নাসরিন সুলতানা
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৫৭ পিএম
সাঈদ বারী পত্রপত্রিকায় বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন। ছোটদের জন্য তার মৌলিক সম্পাদনাসহ বিশটার বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। যারা সুন্দর ভবিষ্যৎ এবং রঙিন পৃথিবী দেখতে চান তারা শিশুদের জন্য কাজ করেন। শিশুরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠলেই পৃথিবীর মঙ্গল। তবে আজকের আলোচনা তার কোনো শিশুদের বই নিয়ে নয়। যে গ্রন্থের কথা জানানো হবে, যেখানে উপস্থাপন করা হয়েছে মানবজীবনের খণ্ড খণ্ড কিছু চিত্র। গ্রন্থটির দৃশ্য প্রকরণে লুকিয়ে রয়েছে জীবন বাস্তবতার গূঢ়রহস্যে।
সুন্দর করে অসুন্দর যুক্তি উপস্থাপন আর এক পক্ষের ছাড় দেওয়া। সেখানে শান্তি থাকে না। পথ বদলে ফেলতে হয়। না বদলালে সহ্য করতে হয়। পথ বদলালেও কি শান্তি থাকে? শান্তির একমাত্র শর্ত প্রেম। আমার কাছে প্রেম আর প্রণয় এক জিনিস নয়। ভালোবাসা নিয়েও আমার ব্যাখ্যাটা অন্য রকম। ভালোবাসা হচ্ছে ভালো রাখার চেষ্টা করা। প্রেম হচ্ছে পারস্পরিক ভালোবাসা। সেখানে কোনো স্বার্থ থাকে না। এই বইয়ের পাতায় পাতায় প্রেম আর খুনসুটি। আছে সুন্দর সুন্দর ছবিও। পারিবারিক সম্পর্কগুলো খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
প্রত্যেকটা লেখার ভিন্ন ভিন্ন শিরোনাম আছে। ঠাসাঠাসি করে লেখা নয়। খুব সহজেই পড়ে ফেলা যায়। বইয়ের মূল চরিত্রের তুমুল ব্যস্ততা। তাই সংসারের সব দায়-দায়িত্ব তার স্ত্রীর ওপর। তিনি এক দিন রাগ করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার বইমেলা কবে শেষ হবে?’ বইমেলা কবে শেষ হবে এটা তিনি অবশ্যই জানেন। তাই ওপাশ থেকে শান্ত কণ্ঠে উত্তর দেওয়া হলো, ‘আচ্ছা, আজ বাংলা একাডেমি থেকে ফেরার পথে জেনে আসব!’ রাগ প্রশমন করার কী অদ্ভুত কৌশল! আহ! বেচারা একটু পুরনো দিনের গানও গাইতে পারলেন না। পড়ে দেখুন তার লেখা বইয়ের ‘সংগীতের অসঙ্গতি’ শিরোনামের গদ্যটুকু।
বইটা পড়ে নিজের জীবনের সাথে মেলালে জীবনের কঠিন বাস্তবতা অনেকটা সহজ হয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করি। কোথায় কোথায় কঠিন হয়েছেন, কোথায় কোথায় ফাঁকি দিয়েছেন, সব মনে পড়বে। আর যদি কঠিন না হন, ফাঁকি না দেন তা হলে অনেক মজা পাবেন। একজন মানুষ আর কত দিন বাঁচে! জীবনকে জটিল করার কি খুব বেশি প্রয়োজন আছে? ভালোবাসার মধ্যেই জীবনের সার্থকতা। অনেক টাকা থাকলেই সুখী হওয়া যায় না। অনেক বান্ধবী থাকলেই প্রেম পাওয়া যায় না।
বইটা ভালো লাগার আর একটা কারণ হচ্ছে বইয়ে লেখকের পরিচয় দেওয়া আছে। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। কিছু কিছু প্রকাশক লেখকের পরিচয়টা দেন না। এটা অত্যন্ত একটা দুঃখজনক একটা ব্যাপার। অথচ লেখক না থাকলে তারা এই পেশায় আসতেই পারতেন না। ফেসবুকের লেখা নিয়ে বই করা মানে শুধু লেখকের প্রতি প্রকাশকের ভালোবাসা নয়; বিষয়টার গুরুত্ব দেওয়া। চমৎকার একটা বই। যাপিত জীবন শুধু একটা বই নয়; নয় কোনো রম্য রচনা বা লেখকের স্রেফ আত্মজীবনী। এই বই থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। বইটা হাজার বছর বেঁচে থাকুক।