টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৩৩ পিএম
আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৩৮ পিএম
ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণ আগামীকাল রবিবার থেকে নয় মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার শেষ হচ্ছে চলতি মৌসুমের ভ্রমণ সময়।
সাধারণত প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি থাকে। তবে এ বছর সরকার ভ্রমণের সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন বলেন, “আজকে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ সব পর্যটকদের নিয়ে আসবে। কাল থেকে আর কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। সরকার যদি পরবর্তীতে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান বলেন, “অনেক মানুষ সময়মতো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। অধিকাংশ ব্যবসায়ী লাভের চেয়ে বেশি লোকসানে পড়েছেন। অতীতে দ্বীপে এমন সংকট দেখা যায়নি। আজ থেকে পর্যটক আসা বন্ধ হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ শুরু হবে। নির্বাচন শেষে যদি আবার পর্যটন চালু করা হয়, তাহলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন।”
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, “দ্বীপের প্রায় সবাই পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত। হঠাৎ করে ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবার মধ্যে হতাশা কাজ করছে। যদি সময়টা আর একটু বাড়ানো যেত, তাহলে আগামী নয় মাস কোনোভাবে পার করা সম্ভব হতো।”
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেন্টমার্টিনে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ যেকোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। ভ্রমণের সময় পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন করা যাবে না। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাক্স সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।