প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:৫৭ পিএম
শুভশ্রী সকাল
ফারুক মাহমুদ
আমার পাঁজর ঘেঁষে জ্বেলে রাখি অবিশ্রান্ত আলো
তুমি তাতে উচ্ছ্বসিত রোদনের মুগ্ধছায়া ঢালো
জেগে থাকো, জেগে থাকি, গেয়ে ওঠে গানের স্তবক
আগুনের দাহিকাও হতে পারে তৃষা নিবারক
সকল শব্দের স্রোত মিশে যায় একমোহানায়
প্রেমের সর্বস্ব নিয়ে ভালোবাসা একাকী দাঁড়ায়
নন্দিনী, দেখেছ!? হেসে-থাকা রক্তকরবীর ডাল
তোমার প্রাণের পাশে ডেকে আনে শুভশ্রী সকাল
শিশিরের স্থায়ী ঠিকানা
আলফ্রেড খোকন
জন্মেছিলাম তার নিবন্ধন করতে গেলে
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
জানতে চাইলেন আমার কোন্ থানা
আমি তাকে বললামÑ
শিশিরের কোনো স্থায়ী ঠিকানা থাকে না
তিনি বললেনÑ আপনি তো শিশির না
আমি তাকে বললামÑ
তাহলে লিখেন ঘাসের ডগায় শিশির কণা;
হেমন্তের শিশির কিংবা ঘাসের ডগায়
ঝরে পড়া শিশিরের মতন
একজন উদ্বাস্তু মানুষের পক্ষে
জাতীয় জন্ম নিবন্ধন কেন্দ্র, আগারগাঁও
কোনো কথাই শুনল না।
প্রতিদিন ঝরে অবুঝ বকুল
স্নিগ্ধা বাউল
যে অপেক্ষায় রেখে যায়, কথা দেয়
দেখা হবে প্রত্যাশায়, সে আর ফেরে না
সময় কাটে না কেবল ফুরায়
জানলেই উড়ে যায় দক্ষ পাখি
ডানা থাকলেই উজাড় হয় মেঘ
অন্ধ হলেও স্বপ্ন দেখে চোখ
যে না ফেরার সেই প্রত্যাখ্যান করে
অবশ মন তবু অপেক্ষায় রয়
ভালো থেকো কোনো প্রত্যাশা নয়
এরপর ভালো থাকা যায় কেমন!
চোখ ফুরায় তেল ফুরায় ফুরায় জীবন
জীবনে ফুরায় নগ্ন প্রতীক্ষার সাতকাহন
যে ফিরবে না তার কী হয়Ñ
তার জীবন তার মতো বয়
কখনও ভাবে কি ফেরার পথটা
মনে হয় না তো তেমন…
যে ব্যাকুল তার নাম হয় বকুল
প্রতিদিন ঝরে যায় নিজের ডালে…
কথা ছিল
পিয়াস মজিদ
অনেক ঋতু ইতোমধ্যে আমার ভেতর পুঞ্জীভূত।
বহন করতে হবে এবারকার আরও কিছু এবং সম্ভাবনা রয়ে যাবে, সম্ভাবনার শেষ নেই যেহেতু। ঋতুভেদে আমার হবে বিভিন্ন রকম মনের গঠন যারা কাঠামো ভেঙে নতুন কাঠামোর জন্য আমাকে প্রস্তুত করবে যেন বহু ব্যবহৃত একটাই চোখ দিয়ে সূর্যের সাক্ষাৎ রহিত করার প্ররোচনা দিতে পারে চাঁদকে। কিছু ফুল ফোটার আগে পুষ্পজনিত অসুখের ভয় দেখিয়ে সতর্ক করবে নাজুক নাকেদের। আরও কিছুকাল ভালো কবিতা লেখার কথা ছিল যাদের, তাদের কেউ কেউ এমনকি অনেকেই ঝরে যায় হুট করে যেমন আমার বন্ধু শারমিন বা নীলাব্জ, যাদের সঙ্গে কোনোকালেই দেখা হলো না কিন্তু দেখা হওয়ার কথা থেকে গেল। প্রতি পৃথিবীতে ঋতুভেদে, থেকে যাওয়ার মতো কিছু কথার জন্ম হয়ে থাকে হয়তো।