পঠিত
হাসনাত মোবারক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫ ১৩:৫২ পিএম
আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৩৫ পিএম
আমাদের সৃজনশীলতার বৈচিত্র্যময় সম্ভার হলো লোকসংস্কৃতি। লোকায়ত জীবনের দর্শন, লোকনন্দন এবং লোক ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে ঢাকা থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হচ্ছে ‘লোকভাবনা’ নামের একটি পত্রিকা। এটি মূলত ফোকলোর বিষয়ক কাগজ। সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে এর বর্ষাসংখ্যা।
রঙিন মলাট আর সাদা-কালো সমেত অলংকরণে ঋদ্ধ এই সংখ্যাটি। সেটি নিয়েই আলোকপাত করছি। পত্রিকাটির সম্পাদক লিখেছেন ‘ক্ষেত্রসমীক্ষার মাধ্যমে লোকসংস্কৃতির বিচিত্ররূপ, অপরিমেয় সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করার সুযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও লোকসংস্কৃতির এমন বিশেষ উপাদান রয়েছে তা কোথায়, কীভাবে পাওয়া যেতে পারে তারও সন্ধান এবং স্বরূপ বুঝবার জন্য তখন আমাদের জাতীয়ভাবে নাড়িয়ে দেয় এইসব লেখা, উদ্দীপনার সৃষ্টি করে; ঐতিহ্য ধারণের জন্য প্রাণিত করে সঞ্জীবনী শক্তির আধার হয়ে।’ উপর্যুক্ত কথার সাদৃশ্য মেলে সূচিবদ্ধ লেখাগুলো নিবিড়ভাবে পাঠ করলে।
প্রবন্ধ পর্ব শুরু হয়েছে আবুল আহসান চৌধুরীর লেখা দিয়ে। এই গবেষক লিখেছেন আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদকে নিয়ে। সাহিত্যবিশারদ আমাদের লোকসংস্কৃতির স্বর্ণসূত্র। তাকে নিয়ে লেখা এ প্রবন্ধটি স্বল্পকায় হলেও পাঠ-বিস্তারে জানা যায় অনেক তথ্য।
মিলন কান্তি দে লিখেছেন স্মৃতির অতলে তলিয়ে যাওয়া ঢাকার পালপাড়া নিয়ে। এই প্রবন্ধটি থেকে জানা যায় ঢাকার পালপাড়ার ইতিহাস। কারওয়ান বাজার থেকে আধা মাইল দূরে একসময় পালদের বসবাস ছিল! যা এই লেখাটি পড়ে ঢাকার অনেক ইতিহাস জানা হলো।
মুরশিদা গান নিয়ে লিখেছেন হাফিজ রশিদ খান। দারুণ ঋদ্ধ এ প্রবন্ধটিতে মুরশিদা গানের আর্তি ও আকুতির সুর শুনতে পাওয়া যায়। সুমনকমুার দাশ লিখেছেন হাসন রাজার গানের দর্শন নিয়ে।
দেবতুষ মিশ্র চৌধুরী লিখেছেন শঙ্খশিল্প নিয়ে। তার লেখার শিরোনাম, ‘পুরাণ ইতিহাস ছুঁয়ে একবিংশ শতকীয় অর্থনৈতিক পরসরে শঙ্খশিল্প।’ শিরোনাম দেখেই পাঠতৃষ্ণা বাড়ায় অনেকখানি। বিবি হাবিবা লিখেছেন ঢাকার বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে। এটিও তথ্যবহুল লেখা। শ্রমসাধ্য একটি কাজ। সাবিহা ইয়াসমিন লিখেছেন সিলেটের মুসলিম আদিবাসী পাঙালদের ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ে।
কিংবদন্তি পর্বে লিখেছেন, মোহাম্মদ আলাম চৌধুরী। তিনি লিখেছেন বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য আর কিংবদন্তিতে ভরা দারিয়ার দিঘি গ্রাম নিয়ে। এই লেখাটি পড়ে সত্যিই দারিয়ার দিঘি দেখার খায়েশ জন্মাল।
আশিক আজিজের ক্ষেত্র সমীক্ষায় উঠে এসেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের বাঁশ-বেত শিল্পের বর্ণানা।
আবু সাইদ তুলু লিখেছেন নাগরিক ফোকলোর নিয়ে। তার এ লেখাটি মূলত শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল মঞ্চস্থ ময়মনসিংহ অঞ্চলের ‘মলুয়া’ পালা অবলম্বনে ‘মলুয়ার প্রেমাখ্যান’ নিয়ে।
লোকবাদ্যযন্ত্র পর্বে আমিনুর রহমান সুলতান লিখেছেন গারোদের বাদ্যযন্ত্র নিয়ে। এই জাতিগোষ্ঠীর বাদ্য যন্ত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় এই লেখাটি পড়লে। এই লেখায় গারোদের বাদ্যযন্ত্র তৈরিতে কী কী জিনিস লাগে। সে সম্পর্কেও জানা যাবে। শত বাদ্যে বাদ্যের সুরে বাঁধা এই জাতিগোষ্ঠীর কাছে গিয়ে দেখার আগ্রহও জন্মাল সুলতানের এই লেখাটি পড়ে।
লোকনন্দনের সাহিত্য পর্বে লিখেছেন খালেদ হোসাইন। এই লেখক লিখেছেন লোক-ঐহিত্যের কবি আল মাহমুদের সোনালি কাবিন নিয়ে। এই পর্বে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতা নিয়ে লিখেছেন রুমা আক্তার। লোকজ জীবন ও শিল্পরূপ কীভাবে উঠে এসেছে রুদ্রর কবিতাতে সেটাই এই লেখার বিষয়।
রিফ্ফাত সামাদ অনুবাদ করেছেন স্যার জেমস জর্জ ফ্রেজারের ‘প্রাচীন ভারতীয় মহাপ্লাবনের কাহিনি’। অস্কার ওয়াইল্ডের ‘একজন সুখী রাজপুত্তুরের গল্প’ অনুবাদ করেছেন সামিও শীশ। নিশাত তাসনীম মুন লিখেছে ফারসি ব্যঙ্গ সাহিত্যের অগ্রপথিক উবাইদ জাকানির লোকজ ধারার রম্য কৌতুক নিয়ে।
আবদুল্লাহ আল-মিম লিখেছেন মরমি সাধক আজাদ ফকির ও তার গান নিয়ে।
কবিরাজ বিমলা সরকারের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সফিকুল ইসলাম। বিমলার সঙ্গে এই কথোপকথনে আমাদের লোকচিকিৎসার অনেক বিষয় সম্পর্কে জানা যাবে।
কুষ্টিয়ার লোকখাদ্য নিয়ে লিখেছেন সোহেল আমিন বাবু। এই সংখ্যার অন্যতম আকর্ষণ রাজশাহী অঞ্চলের লোকজ শব্দ নিয়ে লিখেছেন হাসান ঈমাম সুইট।
লোক বাংলা কবিতা পর্বে গুচ্ছ কবিতা লিখেছেন জরিনা আখতার ও পিয়াস মজিদ। লোকবাংলা গল্প পর্বে গল্প লিখেছেন ধ্রুব এষ, মনি হায়দার। পারস্য ফোকলোর নিয়ে লিখেছেন, মুমিত আল রশিদ। চীনা ফোকলোর নিয়ে লখেছেন সাদিয়া আক্তার। এ ছাড়াও আছে লোকসাহিত্য নিয়ে কয়েকটি বই আলোচনা।
পত্রিকা : লোকভাবনা
বিষয় : ফোকলোর
প্রকাশকাল : বর্ষা ১৪৩২
সম্পাদক : আমিনুর রহমান সুলতান
প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ
অলংকরণ : নাসিম আহমেদ
মূল্য : ২০০ টাকা