মুশাররাফ করিম
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৫ পিএম
খালেদা জিয়া : সার্বজনীন প্রতিষ্ঠান
মুশাররাফ করিম
না
রাজা না মন্ত্রী না কোনও যুদ্ধবাজ সেনাপতি,
আমার
সমস্ত উচ্চারণে উচ্চকিত
বেগম
খালেদা জিয়ার পবিত্র নাম।
উড়ন্ত
কবুতরের শুভ্র ডানা ছাড়া তার চোখে দেখিনি নীল নকশা,
শস্যের সবুজ দাবি ছাড়া মতলবের ছককাটা কাগজে নেই তাঁর সই।
রোদের
সোনায় বান ডাকা রাজপথ ফেলে
সুঠাম
মহলে বসেনি সে গোপন আঁতাতে।
মাথার
উপর একখণ্ড মেঘযুক্ত সুনীল আকাশ আর
পায়ের
পাতার নিচে সার্বভৌম কালো মাটি;
সামনে
বাংলাদেশের স্বাধীন মানচিত্রে
সূর্য
অঙ্কিত পতাকা,
চারপাশে
আবাল বৃদ্ধ বনিতা অর্থাৎ জনগণ আর জনগণ।
এই
নিয়ে তার স্বপ্ন, এই নিয়ে তার আশা, ভালোবাসা।
বেগম
খালেদা জিয়া মানে আকাশের সমান সাহস;
তাঁর
দুই হাত যেন ঈশা খাঁর ভারী তরবারি।
নতজানু
ক্রীতদাসের মতন লিখতে শিখেনি দাসখত।
টিভি
ও বেতারে প্রচারিত কঠিন ধমকও নোয়াতে
পারেনি তার গর্বিত মাথা।
ফুলের
বাগান ঘেঁষে যখন এসে থামল সারি সারি ট্যাংক
ঢেঁকির মধুর আওয়াজ স্তব্ধ হয়ে গেল বুটের নির্মম শব্দে,
বাঁশির
বদলে রাখাল দেখল সৈনিকের হাতে স্টেন,
পাখির
গান না শুনে শুনল লেফট-রাইট-লেফট।
তখন
সে ঘর ছেড়ে এসে দাঁড়াল ভয়ার্ত মানুষের পাশে।
খালেদা
জিয়া জানাল বন্দুকের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ।
গ্রাম
ভেঙে এলো কৃষক, শিল্প এলাকা থেকে কলমজুর
এলো
ছাত্র-জনতা, সওদাগরী অফিসের করুণ কেরানী,
কাগজের
নিষ্ঠাবান সাংবাদিক, শিক্ষক সুধীজন
কবি-সাহিত্যিক,
টোকাই আর পেশাজীবীর
মিলিত মোর্চায় প্রতিবাদমুখর হলো পবিত্র বায়তুল মোকাররম।
টেকনাফ
থেকে তেঁতুলিয়া, নারিন্দার গলি থেকে শিবালয়
যেখানেই
প্রতিবাদ, প্রতিরোধ-সংগ্রাম, সেখানেই দেখি
মিছিলের
পুরোভাগে এগিয়ে যাচ্ছেন
খালেদা
জিয়া আমাদের প্রিয় ম্যাডাম।
দুঃশাসনের
রক্তচক্ষু, অন্তরীণের জুলুম, বন্দুকের নল
প্ররোচিত
ট্রাক এমনকি ভলগার উপঢৌকন এবং
ডলার
নির্মিত ফুল,
বিড়লা-টাটার
রুপী, শিল্পপতির গিফ্ট
এই
সব হালুয়া রুটির টোপ তাঁকে নিয়ে যেতে পারেনি স্বার্থসিদ্ধির পথে
তাঁর দৃপ্ত পদভারে আজ টলমল টলমল করে রাজার বাড়ির রাজাসন।
হয়তো
একটু নতজানু হলে, একটু বুনলে
গণবিরোধী
জটিল জাল, ব্যাক ডোর দিয়ে
ঢুকে
গেলে ষড়যন্ত্রের প্রাসাদে
তাঁরও ভাগ্যে জুটতো রাজার করুণা,
অঙ্গুলি নির্দেশে হয়ে যেত চর দখল।
সেও
নির্বাচিত ঘোষিত হতো বিপুল ভোটে।
কিন্তু সে নয় জাতীয় বেঈমান,
জনগণকে
নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া থাকলেন অপ্রতিরোধ্য
আন্দোলনে।
কেউ
ডাকে বীরাঙ্গনা সখিনা, আবার কেউ কোরাজন
তাঁর
জন্যে যথাযোগ্য নয় এই সব পুরাতন বিশেষণ।
সে
নয় মাদার তেরেসা, কুইন কিংবা ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল
সারা
বিশ্বে খালেদা জিয়াই তাঁর একমাত্র পরিচয়।
পানশির উপত্যকায় সে রাইফেল কাঁধে বিদ্রোহী আফগান রমণী
কাম্পুচিয়ার
যুদ্ধরত গেরিলা, আরব ভূখণ্ডে মুক্তিকামী ফিলিস্তিনী
বিশ্ববাসীর
সামনে সর্বজনীন একটি প্রতিষ্ঠান।
দেশপ্রেমের চেয়ে স্বামী হারানোর বেদনা তাঁর কাছে আজ খুব বড় নয়,
এই
ইঞ্চি মাটির মমতা ছাড়া তাঁর মধ্যে নেই
বৈধব্যের
হাহাকার কিংবা মাতৃত্বের দোহাই, নেই
আখের
গোছানোর কূটকৌশল,
পরের
ছেলেকে ভালোবেসে ভালোবাসছে পেটের ছেলেকেই।
জনগণ
ছাড়া দেশি কি বিদেশি তার কোনো অস্ত্র নেই।
আণবিক
মারণাস্ত্র এফ সিক্সটিন মিগ ও মিরেজ
কার
সাধ্য তাঁকে রুখে? তমসা তিমির ভেদ করে
একদিন সে গন্তব্যে পৌঁছবেই।
অলিভ
রঙের কোনো কনভয় থামাতে পারবে না এই লংমার্চ।
স্বামীর
রক্তাক্ত সাফারী প্রাণের পতাকা হয়ে আকাশে উড়বেই।
এসো
আজ দশ কোটি ভাই-বোন তাঁর পিছে ঐক্যবদ্ধ হই
এসো
আজ সমস্বরে বলি বেগম খালেদা জিয়া সাহস সংগ্রাম সুন্দর,
তোমাকে
অভিবাদন, সশ্রদ্ধ সালাম।
[ কবিতাটি স্বৈরাচারী এরশাদবিরোধী আন্দোলনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপস ভূমিকার ওপর রচিত প্রথম কবিতা। এটি পোস্টার আকারে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। ]
বাংলাদেশের মেরুদণ্ড
দীপান্ত রায়হান
শীতল বিকেলে রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে থাকে
পাতাঝরা গাছের মতো
পিঠে ধুলো, চোখে দূরের কুয়াশা।
এই দেশেরও নিঃসঙ্গতা আছে
আছে শঙ্কিত দীর্ঘ রাত।
দেশটি সন্ধ্যার মুখোমুখি দাঁড়ালে
যখন অনুভূত হয় মেরুদণ্ড
তখন উজ্জ্বল আলোয় দেখা যায় একটি নাম
আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া।
এক অদম্য মুখ, এক জাগ্রত স্বদেশ
সাঈদ বারী
তিনি এক লড়াইয়ের নাম,
এক অদম্য মুখ,
এক জাগ্রত স্বদেশ।
তিনি সাহসের শ্বাস,
পথহারা মানুষের আশ্রয়।
তিনি স্বৈরাচারের সামনে
উঁচু করে রাখা সত্য,
নির্যাতনের রাত ভেদ করে
জেগে ওঠা ভোর।
তিনি জনতার আস্থা,
ইতিহাসে লেখা অবিচল শপথ।
তিনি আহত গণতন্ত্রের সান্ত্বনা
শৃঙ্খল ভাঙার দৃঢ় পদচিহ্ন।
তিনি উপেক্ষিত মানুষের পাশে
মানবিক হাত,
ঐক্যের নির্মল শক্তি,
প্রতিরোধের পাঠ।
তিনি নৈরাশ্যের গভীর রাত পেরোনো
একটি প্রার্থনা,
ঝড়ের মধ্যে টিকে থাকা
এক পতাকা।
তিনি সত্যের দ্যুতিÑ
মায়ের কোমলতা আর নেতার দৃঢ়তার
এক অনন্য মুগ্ধতা।
তিনি বাংলাদেশ নামের স্বপ্নে
অবিনাশী শক্তি।
মা
আতাহার খান
আমার
মায়ের শাড়ির আঁচলে পাতা ছোট আর
সাদামাটা
কোলে কী অদ্ভুত এক মোহ, মিষ্টি মায়া,
শুধু
টেনে নেয় কাছে, ওমের ভিতরে সবকিছু করে
দেয়
একাকার। সেই ছোট কোলে শিশু হয়ে বসবাস
এখনো
আমার কাছে সব চেয়ে প্রিয়।
কতটুকুইবা
তার আয়তন, বেশি নয়, দৈর্ঘ্যে
মাত্র
দুই ফুট আর প্রস্থে দেড় ফুট। এত ছোট
পরিসর,
তবু তার আশ্চর্য ক্ষমতা, গাঢ় এক
চুম্বকের
মতো শুধু পিছু থেকে টেনে ধরে রাখে,
কিছুতেই
বের হয়ে আসতে পারি না; যাবতীয়
ঝড়
আর রোদ আঁচলে আগলে এই ছোট কোলে
সারাক্ষণ
পাতা থাকে না-শীত না-উষ্ণ জলবায়ু;
জায়গাটি
একমাত্র নিরাপদ অভয় আশ্রয়।
মা
আমার দু’হাতের তালুর রেখায় খালি রাখে ধরে
আদিগন্ত
সবুজ শস্যের কচি পাতার বাতাস,
যখন
ঐ দুই হাত মেলে বুকে আমাকে বাঁধেন,
ছোট
দুগ্ধ-শিশু ভাবেন তখন আমি প্রান্তরের
অবারিত
ধানের শীষের স্পর্শ জড়িয়ে সামনে,
আরও
দূরে, জীবন্ত নদীর গভীর পানির ঘ্রাণে
খুঁজে
পাই উপদ্রবহীন এক নতুন পৃথিবী।
মা,
এভাবে আর কত অবাধ স্নেহের খরস্রোতে
ছোট
শিশু ভেবে তুমি আর্দ্র করে রাখবে আমাকে।
সারাক্ষণ
তার দুই চোখ মমতা মাখানো আলো
হয়ে
ঝরে খোলা আকাশের নিচে মাথার ওপর,
আমি
যেখানেই যাই, একা থাকি, সেই দুই চোখ
সন্তানের
মঙ্গলের জন্য থাকে মগ্ন, ভারাক্রান্ত।
মা
কিছুতে বুঝতে চান না তার ছেলে বেশ বড়,
বয়ঃপ্রাপ্ত,
হেঁটে পাড়ি দিতে পারে ব্যস্ত রাজপথ,
অবলীলাক্রমে
জেব্রাক্রসিং পেরিয়ে উল্টোমুখী
ফুটপাথ
ধরে মিছিলের আগে পৌঁছে যেতে পারে
গন্তব্যের
শেষে; তবু মা থাকেন ভীষণ উদ্বিগ্ন।
সারাক্ষণ
আমাকে রাখেন ধরে শুধু চোখে চোখে।
মা
কী করে জানবেন তার মতো ভালো মানুষেরা
কেন
এ নগরী থেকে দ্রুত নিঃশব্দে হারিয়ে যাচ্ছে?
কেন
ভালো মানুষেরা এত কম আয়ুপ্রাপ্ত হন?
আমার
মায়ের তো এসব জানবার কথা নয়,
তার
কাজ ধ্যানে-জ্ঞানে সন্তানের কল্যাণ কামনা।
তিনি
তার সুতি শাড়ির আঁচল পেতে শুভ্র কোলে
আছেন
বিছিয়ে ন্যাশনাল পার্কের দূষণমুক্ত
বাতাসের
ঘ্রাণ। মায়ের কোলের মতো কোথাও কী
আছে
জ্যোৎস্নাপুত সেই নিরুদ্বিগ্ন শিশুর আশ্রয়?
এখন
কোথায় পাব ফিরে স্নেহের উৎস থেকে
উঠে
আসা শৈশবের ভয়হীন প্রিয় দিনগুলো?
মা,
তুমি আমাকে ফের তুলে নাও রক্তপাতহীন
অভয় ওমের মধ্যে, শীতল আঁচল পাতা কোলে!
মানবের
ময়দান
রেজাউদ্দিন
স্টালিন
আমরা
সমবেত হয়েছি
এক
অনিঃশেষ মানব ময়দানে
এক
নিরাপোস সংগ্রামের মুখচ্ছবি দেখতে
যে
আমাদের অভয় দিয়েছিল
যে
আমাদের শুনিয়েছিল
ধানশীষের
গল্প আর দেখিয়েছিল মুক্তির সীমান্ত
যে
দেশের মানচিত্র নদীর অনুকরণে আঁকা
যে
দেশের বৃক্ষ মায়ের মুখের আদলে আদৃত
আমরা
সমবেত হয়েছি তার স্মৃতির কাছে
আমরা
জানি প্রয়াণের পর শুধু গল্প থাকে
স্মৃতি
দুলতে থাকে ঘড়ির কাঁটা হয়ে
তবু
তিনি জেগে উঠছেন কোটি কোটি জনতার অশ্রুজলে
তিনি
অমর কবিতার শব্দে আরও বাঙময়
তিনি
মৃত্যুদূত ষড়যন্ত্রের রাণী আর দেশদ্রোহীদের
সাবধান করছেন
আমরা
সমবেত হয়েছি নারী ও পুরুষ
শিশু
ও বৃদ্ধ
শ্রমিক
ও চাকরিজীবী
সাংবাদিক
এবং শিল্পীগণ
আমরা
পাঠ করব সেই মহীয়সীর জন্য কবিতা
আমরা
গাইবো অসীম সাহসী সেই নারীর জন্য গান
বীরনারী
খালেদা উঠে এসেছে ইতিহাসের পাতা থেকে
এই
বাংলাদেশের ধানসিঁড়ি নদীর স্পন্দন
পদ্মা
মেঘনার পলিমাখা সবুজ যার শক্তি তাঁর কাছে মৃত্যু ম্লান
আর তিনি স্রষ্টার ভালোবাসায়
হিরন্ময়
তিনি
মানুষের আশীর্বাদে অম্লান
আমরা
সমবেত হয়েছি
তাকে
অনন্ত সময় ধরে দেখব বলে
আমরা
বুক পেতে রেখেছি মাতৃতুল্য তার অনন্তিম যাত্রা দেখবো বলে
যত
শোক যত কান্না যত স্মৃতি
সব
বাংলাদেশের মানুষের উত্তরাধিকার-ঐতিহ্যের বেলাভূমি
সার্বভৌম
পতাকার অহংকার
তুমি জাগলেই ভোর হবে
মালেকা
ফেরদৌস
জেগে
ওঠো মা,
তুমি
জাগলেই ভোর হবে,
পুঞ্জীভূত
আঁধারের মেঘ অতিক্রম করবে
ভোরের
আজান, প্রাগৈতিহাসিক স্তব্ধতা
ভেঙে
দেবে নদী, হাওয়ায় হাওয়ায়
দুলবে
শস্যের মাঠ-সতেজ পাতা,
ঠিক
তোমার সবুজ ঈমানের মতোই গাঢ়!
তুমি
জাগলেই রক্তাব ডানার পাখিরা ফিরবে নীড়ে
ঝেড়ে
ফেল ঘুমের তিমির-স্বপ্নের ডানা দুটো
মেলে
দাও আকাশে আবার,
তোমার বিশ্বাসের চন্দ্রালোকে
ভরে
উঠুক পৃথিবীর সব প্রান্তর!
‘ফাবি আইয়ে আলায়ে রাব্বিকুমা তুকাজ্জ্বিবান!
খালেদা
জিয়া
লতিফ
জোয়ার্দার
আজ
যেন আকাশের কান্নায় ভিজে যাচ্ছে বাংলাদেশ। নিষ্প্রভ মলিন বৃক্ষতরুলতার বন আর ফসলের
মাঠ। উদারতার প্রতীক হয়ে আপোসহীনভাবে লড়াই করেছ চৌদ্দ হাজার দুই শত পঁয়ত্রিশ দিন। উনিশ
কোটির জনপদে অনন্ত সম্ভাবনা নিয়ে মাটি আর মানুষের জন্য একটি দুরন্ত কবিতা হয়ে বেঁচেছিলে।
তোমার রাষ্ট্রচিন্তা যেন অমিত্রাক্ষর ছন্দ। দুলে ওঠে মনের অলিগলি ভিতর। কত বিনম্র বিষাদে
ভরা ছিলো আমাদের আনাগোনা, অবশ্যম্ভাবী ভাবেই তুমি দু’হাতে গড়েছ স্বদেশ ভূমি। সকল বৈরিতা
ভেঙে পৃথিবীর বুকে একটি লালগোলাপ হয়ে। আমাদের ক্রান্তিকালে বারবার তুমি ছিলে অগ্রপথিক।
যতদিন এ মাটি, এ দেশের মানুষ। যতদিন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা নদী বয়ে যাবে আর পাহাড় থেকে
সমতলে বয়ে যাবে জলের ধারা। হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান পাহাড়ি জনপদ থাকবে আমাদের।
ততদিন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তুমি থাকবে আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে। বারবার তুমি ফিরে এসো।
ফিরে এসো আমাদের সবুজ রঙের বেদনাগুলো ভুলিয়ে দিতে। বীরত্ব গাথা নিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদায়।
বাংলাদেশি হয়ে এই শ্যামল রূপ অপরূপ বাংলায়।
৩১
ডিসেম্বর ২০২৫
আমার বুকের মাঝে কবর
খুঁড়ছে কেউ
সীমান্ত হেলাল
(উৎসর্গ: আপসহীন নেত্রী,
গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে)।
শূন্য শূন্য লাগে এ
শহর! লাখো জনতার স্রোত লাগে ধু-ধু মরুভূমি! বুকের বাঁ পাশে অদৃশ্য হাহাকার! হাজারো
কথার মাঝে অব্যক্ত এক অনুরণন!
শৈশবের নস্টালজিক স্মৃতি আর যৌবনের অসহনীয় বাস্তবতা কুরে কুরে খাচ্ছে আমায়! শহীদ জিয়ার মাজারের পাশে খুঁড়ছে মাটি; অথচ মনে হচ্ছে আমার বুকের মাঝে খন্তি-কোদাল দিয়ে কবর খুঁড়ছে কেউ রাতভর!
ক্যানোপি
মেহেদী হাসান
সদ্য ভূমিষ্ঠ মেয়েটা
একটা ফুলকি জ্বেলে নিভে
গেলে
রানি আর কোনো দিন প্রসূতি হলো না।
ফজরের আজানের পর
তুমি আর জাগবে না শুনতেই
রানির দুইবার হার্টঅ্যাটাক
হলো;
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে
মমতার ক্যানোপি ছড়ানো
হে আপসহীন জননী, রানির নয়নের মণি...
এক অদম্য মুখ, এক জাগ্রত স্বদেশ
সাঈদ বারী
তিনি এক লড়াইয়ের নাম,
এক অদম্য মুখ,
এক জাগ্রত স্বদেশ।
তিনি সাহসের শ্বাস,
পথহারা মানুষের আশ্রয়।
তিনি স্বৈরাচারের সামনে
উঁচু করে রাখা সত্য,
নির্যাতনের রাত ভেদ করে
জেগে ওঠা ভোর।
তিনি জনতার আস্থা,
ইতিহাসে লেখা অবিচল শপথ।
তিনি আহত গণতন্ত্রের সান্ত্বনা
শৃঙ্খল ভাঙার দৃঢ় পদচিহ্ন।
তিনি উপেক্ষিত মানুষের পাশে
মানবিক হাত,
ঐক্যের নির্মল শক্তি,
প্রতিরোধের পাঠ।
তিনি নৈরাশ্যের গভীর রাত পেরোনো
একটি প্রার্থনা,
ঝড়ের মধ্যে টিকে থাকা
এক পতাকা।
তিনি সত্যের দ্যুতিÑ
মায়ের কোমলতা আর নেতার দৃঢ়তার
এক অনন্য মুগ্ধতা।
তিনি বাংলাদেশ নামের স্বপ্নে
অবিনাশী শক্তি।