× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চিরপ্রাসঙ্গিক জীবনানন্দ

হেনরী স্বপন

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৪১ এএম

চিরপ্রাসঙ্গিক জীবনানন্দ

যদি বলি কবি জীবনানন্দ দাশ এখনও এত সাম্প্রতিক মনের কবি কেন? তাহলে কী আছে তার কবিতায়? যা আজ পর্যন্ত অন্য বাঙালি কবিদের মধ্যে নেই? নজরুলের বিদ্রোহÑ রবীন্দ্রনাথের বিশ্ব-চিন্তা ও বর্ষার আবাহনের পরে আর কিইবা অবশিষ্ট থাকে? যার জন্য আমরা স্বভাবতই আলাদা উপলব্ধিতে তৃষ্ণার্ত হই। এই প্রশ্নের নানা রকম উত্তর হতে পারে এবং যথেষ্টভাবে সেই উত্তরের অনুসন্ধান শুরুও হয়েছে। বিশেষত এই জার্নিটা জীবনানন্দ দাশের কবিতা পাঠের ব্যাপকতার মাধ্যমে চলছে। কিন্তু তিরিশের কালের বাঙালি কবিতা পাঠক জীবনানন্দর কবিতার প্রতি ঘোর উদাসীন ছিলেন, এও সত্যি। তখন তার কবিতার ভাষায় সুরিয়ালিস্টিক ব্যবহারের গভীরতা ও চিন্তার ভিন্নতাকে কটাক্ষ ও বিদ্রূপ করেছেন অনেকেই। কারণ তখন জীবনানন্দর কবিতার আতিশয্য ও আলোকতার প্রগলভতা এতই উচ্চকিত ছিল যে, অন্ধকারের শক্তি উপলব্ধি করার মতন পাঠক তখন হাতেগোনা ছিল। অথচ কালে কালে একজন কবির মন অপর কবির মনের কাছাকাছি হয়ে যান, এই বোঝাপড়ার শক্তি যে কত সত্য ও যথার্থ, তা বুঝতে আমরা দেখতে পাই সমসাময়িক কবি বুদ্ধদেব বসু যখনÑ তার সমসাময়িক অপর কবি জীবনানন্দকে বুঝেছিলেন এবং নির্জনতম কবি হিসেবে সানন্দে গ্রহণ কবেছিলেন।

না, তাই বলে রবীন্দ্রনাথকে কবি হিসেবে কিংবা সময়ের শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই। এক্ষেত্রে একপক্ষ যদি বিশালের অন্বেষণে প্রচণ্ড ক্ষমতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন, তবে অন্য পক্ষকে আমরা দেখি: গভীর অন্তর থেকে নিরাশ্রিত, অবিচল ও তীব্র হতে। ফলে, রবীন্দ্রনাথ, গ্যাটে, টলস্টয়, হুইটম্যান, হোমার ও বাল্মীকির পাশে আমাদের চিন্তা ও চৈতন্যকে বেশি বিপর্যস্ত ও অনিশ্চিত করে তুললেনÑ রিলকে, র‌্যাবো, ভের্লেন, লোরকা, বোদ্লেয়ার, কোয়াসিমোদো কিংবা জীবনানন্দ দাশের মতন মহৎ কবিরাই। 

তাই আধুনিক রবীন্দ্রোত্তর কবিতায় আধুনিকতার পাশাপাশি আমরা যেকোনো ব্যাপকতা দেখলে মুগ্ধ হইÑ সন্দেহ নেই। শুনতে ভালোবাসি এলিয়ট উচ্চারিত কথায় যে, ‘দেশপ্রেম নিয়ে কবিতা লেখা যায় না।’ কিংবা রিলকের এই বিশ্বাসেও স্পষ্ট যে আমাদের বুদ্ধিনির্ভর সচেতনতা ও উদ্দেশ্য প্রসূত কর্মÑ যত অলাদা হবে, ততই সহজে তা রক্ষা করতে পারবে আমাদের প্রেরণার জগৎকে।’... এই দুই কবির চরম বিশ্বাস ও জীবন ভাবনার মাঝামাঝি সম্ভবত জীবনানন্দ দাশই বুঝতে পেরেছিলেন আরও যথার্থ সমকালের সংকট উত্তরণের সঠিক পথটিকে। তাই জীবনানন্দ বললেনÑ‘আমি বলতে চাই না যে, কবিতা সমাজ বা জাতি বা মানুষের সমস্যাÑ খচিত অভিব্যক্ত সৌন্দর্য হবে না। তা হতে বাধা নেই। অনেক শ্রেষ্ঠ কাব্যেই তা হয়েছে। কিন্তু সে সমস্ত চিন্তা, ধারণা, মতবাদ, মীমাংসা কবির মনে প্রকম্পিত হয়ে কবিতায় কঙ্কালকে যদি দেহ দিতে যায় কিংবা সেই দেহকে দিতে চায় যদি অঙ্গÑ তা হলে কবিতা সৃষ্টি হয় নাÑ পদ্য লিখিত হয় মাত্র। ঠিক বলতে গেলে পদ্যের আকারে সিদ্ধান্ত, মতবাদ ও চিন্তার প্রক্রিয়া পাওয়া শুধু।’...( কবিতার কথা : জীবনানন্দ দাশ)। কবির এই সুদূর চিন্তার ফলে ক্রমশই আধুনিক মানুষ থেকে আধুনিকতর মানুষের কাছে জীবনানন্দের প্রবল প্রভাবের কারণ এখানেই নিহিত। তাই নিম্ন কিংবা সাধারণ পাঠক, আবার অভিজ্ঞ ও মননশীল পাঠকÑ অর্থাৎ সব মনের ওপরেই জীবনানন্দের এই সামগ্রিক কিংবা বিস্মৃত অবস্থান তৈরি হয়েছে।

তবে জীবনানন্দের কাল থেকে নান্দনিক এই প্রেরণার দ্বারা ক্লাসিক কবিতা সৃষ্টির প্রবণতা ব্যাপক হারে বেড়েই চলছে সন্দেহ নেই। অবশ্য বিষ্ণু দে-র কবিতা থেকেই এই রকম অনুসন্ধানের প্রয়াস শুরু হয়েছিল। কিন্তু তা পূর্ব নির্ধারিত সাম্য ও বিপ্লবের বিশ্বাসে এতটাই সরলীকরণের উচ্চারণে রচিত ছিল যে, তা দগ্ধÑ রক্তিম চৈতন্যের ফসল হয়ে ওঠেনি, তাই এইসব কবিতা একটু পড়ার পরে, সেই কবিতায় আমরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলি। তাই নন্দন ও নন্দনতত্ত্বের মধ্যবর্তী সৎ কবিতার স্থান আগেও যা ছিল, আজও সেটুকুই অটুট আছে।

বাস্তবিকই জীবনানন্দ ধূসর সময়ের ধূসরতম কবি ছিলেন। তার কবিতার ব্যাখ্যায় সে তখন যতটা উন্মোচিত হওয়ার কথা, বাস্তবে তা আরও প্রগাঢ় জটিলতা ও তর্কের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছিল। অনুভবের সত্তা ছাড়া কবির ডেঞ্জার জোনের হৃদয়ে প্রবেশের চেষ্টা তখনকার বহু পাঠকেই দুরূহ করে তুলেছিল। কিন্তু আজ সেই ভয়াবহতার কাল কেটে গেছে, এখন জীবনানন্দ পড়ার পরেই আমরা সাহসের সঙ্গে চিৎকার করে বলতে পারি, দুর্বোধ্যতাই কবিতার প্রধান গুণ। যুক্তিহীনতাই কবিতার অস্থি।

জীবনানন্দের জীবনোপলব্ধি শুধু যে, ভিন্ন ছিল তাই নয়, তা ছিল মৌলিক, স্বতন্ত্র এবং একান্তভাবে নিজস্ব সৃষ্টি ও তারই স্বভাবের অন্তর্গত। তাই তাকে ব্যবহার করা যায় না, প্রভাবিত হওয়ার দুর্নামে পড়তে হয় এখনকার কবিদেরÑ আবার তার দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে, সম্পূর্ণ ভিন্নমাত্রার কোনো তরুণ কবির আত্মপ্রকাশও এখন পর্যন্ত অসম্ভব থেকে গেছে।

এ ছাড়াও রয়েছে, কবিতায় ইমেজের প্রসঙ্গ। বিষয়টি এত গভীর এবং অর্থবহ এই কারণে যে, পাউন্ডের যে সংজ্ঞাটিতেÑ ‘ইমোশনাল কমপ্লেক্স’ বলে যে বিশ্লেষণ রয়েছে। এখনকার কবিতায় কিন্তু ‘ইনটেলেকচুয়াল’ বিষয়টিও সমান গুরুত্বের হয়ে আছে। কেননা, কবিতা প্রায়শই আবেগের বশবর্তী হলেওÑ এক্ষেত্রে মননের ভূমিকাও কোনো অংশে কম নয়। অবশ্য এ-প্রসঙ্গে সত্তরের অন্যতম প্রধান কবি রনজিৎ দাশই যথার্থ বলেছেনÑ আসল প্রশ্ন হচ্ছে, একজন কবি নিজে তার চেতনাপ্রক্রিয়ার এই মৌলিক সংগঠনটি স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেছেন কি না এবং দ্বিতীয়ত, তার কবিসত্তার পক্ষপাত কোন দিকেÑ আবেগের দিকে না মননের দিকে। সজ্ঞানে কিংবা অজ্ঞানে, এই পক্ষপাত কিংবা প্রবণতাই একটি নির্ণায়ক শক্তি; এই প্রবণতার তারতম্যেই একজন কবি সুইনবার্ন এবং আরেকজন কবি এলিয়ট হয়ে ওঠেন কিংবা জীবনানন্দ দাশ হন। আসলে বড় কবিরা প্রত্যেকেই এই আবেগ ও মননের শঙ্খ-লাগা শক্তিকে চূড়ান্ত মাত্রায় উজ্জীবিত করেন এবং ব্যবহার করেন।’

ফলে একেক কবির মেটাফ একেক রকম এবং নানা কৌণিক ও নানা প্রসেসের মাধ্যমে বিস্তারিত হয়, যা কেবল বাস্তব-পরাবাস্তব প্রতিক্রিয়ার থেকেও মারাত্মক। কখনও যৌন-জটিল সম্প্রসারণের ইন্টারকোর্স থেকেও কোনো কোনো কবির কবিতা কাব্য রহস্যের তন্তুজট খুলে বেরয় সেইসব অগ্রসর কবির আবচেতন বোধ! এবং অনুভূতির অসম্ভব বিস্ময়বোধ!...‘এই বোধÑ এই স্বাদ পায় সে কী অগাধ-অগাধ !’Ñ অপূর্ব শব্দবন্ধ চিত্রকল্প উপমার সমন্বয় প্রথাবিরুদ্ধ সমস্ত কবিই একক হয়ে ওঠেন... তার প্রত্যেক কবিতার অন্তর্নিহিত আত্মায়…’ তবুও কেন যে আজো, হায় হাসি, হায় দেবদারু/ মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়।’( বিনয় মজুমদার)

এক্ষেত্রে যে কথাটি না বললেই নয় যেÑ জীবনানন্দের মতো আর কোনো কবিই প্রকৃতির কবি বলেও স্বীকৃত নয়। অর্থাৎ প্রকৃতির দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকাননি অনেকেই। কিন্তু মহাপৃথিবীর ধারণা রক্তে, চিন্তায়, চিন্তার সংঘর্ষে, অবচেতনার আড়ালে মৃত্যুমুগ্ধ চিরকালের পথিকের মতো আর কেউ ভেবেছে কি না সন্দেহ আছে। তাই জীবনানন্দ সময় ও সময়-পরিধির অনেক সুদৃঢ় প্রাচীরকে সে অনায়াসেই ডিঙিয়ে চলেছেন। ইতিহাসের কীর্তিমান স্থানগুলো সময়ের ঢেউ আর দীর্ঘশ্বাসের বেশি স্থির কোনো বিশ্বাস কিংবা অন্যান্য অর্থ রেখে যায় না। যেমন ফরাসি কবি পার্সের কবিতার অর্থ খুঁজে পাননি তখনকার সমালোচকরা, শব্দের পর শব্দ মোহজাল, অভিভূত করার মতো উচ্চারণ, ইতিহাস থেকে গুঞ্জনের মতো অস্পষ্টÑ তাই তাকে চিহ্নিত করেছিলেন মহাজাগতিক চেতনার নান্দনিকতায়। আর তাই জীবনানন্দ কেবল বাস্তব ও পরাবাস্তব জীবনে ক্লান্ত হওয়ার পরে, নব নব মৃত্যুশব্দ, রক্তশব্দ, ভীতিশব্দ জয় করে এক গভীরতম মুহূর্তকেই উপলব্ধি করেছিলেনÑ’ কোথাও প্রান্তরে ঘরে অথবা বন্দরে নীলাকাশে;/ মানুষ যা চেয়েছিল সেই মহাজিজ্ঞাসার শান্তি দিতে আসে।’( মানুষ যা চেয়েছিল...) এবং এ-ও সত্যি যে,’কেন হিংসা ঈর্ষা গ্লানি ক্লান্তি ভয় রক্ত কলরব;/ বুদ্ধের মৃত্যুর পরে সেই তন্বী ভিক্ষুনীকে এই প্রশ্ন আমার হৃদয়/ করে চুপ হয়েছিলÑ আজও সময়ের কাছে তেমনই নীরব।’Ñ কবি জীবনানন্দ দাশের মতো এ রকম জটিল প্রশ্ন নিয়ে মহাপৃথিবীর দিকে আর কোনো কবি তাকিয়েছিলেন কি?’ আলোর রহস্যময়ী সহোদরার মতো। জীবনানন্দ যে আমাদের আধুনিক মনের কাছে এত সর্বগ্রাসী আবেদন, আলো ও প্রভাব রেখে গেছেন, তার একটি কারণ সম্ভবত ‘সন্দেহ ধূসরতা’। এই সন্দেহের গুণেই একদা বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলো সম্ভবপর হয়েছিল। আমরা যেন তারই সুচিন্তিত ব্যবহারে কবির হৃদয়ের বিশ্বাসকে একালেও প্রকটভাবে তার বিশ্বাসের সহচর কিংবা তার কবিতা পাঠে উদ্বুদ্ধ হতে পারি। তাই বিষ্ণু দে যখন বলেন, ‘নদীর উৎস যদি থাকে, থাকেই তো’Ñ যেন জোর করে বালকের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিচ্ছিল, তখন জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায় বারবারÑ হয়তো বা কিংবা, জানি না, তবু... এসব শব্দ ব্যবহার করে ‘সংশয় ধূসরতার’ গুণে কবিতাকে আরও কঠিন এবং নান্দনিক করে তুলেছেন, যেমনÑ ‘এইখানে সরোজিনি শুয়ে আছে;Ñ জানি না সে এইখানে শুয়ে আছে কি না।/ অথবা... অন্ধকার শেষ হলে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে’(সপ্তক : সাতটি তারার তিমির) কিংবা...’এ-মেয়েটি হাঁস ছিল একদিন হয়তো বা, এখন হয়েছে হাঁস হাঁস’ (লঘু মুহূর্ত : সাতটি তারার তিমির)।

কাব্যশিল্পে ব্যবহৃত এইসব উপমা, প্রতীক, রূপক, রূপকল্প ভাবনায় যখন তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও বিন্যাসে সত্যগুণসম্পন্ন হয়ে আমাদের নান্দনিক উপলব্ধি বাড়িয়ে দেয় তখন কবির সত্তাÑ উৎসারিত প্রকৃত কবিতাকে পৃথক করে চিহ্নিত করে দেখানো আজও আসম্ভব নয়। কেননা, কবি জীবনানন্দের কাব্য-দর্শনে উৎসারিত যে ইন্দ্রিয়তরঙ্গ বা মানবিক চেতনা সত্তার যে রূপ ও স্বরূপ গ্রাহ্য করা হয়েছে, তা এ শতাব্দীর গ্লোবালাইজেশনের আলোকে আজও অদ্বিতীয় এবং অবশ্যই অনন্য আরও কত যে বিপরীত...। কারণ ইতিহাস কাল মহাকাল বিজ্ঞান প্রত্নতত্ত্ব মিথ সবকিছুকে কবিতার বিষয় করে এক ইউনিফায়েড কোড তৈরির পথ দেখিয়েছেন যে, তার আবেশ বিস্তার থেকে আমরা কেউই আর বেরোতে পারছি না। একেই এক কৃষ্ণগহ্বর বলা যায়। তাই এই কৃষ্ণগহ্বর থেকে আরেক মহীরূহ জীবনানন্দ দাশ ছাড়া কি মুক্তি নেই আমাদের।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা