বই আলোচনা
মাসুদ রানা
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:৪২ পিএম
আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:০৭ পিএম
ব্যবহারিক পরিভাষা
যে শব্দ দিয়ে সংক্ষেপে কোনো বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করা যায়, তা-ই পরিভাষা। ইংরেজি থেকে বাংলায় ব্যবহারিক পরিভাষা অনুবাদের প্রয়োজনীয়তা আজ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। অফিস-আদালত, প্রশাসন, ব্যাংকিং থেকে শুরু করে দৈনন্দিন লেখালেখির ক্ষেত্রেও বহু ইংরেজি শব্দের নির্ভুল বাংলা সমার্থক খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। এই বাস্তবতায় সুব্রত বড়ুয়ার ব্যবহারিক পরিভাষা বইটি পাঠকের জন্য হয়ে উঠেছে এক নির্ভরযোগ্য সঙ্গী।
বইটিতে অ থেকে ত পর্যন্ত কয়েক হাজারের বেশি ইংরেজি পরিভাষার সরল, প্রাঞ্জল ও বোধগম্য বাংলা অর্থ সংযোজিত হয়েছে। বিশেষত আইন, প্রশাসন, সরকারি নথিপত্র, বিচারিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক লেখালেখিতে ব্যবহৃত শব্দসমূহ এখানে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাসহ উপস্থাপিত। লেখকের ভাষা সহজ, নির্ভুল এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা মুক্ত; যা সবস্তরের পাঠকের জন্য গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে বইটিকে। বইটির অন্যতম শক্তি হলো শব্দচয়ন ও বিন্যাস। প্রতিটি পরিভাষা সংক্ষেপে, কিন্তু যথাসম্ভব নির্ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রিন্টিং ও পৃষ্ঠাবিন্যাস ও মানসম্মত, ফলে দ্রুত রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সব মিলিয়ে ব্যবহারিক পরিভাষা হলো শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী, আইনজীবী, অনুবাদক এবং অফিস-জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার জন্য একটি কার্যকর ও প্রয়োজনীয় গ্রন্থ। ইংরেজি পরিভাষার বাংলা অর্থ খুঁজতে যারা নির্ভরযোগ্য উৎস চান, তাদের সংগ্রহে এই বইটি স্থান পাওয়ার যোগ্য। বাংলায় এসব বিষয় আলোচনার জন্য প্রয়োজন পরিভাষার প্রণয়ন। সুব্রত বড়ুয়া সম্পাদিত ‘ব্যবহারিক পরিভাষা’ তেমনই একটি গ্রন্থ। এই গ্রন্থকে সব ইংরেজি মূল শব্দ অভিধানের প্রচলিত নিয়ম অনুসারে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো হয়েছে। মূল ইংরেজি শব্দের পাশাপাশি একাধিক বাংলা পারিভাষিক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। বুঝতে সুবিধার জন্য এই গ্রন্থটি ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক, লেখকদের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে। গ্রন্থটি প্রসঙ্গে সম্পাদক সুব্রত বডুয়া সংগতই বলেছেন, ‘ইংরেজি ভাষায় রচিত বিভিন্ন ধরনের বই অনুবাদ করতে গিয়ে মনে হয়েছিল, পরিভাষার একটি ব্যবহারিক বই হাতের কাছে থাকলে অনেক সুবিধা হয়।’
পরিভাষা হলো বিশেষ অর্থ প্রকাশকারী শব্দ বা শব্দরাজি। যে শব্দ দ্বারা সংক্ষেপে কোনো বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করা যায়, তা-ই পরিভাষা। প্রতিটি ভাষার ক্ষেত্রেই পরিভাষা নির্মাণ তথা নতুন শব্দ সৃষ্টির বিষয়কে ভাষিক সৃজনশীলতার অন্যতম অভিব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত দু-তিন দশকে সমাজ, অর্থনীতি ও প্রযুক্তির দিক থেকে অভাবনীয় পরিবর্তন হয়েছে। সেসব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার জন্য ইংরেজিসহ বহু ভাষায় নতুন শব্দ প্রচলিত হয়েছে। বাংলায় এসব বিষয় আলোচনার জন্য প্রয়োজন পরিভাষার প্রণয়ন। সেভাবেই ‘ব্যবহারিক পরিভাষা’ সংকলনের সূচনা। সত্যিই এই বইটি হাতের কাছে রাখার মতোই একটি বই।