প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৬ ১০:৫১ এএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৬ ১৭:৪৯ পিএম
প্রতীকী ছবি
বুনোফুল
সিকতা কাজল
কষ্টরা বুনোফুলের মতো।
পায়ের তলায় নরম কষ্টরা পড়ে থাকে।
রোদের ভিতর বয়ে যাওয়া বাতাসকে ধরা যায় না।
রোদের সাথে ঝুলে থাকে ছায়া মানব
সূর্যের ক্লান্ত আলোর সাথে ধেয়ে আসে আঁধার।
নিকষ অন্ধকারে জোনাকিরা আলো ঢালে পাতার ফাঁকে
কুকুরের ঘেউ-ঘেউ ডাকে, চমকে ওঠে প্রাণ
সাইবেরিয়ার বরফ জমা ভালোবাসা, জল হয়ে গড়িয়ে পড়ে
সাহারা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে মরুময় মন নিয়ে
আমরা সবুজকে ডাকি গোপনে- অরণ্য যখন মেঘের
আঁচলে ঢেকে যায়, পাখিরাও লীন অসমাপ্ত গল্পের ক্যানভাসে
আমরা হেমন্তের উঠোনে নাড়া পোড়াই
নিজেকে রোজই সিদ্ধ করি।
আমাদের মুখগুলো সতেজতা হারায়।
ধানের পাতায় পূর্ণতার নিজেরই মুখ খুঁজি
অতঃপর সিদ্ধ হতে থাকি অনবরত
কুশল
নিজাম বিশ্বাস
থমকে দাঁড়ায় রাস্তা, পথে
ছিনাল মেয়ের মতো আমাকে জিজ্ঞেস করে-
তোমাকে দেখে না কেনো আর?
কতদিন আমিও যে জানি না তোমার কুশলাদি-
আমাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে
এখনও সে খবর জানেনি কেউ-
শহরের কানাগলি, রাস্তা, ফুটপাত
যার সাথে যখনই আমার দেখা হয়, বলে,
তোমাকে দেখে না কেনো আর?
দীর্ঘ নিঃশ্বাসের মতো পথে পথে
পড়ে থাকে মেহগনি পাতা,
আমাকে শাসায় বৃদ্ধ হিজল গাছটি, তার
নুয়ে পড়া ডাল করে ভীষণ চপেটাঘাত-
আবার শহরে ফিরে আসো তুমি
বিষাদি রাস্তায় হেঁটে চলো হেলেদুলে,
নিবে গেলে সব হ্যালোজেন
জোনাকির ঝাঁক নিয়ে আমিও হাঁটবো পাশে-
অপেক্ষা
যাযাবর জিয়া
অপেক্ষায় থেকে থেকে
সবুজ সমেত ডালপালা
আগুনের লাকড়ি হয়ে গেছে।
আমি শুধু পুড়ি, পুড়ি আর পুড়ি।
ভরা যৌবনা নদী শুকিয়ে গেছে শ্রাবণ মাসেই।
সেখানে না আসে জোয়ার, না হয় ভাটা।
তারপরেও অপেক্ষায় থাকি
একবুক ভালোবাসার।