নাটক রিভিউ
ধ্রুব এষ
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৪৪ এএম
আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:৫৪ পিএম
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী গল্প লিখেছিলেন। সত্যজিৎ রায় ছবি করেছিলেন। ছোটদের ছবি। সেই ছবি সকলের হয়ে উঠেছিল। এখনও সকলের। ‘গুগাবাবা’ বা ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’। কতবার দেখেছি হিসাব নাই। এখনও দেখি।
সেই ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ নাটক হচ্ছে। স্কলাসটিকার স্টুডেন্টরা করছে। কেমন করবে? এর আগে তারা কি একবার ‘হীরক রাজার দেশে’ করেছিল? আমি দেখতে পারি নাই। ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ দেখা হয়ে গেল। চমৎকার করেছে স্কলাররা।
আমি থাকি পুরানা পল্টন লাইনে। বহু বছর ধরে গুহাবাসী হয়েছি। খুব একটা কোথাও যাই না। মিরপুরের স্কলাসটিকা আমার জন্য সূর্য না হোক চন্দ্র দূরত্ব। পরে হিসাব করে দেখেছি পাক্কা তেতাল্লিশ বছর পর আমি কোনও স্কুলের ক্যাম্পাসে ঢুকলাম। নাটক কি তারা তাদের কমনরুমে করেছে? প্লাস্টিকের সারিবদ্ধ চেয়ারে বসে দর্শকরা দেখেছেন। তাতে কিছু সমস্যা হয় নাই। নাটক দেখে মনে হয় নাই স্কুলে পড়ে নাটকের কুশীলবগণ। স্ক্রিপ্ট, নির্দেশনা, মঞ্চ পরিকল্পনা, সংগীত জুৎসই। আলোক পরিকল্পনা সমান পাল্লা। পারফরম্যান্স ১০০ তে ৯৯.৯৯। সবাই অনবদ্য। মোটু সেনাপতিকে (তুমি কে, তোমাকে বুলিং করছি না, বাচ্চা, প্রশংসা করে বলছি।) মনে হয়েছে ছবির সেনাপতির ছোট সংস্করণ। বরফি জাদুকরও ছবির বরফির রেপ্লিকা। গুপী বাঘার চরিত্র কয়েকজন করেছে। নাটকের ব্রোশিয়র করে নাই তারা, এজন্য নাম বলতে পারব না সকলের। একজনের নাম উদ্ধার করেছিÑ শেফা। মনোমুগ্ধকর গুপী সে হয়েছে। অসাধারণ অভিনেতা।Ñ নাটকটা কি তারা কোনও একটা ভালো মঞ্চে কোনও দিন মঞ্চায়ন করবে? শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটারে হলে হতে পারে, জাতীয় জাদুঘরের অডিটোরিয়ামে হতে পারে। আরও অনেকে তাহলে দেখতেন, উপভোগ করতেন। এতো দারুণ একটা প্রযোজনা অনেকের দেখা দরকার। কোথাও যাই না আমি কেন এই নাটকটা দেখতে গিয়েছিলাম? তিন বাঘার এক ‘বাঘা’ কেমন করে দেখতে। গুপীর চেয়ে আধহাত লম্বা এই বাঘা। সে হলো বর্ণিল মূর্ছনা। লম্বু বাঘা সে কেমন করেছে? মঞ্চে আমি তাকে অনেকক্ষণ চিনতেই পারি নাই। অথচ আমি তার দাদা।
ভালোবাসা স্কলাসটিকার এই নাটকের সঙ্গে জড়িত সকল মানুষের জন্য।