ফজল হাসান
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৩৯ পিএম
লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। প্রতিকৃতি: জয়ন্ত সরকার
হাঙ্গেরির বিশ্বনন্দিত কল্পলেখক, কথাসাহিত্যিক ও চিত্রনাট্যকার লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। গভীর দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি, মনোমুগ্ধকর অনন্য বর্ণনাশৈলী এবং দূরদর্শী সাহিত্যকর্মের জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, নোবেল পুরস্কারের জুরি কমিটির সদস্য স্টিভ সেম-স্যান্ডবার্গ তার ‘শক্তিশালী, সংগীতময় অনুপ্রাণিত মহাকাব্যিক শৈলী’কে ভুয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি ‘অ্যাপোক্যালিপসের গুরুজি বা মাস্টার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এ ছাড়া তিনি তার সাহিত্যকর্মে ডাইস্টোপিয়ান এবং বিষণ্ন বিষয় সংযুক্ত করার পারঙ্গমতা দেখিয়েছেন। তার লেখার মাঝে এক ধরনের আলাদা গুণ আছে, আছে অলৌকিক চুম্বক শক্তি, যা শুধু বিদগ্ধ পাঠকরাই বুঝতে পারে এবং আহরণ করতে পারে কাহিনীর গভীর থেকে পরম স্বাদ। জেমস উড ২০১২ সালে ‘দ্য নিউ ইয়র্কার’-এর এক নিবন্ধে তাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের গুরুদের, যেমন থমাস বর্ণহার্ড, ক্লোড সিমন এবং ডেভিড ফোস্টার ওয়ালেসের পাশাপাশি স্থান দিয়েছেন। বলা হয়, বর্তমান বিশ্বের সেরা পাঁচজন ঔপন্যাসিকের একজন হলেন লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।
ডাস্টিন ইলিংওয়ার্থ ‘দ্য প্যারিস রিভিউ’-তে প্রকাশিত লাসলো ক্রাসনাহোরকাই সম্পর্কে মন্তব্য করে লিখেছেন, ‘লাসলো ক্রাসনাহোরকাইয়ের অবসেশন গোপন জিনিসের প্রতি, যেগুলো মানুষের জীবনের অন্ধকারাচ্ছন্ন দিক।’ ডিসটোপিয়ান এবং বিষণ্ন বিষয়বস্তুর জন্য প্রায়শই তার রচনাদি উত্তর-আধুনিক সাহিত্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
লাসলো ক্রাসনাহোরকাইয়ের জন্ম ১৯৫৪ সালে ৫ জানুয়ারি, হাঙ্গেরির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের (রোমানিয়ান সীমান্তের কাছে) ছোট শহর গিউলায়, যা রাজধানী বুদাপেস্ট থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তার বাবা ছিলেন আইনজীবী এবং মা ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মী। পরিবারের পক্ষ থেকে তার ইহুদি বংশ পরিচয় গোপন রাখা হয়েছিল। সমাজে সহজেই মিশে যাওয়ার জন্য তার পিতামহ পরিবারের নাম ‘কোরিন’ থেকে ‘ক্রাসনাহোরকাই’-এ পরিবর্তন করেছিলেন। তিনি পিতার মুখে বংশ পরিচিতি জেনেছেন, যখন তার বয়স ছিল এগারো বছর। সংগীতে ছিল তার প্রতিভা এবং কৈশোরে কয়েক বছর তিনি পেশাদার সংগীতশিল্পী হিসেবে কাজ করেছিলেন, জাজ ব্যান্ডে পিয়ানো বাজাতেন এবং রক গ্রুপে গান গাইতেন। একসময় তিনি বুদাপেস্টে হাঙ্গেরিয়ান সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন।
স্কুলজীবন শেষ হওয়ার পর তিনি সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তী সময়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, অশৃঙ্খলতার জন্য শাস্তি পাওয়ার পর তিনি সেনাবাহিনী ত্যাগ করেন। এর পর তিনি বিভিন্ন টুকিটাকি কাজ করেছেন, যেমন খনিতে কাজ করা এবং ৩০০ গরুর রক্ষী হিসেবে রাতের পাহারাদার। সেই পাহাদারের কাজ তাকে ফিওদর দস্তয়েভস্কি এবং মালকোম লোয়ারির ‘আন্ডার দ্য ভলকানো’ পড়ার সুযোগ করে দেয়। তিনি গ্রন্থটিকে তার নিজস্ব ‘বাইবেল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
লেখালেখির জগতে প্রবেশ করার পর লাসলোর উদ্দেশ্য ছিল একটি গ্রন্থ লিখে সম্পূর্ণ করা এবং তার পর সংগীত জগতে ক্যারিয়ার গড়ে তোলা। তিনি যখন তার প্রথম ছোটগল্প প্রকাশ করেন, তখন হাঙ্গেরির কমিউনিস্ট শাসনের অধীনে শিল্পী এবং লেখকদের সেন্সরশিপের মধ্যে থাকতে হতো। সেই গল্পের জন্য পুলিশ তাকে তলব করে তার কমিউনিস্টবিরোধী মতামতের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল এবং তার পাসপোর্ট জব্দ করেছিল।
লাসলো বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সাহিত্যকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। তার জীবনযাপন নিভৃত ও সংযত। তিনি প্রায়ই হাঙ্গেরির পাহাড়ি অঞ্চলে একাকী সময় কাটান, লেখালেখি নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন এবং ভ্রমণ করেন। এ ছাড়া তিনি চীনা ও জাপানি সংস্কৃতির দর্শন নিয়ে চিন্তা করেন।
লাসলোর লেখায় ছড়িয়ে থাকে এক অদ্ভুত বিষণ্ন, কাব্যময় ভাষা আর প্রতিমূর্তি। তার সাহিত্যকর্ম ফ্রাঞ্জ কাফকা এবং টমাস বার্নহার্ডের সাহিত্যকর্মের সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে। তার ভাষার গভীরতা ও জটিলতায় অনুপম প্রাণবন্ততা দিয়েছে চীনা এবং জাপানি শিল্প নান্দনিকতার সংমিশ্রণ। তার গদ্যকে বলা হয় ‘অবিরাম বাক্যের নদী’, কেননা তার বাক্যগুলো প্রায়ই কয়েক পৃষ্ঠা দীর্ঘ, যেখানে তিনি মানব চিন্তা ও সময়ের প্রবাহকে একাকার করে দেন। দেখা যায় বিশদ বিবরণ, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো গন্তব্যে পৌঁছায় না। তবে এ ধরনের দীর্ঘ বাক্য গঠন তার সিগনেচার স্টাইল। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০১৪ সালে ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি একটি ‘সম্পূর্ণ মৌলিক’ শৈলী তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাইছিলাম আমার সাহিত্যের পূর্বপুরুষদের থেকে অনেক দূরে বিচ্যুত হওয়ার স্বাধীনতা বজায় রাখতে এবং কাফকা বা দস্তয়েভস্কি বা ফকনারের নতুন কোনো সংস্করণ তৈরি না করতে।’ তবে এ কথা সত্যি যে, তার লেখায় গভীর দার্শনিক সুর, এক ধরনের মহাজাগতিক বিষণ্নতা; যেখানে ইতিহাস, ধর্ম, রাজনীতি, প্রকৃতি ও মৃত্যুর ধারণা মিশে যায়। এ ছাড়া আরও আছে বুদ্ধিমত্তার পরিচয়, আছে অভিনব কৌশলও।
লাসলো ক্রাসনাহোরকাইয়ের লেখা সাধারণত অত্যন্ত ঘন, দার্শনিক ও চ্যালেঞ্জিং হিসেবে ধরা হয়, যা এক ধরনের ‘শ্বাসরুদ্ধ’ পাঠ করার অভিজ্ঞতা দেয়। তার কাজগুলোর প্রধান স্টাইলের মধ্যে রয়েছে অরাজকতা, বস্তুহীনতা (absurdism) এবং অতিরঞ্জন (grotesque excess)। তার সাহিত্যকর্মকে অনেকেই ফ্রাঞ্জ কাফকা, স্যামুয়েল বেকেট কিংবা গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের ধারাবাহিকতায় রাখেন। যদিও তিনি নিজে কাউকেই অনুসরণ করেন না, বরং ভাষাকে এক অস্তিত্ববাদী সংগ্রামের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেন।
ইংরেজিতে অনূদিত লাসলো ক্রাসনাহোরকাইয়ের একাধিক পাঠকনন্দিত উপন্যাস এবং ছোটগল্পের সংকলন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সাটানট্যাঙ্গো বা শয়তানের ট্যাঙ্গো নৃত্য (১৯৮৫, ইংরেজি অনুবাদ ২০১২), দ্য মেল্যানক্যালি অব রিজিস্ট্যান্স (১৯৮৯, ইংরেজি অনুবাদ ১৯৯৮), ওয়ার অ্যান্ড ওয়ার (১৯৯৯, ইংরেজি অনুবাদ, ২০০৬), অ্যা মাউন্টেন টু দ্য নর্থ, অ্যা লেক টু দ্য সাউথ, পাথস টু দ্য ওয়েস্ট, অ্যা রিভার টু দ্য ইস্ট (২০০৩, ইংরেজি অনুবাদ ২০২২), সিওবো দেয়ার বিলৌ (২০০৮, ইংরেজি অনুবাদ, ২০১৩), দ্য ওয়ার্ল্ড গৌজ অন (২০১৩, ইংরেজি অনুবাদ ২০১৭), ব্যারন ওনকহেইমস হোমকামি’ (২০১৬, ইংরেজি অনুবাদ ২০১৯) এবং হার্শট ০৭৭৬৯ (২০২১, ইংরেজি অনুবাদ ২০২৪) উল্লেখযোগ্য। তবে টু দ্য নর্থ, অ্যা লেক টু দ্য সাউথ, পাথস টু দ্য ওয়েস্ট, অ্যা রিভার টু দ্য ইস্ট এবং সিওবো দেয়ার বিল গ্রন্থ দুটি তার অন্যতম সেরা সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।
লাসলো ক্রাসনাহোরকাইয়ের সাহিত্যিক সফলতা আসে ১৯৮৫ সালে মাতৃভাষায় প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস সাটানট্যাঙ্গো। এ উপন্যাসে তিনি অর্থনৈতিক ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং আধ্যাত্মিক নিঃশেষের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা একটি দরিদ্র গ্রামের জীবনচিত্র তুলে ধরেছেন। এই উপন্যাসটির ভাষা দুর্বোধ্য, তবে মন্ত্রমুগ্ধকর গদ্যে রচিত, যা প্রকাশের পরই হাঙ্গেরিতে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়, এমনকি ইউরোপীয় পাঠকসমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই উপন্যাস সম্পর্কে তিনি ‘দ্য প্যারিস রিভিউ’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘এটি কমিউনিস্ট ব্যবস্থার জন্য কোনো ধরনের সমস্যাবিহীন উপন্যাস নয়।’ যাহোক, বিশ্বখ্যাত হাঙ্গেরীয় চিত্রপরিচালক বেলা তার এই উপন্যাসটির চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন ১৯৯৪ সালে, যা আজও বিশ্ব চলচ্চিত্রে একটি কাল্ট ক্ল্যাসিক। উল্লেখ্য, চলচ্চিত্রটির দৈর্ঘ্য সাত ঘণ্টারও বেশি।
লাসলো ক্রাসনাহোরকাইয়ের দ্য মেল্যানক্যালি অব রিজিস্ট্যান্স উপন্যাসটি মানবসভ্যতার পতন ও নৈতিক শূন্যতার এক দার্শনিক কাব্য। একটি ছোট হাঙ্গেরিয়ান শহরে এক বিশাল তিমিসহ একটি সার্কাস আগমনের পরবর্তী ঘটনাবলি নিয়ে গড়ে উঠেছে এ উপন্যাসের কাহিনী। উল্লেখ্য, উপন্যাসটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠা এবং একটি মাত্র বাক্য রয়েছে। এই উপন্যাসের চিত্ররূপ ২০০০ সালে মুক্তি পায়।
অন্যদিকে তার ওয়ার অ্যান্ড ওয়ার এক সরকারি কেরানির চোখ দিয়ে দেখা যায় মানবতার শেষ সংগ্রামÑ যুদ্ধ, ইতিহাস এবং ভাষার মধ্য দিয়ে টিকে থাকার এক মরিয়া প্রচেষ্টা। এ উপন্যাসে লেখক হাঙ্গেরির সীমান্ত ছাড়িয়ে দৃষ্টি বিস্তার করেছেন অন্য প্রান্তে। এখানে এক সাধারণ আর্কাইভ কর্মচারী করিন, জীবনের শেষ অধ্যায়ে সিদ্ধান্ত নেয় বুদাপেস্টের প্রান্ত থেকে নিউইয়র্কে যাওয়ার, যেন এক মুহূর্তের জন্য হলেও তিনি ‘বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে’ দাঁড়াতে পারে। একসময় তিনি আর্কাইভে খুঁজে পেয়েছে এক অতিপ্রাচীন ও অপূর্ব মহাকাব্য, যেটিকে তিনি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন।
জাপানের কিয়োটো শহরের দক্ষিণ-পূর্বে ঘটে এমন একটি রহস্যময় কাহিনী, যা শক্তিশালী কাব্যিক অংশের মাধ্যমে বলিষ্ঠভাবে প্রকাশিত হয়েছে অ্যা মাউন্টেন টু দ্য নর্থ, অ্যা লেক টু দ্য সাউথ, পাথস টু দ্য ওয়েস্ট, অ্যা রিভার টু দ্য ইস্ট উপন্যাসে।
অন্যদিকে সিওবো দেয়ার বিলৌ (১৭টি গল্পের সংকলন) লাসলো ক্রাসনাহোরকাই প্রাচ্যের শিল্প, বিশেষত জাপানি নন্দনতত্ত্বকে কেন্দ্র করে এক আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান রচনা করেন। গল্পগ্রন্থটি প্রকাশিত হওয়ার পর পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে।
জার্মানির পটভূমিকায় লেখা তার হার্শট ০৭৭৬৯ উপন্যাসটি এক গ্রাফিতি পরিষ্কারককে নিয়ে, যিনি তৎকালীন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলকে চিঠি লিখে সতর্ক করে যে, বিশ্ব ধ্বংসের পথে। এই উপন্যাসটি ৪০০ পৃষ্ঠার, যেখানে মাত্র একটি পূর্ণযতি ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসানো ঈশ্বরের কাজ। যাহোক, নোবেল কমিটি এই উপন্যাসের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করে বলেছে যে, এতে হাঙ্গেরির সামাজিক অস্থিরতা নির্ভুলভাবে আখ্যায়িত হয়েছে। তাদের মতে, এটি একটি ‘দুর্দান্ত সমসাময়িক জার্মান উপন্যাস’।
অসংখ্য উপন্যাস ছাড়াও লাসলো ক্রাসনাহোরকাই অনেকগুলো উপন্যাসিকা (নভেলা) এবং ছোটগল্প রচনা করেন। দ্য ওয়ার্ল্ড গৌজ অন তার অন্যতম ছোটগল্প সংকলন, যা ২০১৮ সালে ‘ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল’ পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেয়েছিল। তবে তার আগেই তিনি ২০১৫ সালে ‘ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল’ পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি ২০১৯ সালে ‘ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড ফর ট্রান্সলেটেড লিটারেচার’ পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া তার ঝুড়িতে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার রয়েছে, বিশেষ করে ১৯৯৩ সালে জার্মান ‘বেস্টেনলিস্ট’ পুরস্কার এবং ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক লেখালেখিতে আজীবনের অবদানের জন্য ‘আমেরিকা পুরস্কার’। লাসলো ২০০৭ সাল থেকে বার্লিনে বসবাস করেন।
সব শেষে বলা যায়, হাঙ্গেরিয়ান এই ঔপন্যাসিকের বিচ্ছিন্নতার বর্ণনার সাহিত্যকর্ম আমাদের বর্তমান সময়ের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। লাসলো ক্রাসনাহোরকাই আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, ভাষা কেবল প্রকাশের মাধ্যম নয়, বরং তা মানব আত্মার গভীরতম প্রতিধ্বনি। তিনি বলেছেন, ‘বেঁচে থাকা সুন্দর নয়, জীবনও সুন্দর নয়, শুধু মানুষই সুন্দর।’ আর এই বিশ্বাসই তাকে আধুনিক ইউরোপীয় সাহিত্যের, তথা সারা বিশ্বের, অনন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিকে পরিণত করেছে।