ফারুক মাহমুদ
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪৯ পিএম
বসন্তের ফুল
ফারুক মাহমুদ
আমি বললামÑ
‘কুয়াশা ঝরুক হেসে, বৃষ্টিদের আসা-যাওয়া উচ্ছ্বসিত হোক
নিয়মিত হোক রৌদ্রঝিরি
বাতাসের সুশৃঙ্খল ঘ্রাণ...
তখন সহজ হবে কলিদের ফুল হয়ে ওঠা
তাকাবে নিবিড় চোখে, পাপড়ির সরল ভাঁজে শুভশিহরণ
তবে, এটা ঠিক…
রঙের প্রসঙ্গ এলে, প্রশংসার পঞ্চমুখ ম্লান হয়ে যাবে’
এমন বয়ান শুনেÑ তোমার ঠোঁটে প্রকাশ্য হাসি
বললে, ‘সব ঋতুই কুসুমের ডালি নিয়ে আসে
শুধু, বসন্তের খ্যাত ও অখ্যাত সমুদয় ফুল
ঋতুসূত্রে হয়ে থাকে নানা রঙে যথেষ্ট রঙিন
কৃষিজ গোলাপ
শিবলী মোকতাদির
আপাতরুক্ষ, মূল ছিন্ন, মাটি লাল
গান হয়ে যে-পথ গেছেÑ
গায়নভঙ্গিমা থেকে বেরিয়ে,
তুমি গেছ ঠিক তার উল্টো দিকে
প্রেক্ষিতে অনুর্বর মুদ্রানীতি নিয়ে
মুখ-থুবড়ে পড়ে আছে কৃষিশুমারি
বৃন্দভয়ে স্তিমিত হয়ে আসছে
ঘটনাভিত্তিক কবিতা লেখার দিন
অনেক রেষারেষি হলো, বাইশে শ্রাবণ গেল
বসন্তে চর্চিত বদনাম বাতাসে এলোমেলো
ঝাঁপ বন্ধ করার আগে সৃজনের দোহাই দিয়ে
কৃষিজ গোলাপ দিও
বিদ্রূপরসের আভাস দেখা দিল বলেই তো
এ-দেশের মাটিতে ইতিহাসঋদ্ধ ঘাসে
নতুন করে ফুল ফুটল!
তুমি
মোমিন রহমান
তুমি কেমন করে তুমি হয়ে ওঠো
জানি না
বর্ণের কালোয় হেসে ওঠো আলো হয়ে
বুকের বাম পাশে ফুল
চেতনার আকাশে জ্বলে ওঠো তারা হয়ে
জানি না
কেমন করে কণ্ঠে তোমার হাজার বছরের ধ্বনি
প্রতিধ্বনি তোলে
চোখে মোনালিসা দৃষ্টি
সর্বাঙ্গে চিরসবুজ রূপের ছায়া মূর্ত হয়ে ওঠে
জানি না
কেমন করে অক্ষরের সারির ভেতর দিয়ে
মাথা উঁচু করে যাও হেঁটে বন্ধুর পথে
কিশোরীর চঞ্চল পায়ে ওঠো নেচে
ছন্দময়
হয়ে ওঠো মানসী, আরাধ্য শব্দপ্রতিমা আমার
জানি না
শুধু জানি
পরিশ্রমী বাবুই পাখির মতো ভালোবাসি তোমাকে।
মৌন সাঁকো পেরিয়ে
ঋজু রেজওয়ান
মুহূর্তেই ধরেছি…
উদোম অম্লান আলোÑ
ছলকে... পুলকে
চুপশালে
ঝলক দেখব বলে
মৌন সাঁকো পেরিয়ে
নৌ ম্যাপ এঁকেছি।
ঝলসে গেছে যে, রাত
অন্ধকার ভেদ করে
যে আলোটুকুনÑ
তার পিঠ বেয়ে
চলে গেছে আদর, অনাদরে
খুঁজি ফিরিÑ
শ্বাসকষ্টের সে বেদনায়।
তাই রোদ পৃষ্ঠায়Ñ
নেই কোনো নেমপ্লেট
বিজ্ঞাপনও নেই
কাটাতে চেয়েছি, দূরÑ
বনগ্রামে
ঝাঁঝি ডাকা সান্ধ্য সমে
অবাক বিস্ময়ে।
কোনো এক চালিশার
সামনে দাঁড়িয়ে
অব্যক্ত কথার
ফোটানো দিগন্তে
টলটলানো প্রতিফলন
যত না খুঁজেছি
তত হারিয়েছি, স্থান!
তবু, সমাপ্ত রাত্রিরÑ
খোলে... গারো পাহাড়ের
সবাক বিস্তারে
মন খারাপ হলেই
বসে... বসে কার
অন্তরাত্মায়Ñ
হারাচ্ছে... গাঙ্গেয় এই মাঝি।
বিবর্ণ অক্ষর
সজল রায়
শেকড়ের ইতিকথা বিস্মৃত হয়েছেÑ
কাটা ঘুড়ি। পড়ে আছে শুধু প্রতিবিম্ব
যেন ছায়ার কঙ্কাল। বৈকালি কিরণÑ
ফিরে গেছে সেই সন্ধ্যা সড়কে। আরও
অসংখ্য মেহগনির মৃত্যু দেখে দেখে
আমাদের এখন এ শামুক-জীবন!
কবিবউ কুড়োচ্ছে যে অই সন্ধ্যা-বকুল!
কোথাও পড়ছে ঝরে নীলাভ আঁধারÑ
নীলকণ্ঠ পাখি; আজকে, দরজায় দেখো
বিস্ফারিত সংক্রান্তি; মলিনতা চৈত্রেÑ
অধর-পুষ্পে, আনাজে! তবুও বিবর্ণÑ
অক্ষরে লেখি দ্রোহের কুসুম। যদিও
তুমি এবং আমি আজ অতি জলমগ্ন...
আর কণ্ঠে ক্রুশবিদ্ধ এ পৃথিবী; আহা!