুখ ফুটে তা বলিনি।
আমার রোমান্টিক কল্পনায়, ভাবনায় নিত্য তার আসা-যাওয়া ছিল। কতদিন কল্পনায় ভেবেছি, কোনো এক সন্ধ্যায় হঠাৎ যদি ওর সঙ্গে দেখা হতো আমাদের নির্জন কুয়োতলায়— নিশ্চয় আমি তার হাতে হাত রাখতাম, সেই জাদুস্পর্শে কেঁদে ফেলতাম অনায়াসে। হয়তো আমিও একইভাবে ওর কল্পনাজুড়ে ছিলাম তার মনের গভীরে সুপ্ত এক বাসনা হয়ে।
আমাদের সময়ে ভালোবাসা বা প্রেমবোধ যাই বলি না কেন, বর্তমানের মতো এত খেলো ও খোলামেলা ছিল না।
ছুঁয়ে দেওয়া, প্রকাশ্যে লাত্থি মারা, তুই-তুকারি— এসব আমাদের ভাবনায় আসেনি, শারীরিক বিদ্যা তো অস্পর্শ। সে যে মহাপাপ বলেই জানতাম।
হৃদয়ে মধ্যযুগ ধারণ করে— এমনি চিন্তাধারায় প্রবাহিত ভিন্ন এক সময়ের বাসিন্দা ছিলাম আমরা।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের প্লেটোনিক লাভে বিশ্বাসী আমরা তার মানসী কাব্যের ‘নিষ্ফল কামনা’ কবিতা মুখস্থ করে বেড়ে উঠেছি।
‘লও তার মধুর সৌরভ, দেখো তার সৌন্দর্যবিকাশ, মধু তার করো তুমি পান, ভালোবাসো, প্রেমে হও বলী— চেয়ো না তাহারে।’
এ ছাড়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রীকান্ত উপন্যাসের সেই চিরন্তন উক্তিও আমাদের মানসগঠনে ছায়া ফেলেছিল।
মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে চেয়েছি—
‘বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না‚ দূরেও ঠেলে দেয়।’
মানুষকে কাছে পেলেই কেবল ভালোবাসা হয় না।
একাকিত্ব সময়ে কারও স্মৃতি-সমুদ্রের একটি নুড়ি থেকেও ভালোবাসার অনন্ত আলো ঠিকরে বেরোয়।
দুই.
এই সময়টায় আমি তখন মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজের এইচএসসি মানবিক শাখার শিক্ষার্থী।আমার সহপাঠী বিজ্ঞানে।
কিছুদিন ক্লাস করার পরেই মহান মুক্তিযুদ্ধের দামামা বেজে উঠল অকস্মাৎ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আত্মস্থ করেই আমাদের গড়পাড়া গ্রামের অধিবাসী— রাজধানী ঢাকার চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী যারা ছিলেন, দলে দলে ফিরে এলো গ্রামে, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে এই যুদ্ধে।
কেমন যেন উৎসব উৎসব মুহূর্ত চারদিকে, গ্রাম-জীবনের ক্ষুদ্র ও অন্ধকার গলিতে হঠাৎ যেন অজানা আনন্দের জয়ধ্বনি বেজে উঠল। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের রণসংগীতের সুরে সুরে।
চল্ চল্ চল্!
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল,
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
চল্ রে চল্ রে চল্॥
চল্ চল্ চল্॥
আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে, বহির্বাটির বাংলা ঘরে বসে খণ্ড খণ্ড জটলা করে আগত ঢাকাবাসীর মুখ থেকে সেইসব গল্প শুনছে উদ্বিগ্ন সকল গ্রামবাসী।
যুদ্ধ শুরু হলে কার কী করণীয় সেসব নিয়ে আলোচনা করছেন আমার আব্বা। আব্বাও তার বকশী আর্ট প্রেসের দায়িত্ব ম্যানেজারের কাঁধে ফেলে চলে এসেছেন দুদিন আগে।
বুঝতে পারলাম আরপি সাহার মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজে আপাতত ক্লাস না করলেই চলবে। দেশের জন্যে প্রাণপণ যুদ্ধে শরিক হতে হবে যেকোনো মূল্যে।
ইতোমধ্যে কলেজ বন্ধ ঘোষণা হয়েছে।
আমার প্রাইমারি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির সহপাঠী চানমিয়া যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানালো আমাকে। নবম শ্রেণির পরে সে আর পড়েনি। বাবা ভাইকে কৃষিকাজে সহযোগিতা করছে।
দিনের বেলা ক্যারম খেলতে আসে আমাদের বাড়িতে, দূরসম্পর্কের আত্মীয়তাসূত্রে।
খেলতে এসে আমার সঙ্গে আলোচনা করে কোথায় কীভাবে ওদের ট্রেনিং হচ্ছে— অবসরপ্রাপ্ত আর্মি অফিসার আমাদের জমাদ্দার পাড়ার লেবুভাই ওদের ট্রেনিং দিচ্ছে।
শুনে নিশ্চিত হলাম।
সরাসরি রণাঙ্গনে আমাকে যেতে দেবে না মা-বাবা দুজনেই। কাজেই আমি আমার অপর সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মুক্তিযুদ্ধের সাংগঠনিক কাজে যুক্ত হয়ে পড়লাম।
আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আর এক সহপাঠী ইউনুস নিঃশব্দে বাড়ি থেকে সরাসরি যুদ্ধে চলে গেছে, কোথায় কোন সেক্টরে গেছে কাউকে বলে যায়নি।
কোনো কোনোদিন দিনের বেলা চানমিয়া ক্যারম খেলতে আসে আমাদের বাড়িতে। রাতে যায় অপারেশনে। মুক্তি যুদ্ধের মাঝামাঝি সময় থেকে কোনো কোনো রাত্রে মুক্তিযোদ্ধারাও আমাদের বাড়িতে আসত আশ্রয়ের জন্যে।
তখন মা আর আমি রান্না করতাম, আব্বা পাহারায় থাকতেন।
রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে আব্বা টাকা-পয়সা দিতেন তাদেরকে।
ভোরের আলো ফুটবার আগেই চলে যেতো সবে।
প্রেস বন্ধ করে আব্বা বেশিদিন বাড়িতে থাকতে পারতেন না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলে যেতেন ঢাকায়।
আব্বার উপার্জন না থাকলে আমরা খাব কী?
আমাদের বাড়িটিতেও শহর থেকে আসা বিস্তর আত্মীয়স্বজনের সমাগম।
তাদের তিনবেলার খাবার জোগাড় করতে মা হিমশিম খাচ্ছিলেন। আব্বা ঢাকায় তখন।
হঠাৎ রক্তশূন্যতায় মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে, আমার খালু উপায়ান্তর না দেখে মাকে সাইং করে মানিকগঞ্জ নিয়ে যায়, সেখান থেকে পরে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নিয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।
আব্বা মায়ের কাছে থাকেন কিন্তু প্রেস অচল হয়ে পড়ছে।
আমাকে খবর পাঠালেন আব্বা ঢাকা যেতে, মায়ের সেবাযত্ন লাগবে।
পাকিস্তান আর্মির চোখ এড়িয়ে কীভাবে ঢাকা যাব!
ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেলাম।
পরে কালো রোরকায় আপাদমস্তক ঢেকে মানিকগঞ্জ গিয়ে একটা বাসে চাপলাম। সারা পথ দোয়া-দরুদ পড়ে পড়ে অবশেষে পৌঁছে গেলাম সরাসরি মিটফোর্ড হাসপাতালে।
মায়ের মুখের দিকে তাকাতে পারছি না।
সারা চোখমুখ, হাত-পা সবই হলুদ হয়ে গেছে। মাকে মনে হচ্ছে একটি হলুদ পাখির ছানা। আহা, মায়ের দিকে যতবার তাকাই, চোখের জল শুধু লুকাই।
সাতদিন হাসপাতালে থেকে মাকে প্রায় সুস্থ করে তবে তাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসি।
বাড়িতে ফিরে শুনি চানমিয়া সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হয়েছে। আরিচাঘাট থেকে যখন পাকবাহিনী ফিরে যাচ্ছিল ঢাকার দিকে— মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সড়কের বিপরীতে মানোরা গ্রামে অবস্থান নিয়ে আক্রমণ করেছিল ওরা।
পাক আর্মির পাল্টা গুলিতে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারিয়েছে চানমিয়া।
আমাদের প্রাইমারি স্কুলের প্রাঙ্গণেই তাকে শহীদি মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশে জন্ম ও বিকাশের মধ্যে দিয়ে ভীষণই অস্থির ও অজেয় কেটে গেছে আমাদের অষ্টাদশী সময়।
এরপর সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাস করে তবে (১৯৭২–৭৩) সেশনে ভর্তি হয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে।
জীবন থেকে হারিয়েছি যেমন, পেয়েছি অনেক অনেক কিছু।
রজনীকান্ত সেনের গানের বাণীতে লেখা আছে যেন আমারই কথা/ আমাদের কথা।
‘আমি অকৃতি অধম বলেও তো কিছু
কম করে মোরে দাওনি
যা দিয়েছ, তারি অযোগ্য ভাবিয়া
কেড়েও তা কিছু নাওনি।’
আশীষ কুসুম ধরি নাই শিরে
পায়ে দলে গেছি চাহি নাই ফিরে
তবু দয়া করে কেবলি দিয়েছ
প্রতিদান কিছু চাওনি॥