প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৪৫ পিএম
পঞ্চাশ বছর আগের এক শহরে
ইরাজ আহমেদ
পঞ্চাশ বছর আগের এক শহরে
আমাদের মৃত্যুও ঘুমিয়ে পড়েছে।
ডিসেম্বরে শীত অজানা স্বাপদের মতো খোঁজে
অনুসরণের ইতিহাস
সাঁজোয়া যানের লোহার শরীরে রক্তের দাগ।
মার্চ করে আসা কারফিউ
চোখ বাঁধা ল্যাম্পপোস্ট
হল্ট...
বখাটে ছোকড়ার মতো এদিক-সেদিক বাতাসে শিস দেওয়া বুলেটের শব্দ...
আমাদের ক্লান্ত মৃত্যু ঘুমিয়ে পড়েছে এই রাতে।
ডিসেম্বর, উনিশশ একাত্তর,
গাছ থেকে প্রতিটি পাতার পতনকে মনে হয় কোনো গেরিলার পদশব্দ
অবিস্ফোরিত গ্রেনেডের উত্তেজনা নিয়ে অন্ধকার বসে থাকে
ভয়ে কাঁপা জানালার পাশে এক দিন আলো দেখবে বলে।
পঞ্চাশ বছর আগের এক শহরে
আমাদের মৃত্যুও ঘুমিয়ে গেছে ক্লান্ত হয়ে।
বুড়িগঙ্গা নদীতে ভেসে যায় কাদের শবদেহ?
টর্চার চেম্বারে সিলিং থেকে ঝুলে থাকে
তখনও দাঁতে দাঁত চাপা গেরিলার প্রতিরোধ।
ডিসেম্বর, উনিশশ একাত্তর
তোমার সমস্ত দেয়ালে
কারা লিখে দিচ্ছে একটাই শব্দÑ নির্ভয়?
পঞ্চাশ বছর আগের এক শহরে
আমাদের মৃত্যুও ঘুমিয়ে গেছে ক্লান্ত হয়ে।
নিঃস্তব্ধ শহরের আত্মায় শীতের
বৃষ্টির মতোন এখনও ঝরে পড়ছে গেরিলারা
দাড়িপূর্ণ মুখ, মাথার চুলে আগুন
যেন পুড়ছে বাংলাদেশের পতাকা।
সর্বংসহা
সুহিতা সুলতানা
অদৃশ্য চাবুক আর অন্ধত্ব হেলে পড়েছে
দিগন্তের ওপর। একটা দুর্বোধ্য ছায়া
অলৌকিক জলহাওয়ার ওপর দিয়ে
মেঘ ও বৃক্ষের কাছে নিয়ে যায়। যা
দেখা যায় সবটাই অভিঘাত না বোবা
কান্না? যদিও ভূ-কম্পন পেছনে ফেলে
এই আমি ভীষণ ডিপ্রেশনে ডুবে আছি
অপরাহ্ণকালে; শীতের কুয়াশা ঢেকে
দিচ্ছে সময় ও ছায়াপথ! ঘর ও পথ
হারিয়ে ফেললে একসময় পথ ও
ঘরের কোনো মূল্য থাকে না! মানুষের
কর্কশ চিৎকার আরও ভয়াবহ! পেছনে
পড়ে আছে অভিশপ্ত নগরীর বাঁকা
হাসি, ভেঙে পড়া সড়কের দীর্ঘশ্বাস
বৃক্ষ মায়াহীন হলে নির্ভরতা ভেঙেÑ
চুরে পড়ে! এআই পাপেটের মতো ফাঁপা
আর অসত্যের আত্ম-স্বরূপ! দেশপ্রেম
না থাকলে কলহ থেকে মুক্তি নেই!
ভূ-কম্পনের সাথে উঠে এলো বিষাদ
মস্তিষ্ক নাগালের বাইরে চলে গেলে
প্রতিটি মানুষই শাসকের মতো কঠিন
আচরণ করতে থাকে! গ্রীবার ওপর
দৃষ্টি ও উপলব্ধির ঘোর অমানিশা!
কোনো শোকসভা নয় বিরুদ্ধ স্রোত
নয়, এসো আমরা দৃঢ়তা নিয়ে সত্যের
পাশে দাঁড়াই! জীবন দাবার চাল নয়!
গাঢ় আলিঙ্গনে বিজয় হোক অবিনাশী
সর্বংসহা। এসো অদৃশ্য ষড়যন্ত্র পেছনে
ফেলে গেয়ে উঠি বিজয়ের গান।
নামলিপি : বাংলাদেশ
মতিন রায়হান
নামলিপি-চিত্রকল্পময় : সবুজের বুকে রক্তের অক্ষরে যেন লেখা
বর্ণগুলো টানটান উত্তেজনাময়, উদীপ্ত ঠিকরে পড়ে আলো
এ আলোয় স্নান সেরে বেরিয়ে পড়েছে অগণন মুক্তিকামী মন!
এসব মনেরা স্বপ্নাতুর সবুজ বিহঙ্গ; স্বপ্নে আঁকে খরস্রোতা
নদীর যৌবন! কী দ্রুত বালির ফাঁদ, ভেসে যায় জলস্রোতে...
নদীমগ্ন বাউলের গান কণ্ঠে তুলে ছবি আঁকে কোন মহাজন;
ও পরান মাঝি, দ্যাখো, ঢেউ ভাঙে নদীÑ ডিসেম্বর ষোলো
সেই তো ছাব্বিশে মার্চÑ জ্বলে ওঠে বহ্নিশিখা সাড়ে সাত কোটি;
চৌদ্দ কোটি হাত-অস্ত্র চালায় সশস্ত্র যুদ্ধে! মুক্তিদূত এলো বলে!
মাগো, তোমার ছেলেরা কোন স্বপ্নে জীবনের বিনিময়ে লিখে গেল
রক্তলেখা? হিসাব কষেছ? যে নারীর গর্ভে বড় হলো শত্রুপ্রাণ
তাকে তুমি কোন রঙে এঁকে দেবে প্রিয় মানচিত্র? সবুজ পতাকা যদি
এইসব দুঃখপোষা নারীদের মন থেকে আগুন তাড়াতে পারে
তাহলে ঠিকই এই দেশ হবে জলবায়ু মাটিমাখা অতন্দ্র প্রহরী!
আবারও তৈরি হোক ভাষিক ভাস্কর্যÑ মুছে দিই যত ভুলভাল শেখা
নামলিপি-চিত্রকল্পময় : সবুজের বুকে রক্তের অক্ষরে যেন লেখা