প্রচ্ছদ রচনা
হাসনাত মোবারক
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৬ ১০:২৮ এএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৬ ১৩:০৫ পিএম
চিত্রকর্ম : জেকব লরেন্স
একবার বিদ্যাসাগরের বই চুরি গেল। সেটি ছিল সংস্কৃত ভাষার দুষ্প্রাপ্য এক বই। যিনি ধার নিয়েছিলেন তিনি আর ফেরত দেননি। এমনকি সে কথা স্বীকারও করছেন না। বিদ্যাসাগর তখন পড়ে গেলেন মহা মুশকিলে। তিনি সেই বন্ধুকে অভিযুক্তও করতে পারছেন না। তবে শেষ পর্যন্ত বইটি তার ঘরে এসেছিল ভিন্ন এক উপায়ে। সেই ঘটনাটি বলা যাক। সেই বন্ধু বইটি বেচে দিয়েছিলেন পুরনো বইয়ের দরে। বইঅলার কাছ থেকে আবার তা কিনে আনেন বিদ্যাসাগর। বইঅলাদের মাধ্যমে এভাবেই বই কেনাবেচার কাজ চলত ছাপাখানা আসার দীর্ঘকাল পরও। আজকে যেমন বই ছাপার আগে অনলাইনে প্রচার করে বিক্রির জন্য ক্রেতা-পাঠকের কাছ থেকে অগ্রিম বুকিং নেওয়া হয়। কিন্তু সেকালে বই বিক্রি করা এত সহজ ছিল না। কলকাতার বটতলার বহু প্রকাশক বই বিক্রির জন্য ক্যানভাসার নিয়োগ দিতেন। তারা বইয়ের বোঝা কাঁধে করে নিয়ে কলকাতার অলিগলি শহরতলি থেকে দূর গ্রামেও চলে যেতেন বই বেচতে। শুধু বই বিক্রি নয়, পয়সা দিয়ে অথবা ছাপানো বইয়ের বদলে গ্রামের লোকের কাছ থেকে তারা সংগ্রহ করে আনতেন প্রাচীন পুঁথি। পুরাতন দোকানের বই নিয়ে জর্জ বার্নার্ড শ'রও একটি মজার ঘটনা আছে। এই লেখক অটোগ্রাফসমেত তার এক বন্ধুকে বই উপহার দিয়েছিলেন। শ' সেই বই পুরাতন দোকানে গিয়ে দেখতে পেলেন। তখন তিনি বইটি কিনে নিয়ে আবার সেই বন্ধুকে পুনরায় অটোগ্রাফ দিয়ে পাঠান। শ'র মতো পুরাতন বই নিয়ে এ রকম অনেক ঘটনা রয়েছে। সে ফিরিস্তি আপাতত তুলে রাখি। ফিরি বই বিক্রির প্রসঙ্গে।
এ উপমহাদেশের উল্লেখযোগ্য বাংলা বইয়ের বাজার কলকাতার কলেজ স্ট্রিট। এই কলকাতাতে তেমন বইয়ের দোকান নেই দেখে ১৮৫৭ সালে জেমস লং আফসোস করেছিলেন। কলকাতার এই কলেজ স্ট্রিট সম্পর্কে অভিজিৎ নন্দী 'বইপাড়ায় বিদ্যাসাগর' শিরোনামের এক নিবন্ধে লিখেছেন, যুগ বদলেছে, মুদ্রণ-প্রকাশনে ঘটে গেছে আমূল পরিবর্তন। আজ কলেজ স্ট্রিটে বইপাড়ায় দাঁড়িয়ে দেড়শ-দুশ বছর আগেকার বই বিক্রির কথা ভাবতেও অবাক লাগে। কলেজ স্ট্রিটের সহস্রাধিক প্রকাশক ও অগুনতি পুস্তক বিক্রেতার দিকে তাকিয়ে হয়তো অনেকের মনে হতে পারে এই অঞ্চল প্রথম থেকেই পুস্তক ব্যবসার পীঠস্থান। কিন্তু বাংলা মুদ্রণের পা চলার শুরু অন্যত্র। তবে কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়ার ইতিহাসও কিছু অর্বাচীন নয়। একসঙ্গে না হোক, বিচ্ছিন্নভাবেও এ অঞ্চলে বা এর আশপাশে উনবিংশ শতকের গোড়া থেকেই পাই ছাপাখানার শব্দ।'
মীজানুর রহমান 'ঢাকা পূরাণ'-এ লিখেছেন, 'সেকালে বইপাড়া বলতে বাংলাবাজার আর লয়াল স্ট্রিটকে বোঝাত। পুরনো বইয়ের জোরটা ছিল বাংলাবাজারেই।' সেই বাংলাবাজারই বা কবে আজকের রমরমা বাংলা বইয়ের বাজার হয়ে উঠল! ঢাকায় ছাপাখানা গড়ে ওঠে ১৮৫৭ সালের পর। এর প্রমাণ পাওয়া যায় হরিশচন্দ্র মিত্রের বীর-বাক্যবলীর প্রথম খণ্ডের লেখকের নামের পাশে ঢাকার বাবুবাজার লেখা বিজ্ঞাপন দেখে। হরিশচন্দ্র ছিলেন 'কবিতা কুসুমাবলি' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক। পত্রিকাটির সম্পাদক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের 'মোহভোগ' কাব্যগ্রন্থটি ঢাকার বাঙ্গালযন্ত্র থেকে প্রকাশ হয় ১২৭৭ সনের মাঘ মাসে। ইংরেজি সাল হিসাব করলে ১৮৭০ সাল। আজকের দিনে বইয়ের প্রিন্টার্স লাইনে বইয়ের প্রাপ্তিস্থান উল্লেখ করাটি বাধ্যাতামূলক। সেকালে সৃজনশীল গল্প, কবিতা ও উপন্যাস বা সৃজনশীল বই বিক্রির জন্য তেমন দোকানও হয়তো ছিল না। তবে ঢাকা থেকে 'কবিতা কুসুমাবলি'তে উল্লেখ থাকতো প্রাপ্তিস্থান বাংলাবাজার। আমাদের দেশে বই বিক্রির সবচেয়ে বড় জায়গা 'বাংলাবাজার'। বিভিন্ন ব্যক্তির আত্মজীবনী ঘেঁটে যে দুয়েকটি লাইন পাওয়া যায়, এটুকু বাংলাবাজারের পুঁজি।
পাল্লা দিয়ে নয়, তবে পশ্চিমবাংলার পাশাপাশি পূর্ববাংলাতেও বই ছাপা হতে থাকে। তবে বইয়ের বাজার হিসেবে প্রথমে নাম আসে কলকাতার কলেজ স্ট্রিট। এর পরে ঢাকার 'বাংলাবাজার'। এই স্থানটি বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রকাশনার মোকাম। এই জায়গাটিকে 'বইবাড়ি বাংলাবাজার' নামটি দিয়েছেন কথাসাহিত্যিক বুলবুল চৌধুরী। তিনি চোখের সামনে বাংলাবাজারকে রমরমা বই বিকিকিনির স্থান হয়ে উঠতে দেখেছেন।
ঢাকার খ্যাতনামা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান 'খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানি'। এটি ১৯৬৬ চালু হয়। এর আগে এই প্রকাশনার প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ মোসলেম খানের পুস্তক প্রকাশন, বাঁধাই এবং মুদ্রণ সরবরাহের ব্যবসা ছিল কলকাতাকেন্দ্রিক। এক আলাপচারিতায় খান ব্রাদার্স অ্যান্ড কোম্পানির বর্তমান স্বত্বাধিকারী কেএম ফিরোজ খান বলেন, আমাদের আদিবাড়ি ছিল মানিকগঞ্জে। ঢাকার চেয়ে কলকাতায় আমাদের যাতায়াত সুবিধা ছিল। তা ছাড়া জীবিকা ও পেশার পরিসরে কলকাতা ছিল বড় জায়গা। দেশভাগের পরও মানুষজন ছিল কলকাতাকেন্দ্রিক। ঢাকার বাংলাবাজার প্রকাশনা ও বই বিক্রির স্থান হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর অনেকেই আমাদের মতো অনেকেই এখানে চলে আসেন।'
বাংলাবাজার থেকে বই বিক্রির দোকান গড়ে উঠতে থাকে জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতেও। চলতি শতকের প্রথম দশকেও জেলা শহরে সৃজনশীল বইয়ের দোকানগুলোতে পাঠকের উপস্থিত ছিল। প্রায় এক যুগ আগে শুরু হয়েছে অনলাইনে বই বিক্রি। এ অদৃশ্য মাধ্যমের কারণে অবশ্য অনেকটাই ম্রিয়মাণ মফস্বলের বইবাজার। চলতি শতকের প্রথম দশকেও জেলা এবং উপজেলাগুলোতেও বইয়ের দোকান দেখা যেত। এমনকি গ্রাম পর্যায়ের কলেজগুলোর সামনে অন্তত একটা হলেও বইয়ের দোকান থাকত। সেখানে গল্প, উপন্যাস, কবিতাসহ সৃজনশীল বইয়ের সেলফ রাখা হতো। হাল আমলে অনলাইনে বই বিক্রি ও কেনার প্রভাবে স্থানীয় অনেক বইয়ের দোকান হারিয়ে গেছে।
অনলাইন প্লাটফর্মের ফলে বই বিক্রি বেড়েছে! এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয় দীনেন্দ্রকুমার রায়ের 'জাল মোহান্ত' নামের বইয়ের প্রিন্টার্স লাইনের দিকে তাকালে। এ গ্রন্থটির দাম ছিল ২ টাকা। প্রথম সংস্করণে ছাপা হয় ৩০০০ কপি। তখন বঙ্গভারতে জনসংখ্যাই বা কত ছিল! আর অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন মানুষের পরিমাণই বা কত! ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা হয়নি। বর্তমানে বই বিক্রির এত মাধ্যম থাকার পরও তুলনামূলক ক্রেতা বা পাঠক বাড়েনি।
আজকে যেমন লেখক বই লিখছেন, পাঠক তা দোকান থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। সে যুগে এমনটি ছিল না। বিভিন্ন ছাপাখানার মালিক বই ছেপে বেচার জন্য পত্রিকার পাতায় বিজ্ঞাপন দিতেন। ছাপাখানাই তখন ছিল বই বিক্রির স্থান। কখনও বা লেখকের বাড়ি থেকেও বই বিক্রি হতো। 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা ঘাঁটলে এ রকম বহু বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়। সে রকম একটি বিজ্ঞাপন, যা ছাপা হয়েছে ২০ ফেব্রুয়ারি ১৮১৯। ১০ ফাল্গুন, ১২২৫ 'পুস্তক ছাপান।... যে দেশে ছাপার কৰ্ম্ম চলিত না হইয়াছে সে দেশকে প্রকৃতরূপে সভ্য বলা যায় না এই দেশে পূর্ব্বকালে কতক ২ লোকের ঘরে পুস্তক ছিল এবং অল্প লোক বিদ্যাভ্যাস করিত অন্য ২ সকল লোক অন্ধকারে থাকিত এখন এই দেশে ক্রমে ২ ছাপার পুস্তক প্রায় ছোট বড় ঘর সকল ব্যাপ্ত হইতেছে।
গত দশ বৎসরের মধ্যে আন্দাজ দশ হাজার পুস্তক ছাপা হইয়াছে কিন্ত সকল পুস্তক এক স্থানে নাই নানা লোকের ঘরে বিলি হইয়াছে এবং যে ব্যক্তি এক পুস্তক লইয়াছে তাহার অন্ত পুস্তক লওনের চেষ্টা জন্মে এই রূপে এ দেশে বিদ্যা প্রচলিত হইতেছে।' [শ্রীব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সংকলিত ও সম্পাদিত সংবাদপত্রে সেকালের কথা, প্রথম খণ্ড, ১৮১৮-১৮৩০]
ছাপাখানা থেকে বই চলে আসে বই বিক্রির নির্দিষ্ট স্থান এমনকি অভিজাত বিপণিতেও। তাতে পাঠক কি বেড়েছে! প্রশ্ন থেকে যায়। একসময় এপার বাংলা থেকে ব্যবসায়ীদের সশরীরে উপস্থিত হতেন বই কেনার জন্য। বাছাই করে বই কিনতেন। দুই-চার লাইন পড়ে ভেতরে লেখা পড়েও কিনতেন পাইকাররা। যাচাই-বাছাই করে কেনার অম্ল-মধুর ঘটনা রয়েছে কলেজ স্ট্রিটের ডি. এম. লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা গোপাল দাস মজুমদারের সঙ্গে। তিনি ছিলেন অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ। ক্রেতাদের সামাল দিতে নিজেই বেসামাল হয়ে যেতেন। একবার দুই পাইকার গেছেন তার লাইব্রেরিতে। তারা বই দেখে বেছে কিনবেন। দুজনের হাতে বই বহন করার ব্যাগ। তারা ভেতরে ঢোকার আগে গোপাল তার ভাই অমূল্য দাসকে বলেন, 'এরা বই দেখে কিনবেন, সব নতুন বই দেখাও। আর সাবধান থেকো, এদের হাতে কিন্তু দুটি থলে আছে! ক্রেতা দুজন তার কথা শুনে গেলেন চটে। তার মানে? আমরা বই চুরি করব? থলে আছে, সাবধান- এসব কথার মানে কী? গোপাল দাস তখন বললেন, কী মুশকিল- আপনাদের তো কিছু বলিনি, অনেকেরই এই বদভ্যাস আছে, তাই ভাইকে সাবধান করেছি আর কী!'
বইয়ের পাঠক তৈরি এবং বই বিক্রির ইতিহাস ঘাঁটলে উঠে আসে কলেজ স্ট্রিটের নামজাদা বইয়ের দোকান ছিল শ্রীগুরু লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা ভুবনমোহন মজুমদারের নাম। আজকের বাংলাদেশের চাঁদপুরে ছিল তাদের বাড়ি। প্রথম জীবনে তিনি সাইকেলে চড়ে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ঘুরে ঘুরে গ্রাহক জোগাড় করতেন। ভুবনমোহন মজুমদারের পাঠকের দোরগোড়ায় গেছেন বই নিয়ে। এর অনেক দিন পর বাংলাদেশের ঢাকা শহরে বই এবং মাসিক সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন কাজী আনোয়ার হোসেন। এই দেশে কাজী আনোয়ার হোসেন 'সেবা' প্রকাশনী এবং 'রহস্য' পত্রিকার মাধ্যমেই পাঠক তৈরির সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। এক মলাটে তিন-চারটি বই। সুলভ মূল্যের 'সেবা'র পেপারব্যাক এবং নিউজপ্রিন্টের বইগুলো পৌঁছে যায় দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে। উনিশ এখনও বাংলাদেশের রেলওয়ে স্টেশনের বই এবং স্টেশনারিতে শোভা পাচ্ছে সেবার বই। এখনও একুশে বইমেলায় সবচেয়ে বেশি পাঠক খোঁজে 'সেবা প্রকাশনী' বুকস্টল। কিংবদন্তিতুল্য লেখক এবং সম্পাদক কাজী আনোয়ার হোসেন এক বইয়ের ভূমিকায় লিখেছেন, 'ভালো কাগজে ছেপে ভালো বাঁধাই করে প্রকাশ করলে হয়তো শোভন হতো, কিন্তু বইয়ের যা মূল্য দাঁড়াত, তাতে গগনচুম্বী দ্রব্যমূল্যের চাপে ভারাক্রান্ত বাঙালি পাঠককে আনন্দের পরিবর্তে দুঃখই দেওয়া হতো বলে মনে করি। তাই অপেক্ষাকৃত সস্তা কাগজই বেছে নিলাম। সস্তা কাগজে ছাপা বলেই এসব লেখাকে সস্তা দরের বলে উড়িয়ে না দিলে আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।' পাঠক এবং লেখক তৈরিতে যেমন ভূমিকা রেখেছেন, তেমনি প্রকাশনার ক্ষেত্রে পেশাদারত্বের পরিচয় দিয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন কাজী আনোয়ার হোসেন।
এরপর আসে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আবির্ভূত 'মুক্তধারা' প্রকাশনার প্রকাশক চিত্তরঞ্জন সাহার নাম। জানা যায়, চিত্তরঞ্জন তার পুঁথিঘর বা মুক্তধারার বিলবোর্ড দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গাছের ডাল বা হাটবাজারের দেয়ালে টানানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।
এখন ফিরি বই বিক্রির নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলির কাছে। গ্রামে গ্রামে বই ফেরি করলে বেশি সংখ্যক বই বিক্রি হয়, সে প্রমাণ পেয়েছি নিজের অভিজ্ঞতাতে। এক-দেড় দশক বগুড়া শহর থেকে শুরু হয়েছিল আমার বই বিক্রির পেশা। তবে আমাদের বই বেচার মাধ্যম কলকাতার সেই ক্যানভাসারদের মতো ছিল না। এক পীরের বাৎসরিক ওরস মাহফিল বসেছে। সেখানে বিপুল জনসমাগম ঘটে। কিছুসংখ্যক বই টেবিলে সাজিয়ে বসে পড়ি সেই ওরস মাহফিলে। সেই বইগুলো ছিল কম দামি এবং তার বেশিরভাগই পুরাতন, যা নতুন বই হিসেবে কিনতে গেলে তিনগুণ টাকা বেশি লাগত। দু-চারটি বই ছিল দামি। সেগুলো বিক্রি করতে পারিনি কারও কাছে। তাদের কাছে লেখক এবং কাগজের মান উন্নত বলেও তাদেরকে আকৃষ্ট করা যায়নি। সেই যাত্রায় যাদের কাছে বই বিক্রি করেছিলাম, পরবর্তীতে তারা নতুন বই কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এরপর ২০১৭ সালের অক্টোবরের ২৫ তারিখ। সেদিন রাজশাহীর পবা উপজেলার দারুশা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বসেছে হাট। চারদিকের গ্রাম থেকে মানুষজন এসেছেন সেই গ্রামীণ হাটে সওদা করতে। আমরা হাটের এক কোণে বইয়ের স্টল সাজিয়ে বসে পড়ি। হাটুরেদের মধ্যে অনেকেই বাজার-সওদার ফাঁকে ফাঁকে বইয়ের স্টলের সামনে এসে দাঁড়ালেন। বই তারা উল্টেপাল্টে দেখেন। সেদিন তেমন একটা বই বিক্রি হয়নি। যে দু-চারজন কিনেছিলেন, সে বইগুলোর কাগজের মান ছিল নিম্ন। ছাপা খরচও কম। আর বাকি বই সম্পর্কে তাদের অভিযোগ দাম বেশি! এ ছাড়া তাদের পছন্দের বইও নিয়ে যাওয়া হয়নি।
হাটুরেদের কথা শুনে কলকাতার সেই 'বটতলা'র কথা আবারও মনে পড়ল। বটতলার বই নিয়ে নানান নিবন্ধ লেখাও হয়েছে। জানা যায়, বটতলা থেকে প্রকাশিত বইয়ের দাম ছিল কম, ছাপার মান অপেক্ষাকৃত নিম্ন। তবে পাঠক তৈরিতে বটতলারই ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।