আইয়ুব মুহাম্মদ খান
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৫ ১৪:১৫ পিএম
তোরা কী করলি! হায়, হায়! তোরা কী করলি! তোরা ক্যামনে, তোরা ক্যামনে এই বাড়ি বেইচ্যা দিলি! আমার আত্মায় রক্ত বইতাছে! আমারে কুবিয়্যা মাইর্যা ফালা। আমি কনে যামু! ও... সাধু তুমি কনে? ও সাজাহান, তুই কনে বাবা? তোরা আমারে গোরস্তানে নইয়্যা যা! আমি তোগো নগে থাকুম! ওরা আমারে সাধুর ঘর থিক্যা জোর কইর্যা বাইর কইরা দিল! এইড্যা আমার স্বামীর ঘর। এইডা আমার ব্যাটার ঘর। আহারে...! আহারে...! আও আও করে কিছুক্ষণ কাঁদে সাজেদা বেগম। তারপর আবার বলেÑ আমার স্বামী মরল। আমার একমাত্র ব্যাটা আছাল সাজাহান। বিয়ের লায়াক হইল। আল্লায় তারেও নিয়্যা গেল! তিনড্যা ম্যায়া। ওরা ম্যায়া না, ওরা জালিম। ওরা আমারে স্বামীর ভিটা ছাড়া করল! ওরা ষড়যন্ত্র কইর্যা আমারে না জানিয়্যা বাড়িঘর আজমতের কাছে বেইচ্যা দিল। আজমত কী করলি তুই এইড্যা! তুই কী করলি! দেশে কি বাড়িঘরের অভাব! সাধুর বউরে বাড়িঘর ছাড়াকরণ লাগব তোর! সাজাহানের মায়রে বাড়িঘর ছাড়া করবি! হস্তা দামে পাইছত। আমি কেছ করুম। তোরে জেলের ভাত খাওয়ামু। আহারে! আমি কনে থাকুম! আমি কনে যামু?
মা, তুমি আমার কাছে থাকপা। আমাগো বিল্ডিংয়ে তোমার জন্য রুম বানাইছি। বড় মেয়ে বলে।
হারামজাদি, আমি তোগো কাছে থাকুম না। তোগো দালানে আমি থুতু দেই। থু..., থু...! তোরা তিনটা বইনই কাফের! তোগো বাপ-ভাইয়ের প্রতি ময়া-মমতা কিচ্ছু নাই! হায়, হায়! বাপে তোগো এত আদর করত। তোরা কাফের! আমার ভেতর জ্বইলা-পুইড়া যাইতাছে! এই ঘরে আমার স্বামীর চিতি, এই ঘরে আমার পোলা সাজাহানের চিতি! তাগো আমি কনে পামু। আজমত ঘরডা ভাঙিছ ন্যা। তোর ওপর ঠাটা পড়ব।
আমি ট্যাকা দিয়্যা কিনছি। আমারে বরদোয়া দ্যাও কিয়্যারে। আজমত জবাব দেয়।
ওই হারামি, তুই কিনছত ক্যা? আমার জাগা কনে?
তুমিও তো সই দিছ?
আমি কবে সই দিছি!
তোমার ম্যায়াগো নগে কতা কও।
আমি কেস করুম।
তুমি কিচ্ছু করবার পারবা না। তোমার সই আছে।
সাজাহানের মা কিছুক্ষণ আমলিয়ে কাঁদে! তারপর কাঁদতে কাঁদতে বলেÑ
আজমত, আমি তোরে অভিশাপ দিল্যাম। তুই ছাই হইয়্যা যাবি।
তোমার ম্যায়াগো অভিশাপ দ্যাও। আমি বহু কষ্টের ট্যাকা দিয়্যা কিনছি।
ওরাও পুইড়্যা মরব। তুইও মুক্তি পাবি ন্যা। আমারে যে পুড়া-পুড়লি, এই পুড়া তোরা সবাই পুড়বি। এই কথা বলতে বলতে সাজাহানের মা দুয়ারে পড়ে যায়। হাত-পা ছিটাছিটিসহ হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। চারপাশের মানুষ আসে। সাধুর বাড়ি মানুষ দিয়ে ভরে যায়।
মাইক মজিদের মা দুঃখে কাঁদে আর বলেÑ ওরে তরা ধরছ না কিয়্যারে! ও মইর্যা যাইব গা। ওর ম্যায়া তিনড্যা আজরাইল! সাজাহানের মা, ওঠ বইন। কপালে আল্লায় এইগুল্যা ন্যাকছাল! কপাল ভাঙলে মাইনষের সব শেষ। সাধু মরছাল, মরছাল। তোর বিয়্যার লায়াক পোলা মরব কিয়্যারে! কপালের ফ্যার রে বইন! ওঠ, কান্দিছ ন্যা।
গ্রামের বহু মানুষ জড়ো হয়েছে। হঠাৎ চান্দার মা ধমকের সুরে হাশেমের মেয়ে নুরজাহানকে বলেÑ এই ব্যালাহাজ মাগি, ডুপার মতন বুক! লাগে জানি জামা ছির্যা বাইরিয়্যা আইব! বুকের কাপড় ঠিক করছ না কিয়্যারে। ছ্যামড়াগুলারে যৌবন দ্যাহাছ! ছিন্যালিপানা করছ! যা এ্যান থনে। ব্যাদারা মাগি! পাড়াডা নষ্ট করবার খাড়াইছত! ছিঃ! ছিঃ! ছিঃ! কী হইছে জমিরের ম্যায়াডা! নুরজাহান লজ্জা পেয়ে দ্রুত বাড়ি চলে যায়।
মসজিদের ইমাম সাহেব বলেন, শুনেছি সাধু মল্লিক বহু পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। মেয়ে তিনটির চেহারা ছুরত ভালো। মেয়ে তিনটির ভালো বিয়ে হয়েছে। তারা তো সুখেই আছে। মায়ের সঙ্গে এমন করল কেন? ছেলেটা কীভাবে মারা গেল, মাস্টার সাহেব?
সাজু মাস্টার হুজুরকে বলে, সাধু তার সমবয়সি ছিল। সে তার খুব কাছের ছিল। সাধুর ছেলে সাজাহান বাপের মতোই পরিশ্রমী ছিল। সাধু মরে যাওয়ার পরে সাজাহান পরিশ্রম করে বাড়িতে সুন্দর একটি টিনের ঘর দিয়েছে। মাকে সে সুখে রেখেছে। ছেলের বয়স পঁচিশ হয়েছে। মা তার বিয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে। তাকেও পাত্রী দেখতে বলেছে। কিন্তু সাজাহান বিয়ে করতে চায়নি। মাকে বলেছে, সে আর পাঁচটি বছর পরে বিয়ে করবে। নিজের দশটি গরু বানাবে। বিঘা দুয়েক জমি ক্রয় করবে। তারপর বিয়ে করবে। মা ছেলের উন্নতির কথা শুনে খুশি হয়েছে। এরপর থেকে সে আর ছেলেকে বিয়ের কথা বলত না। কথাটি বলার ছয় মাস পর সাজাহান অসুস্থ হলো। প্রথমে জ্বর। এক মাস জ্বর থাকার পর শরীরে নানারকম সমস্যা দেখা দেয়। তিন মাস পর শরীর শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। ছেলেকে সুস্থ করার জন্য কত জায়গায় যে নিল, সে কথা বলে শেষ করা যাবে না। নরিলাপুর সজল ফকিরের বাড়ি নিয়েছে। সিলেট হজরত শাহজালাল (র.) মাজারে নিয়েছে। কত মানত করেছে। অবশেষে সাজু মাস্টার সাজাহানকে ঢাকায় নিয়ে গেল। ডাক্তার দেখাল। কিছুতেই কিছু হলো না। ঘরে জমানো টাকা সব শেষ হলো। সাত মাসের মাথায় শ্রাবণের এক চান্নিপশর মধ্যরাতে সাজাহান মাকে জীবনের শেষ ডাক দিয়ে চলে গেল। সেই তো মায়ের মনে আগুন ধরল। এ আগুন নেভানোর সামর্থ্য জগতের কারও নেই! সাজাহান মারা যাওয়ার পর ওর মা এই বাড়ি আঁকড়ে পড়ে আছে। খেয়ে না খেয়ে স্বামী ও পুত্রের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে ছিল সে। হঠাৎ পাশের বাড়ির আজমত তাকে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলছে। দেখেন, ঘর ভেঙে ফেলল। সবাইকে দলিল দেখাল। কী বলতে পারি, বলেন? মাথায় আসমান ভেঙে পড়ছে। গ্রামের মেম্বার-মাদবর সবার কাছে গিয়েও লাভ হলো না। সবাই আজমতের পক্ষে কথা বলে। ঘটু মাদবরের কথাÑ ওর ম্যায়ারা বাড়ি বিক্রি করে দিছে। তাদের কী করার আছে! সাজাহানের মা তার অংশের কথা বলে। মাদবর জানায়Ñ দলিলে তার টিপসই আছে। সাজাহানের মা কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি চলে আসে। মাস্টার সঙ্গে ছিল। সাজাহানের মা রাত-দিন কাঁদে! পরে জানতে পারে মেজো মেয়ে তারে ভাতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ দিয়েছে। মেয়েরা ঘুমের মধ্যে তার টিপসই নিয়েছে। আজমত তিন মাস সময় দিয়েছিল। তিন মাস পরে সে তার বাড়ি বুঝে নিচ্ছে। কে, কী করতে পারবে, হুজুরকে সে বলে।
সাজাহানের মা চেয়ারম্যানের কাছে যেতে চায়। সব সময় তিন মেয়ের এক মেয়ে তার সঙ্গে থাকে। এভাবে তিন মাস শেষ হলো। আজমত বাড়িঘর বুঝে নিল। সাজাহানের মা অজ্ঞান হয়ে পড়েছে! পাড়াপড়শিদের অনেকেই তার মাথায় পানি ঢালছে। অনেকে কাঁদছে। বেলা তখন বিকাল ৫টা বাজে। তিন মেয়ে সাজাহানের মাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়। সাজাহানের মা জনমের মতো স্বামীর ভিটা থেকে চলে যায়। ছোট মেয়ে কাঁদে আর বলেÑ আমি বারবার বাড়িঘর বিক্রি করতে না করলাম। আমার কথা আমার বোনেরা শুনল না। আমার জামাইও রাজি ছিল না। তার পরও তোরা বাড়িঘর বেচলি। মার কান্দনে আসমান-জমিন কানবার লাগছে। গত রাইতে বাবারে ও ভাইয়েরে স্বপ্নে দেখলাম। দুইজনে আমার কাছে বইহ্যা কয়Ñ তোরা এই কাম করলি ক্যান? ভাইয়ে কয়Ñ মায় অহন কনে থাকপো। আমি কইছি মায় আমার টান থাকপো।
মা বলেÑ আমি কারও কাছে থাকুম না। আমি ফাঁসি দিয়্যা মরুম। ছোট মেয়ে রবিতন ও তার জামাই জোর করে ধরে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। মেয়ের বাড়িতে পনেরো দিন অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকে সাজাহানের মা। কথা বলতে পারে না। শুধু চোখ বেয়ে পানি পড়ে। তার দুঃখে বৃক্ষের পাতা ঝরে। রবিতনের চাচি শাশুড়ি বলেÑ বউ তোরা মাডারে এত কষ্ট কিয়্যারে দিলি! স্বামীর ভিটা একটা নারীর কাছে বড় পবিত্র জাগারে! বয়েসকালের ব্যাটাডাও গেছে গা। তোরা কী করলি বউ! ওই ভিটায়ই তো ওর স্বামী ও ওর ব্যাটার গন্ধ পাইব। তোরা কিয়্যারে ওরে এই ভিটা ছাড়া করলি। ওরে তো তোরা বাঁচিয়্যা রাখবার পারবি না। এভাবে এক মাস চলে যায়। ডাক্তার ও কবিরাজ দেখায়। অবস্থা ভালো হয় না। নিকালির মা গাছন্ত দিয়ে জন্তিরস করে দেয়। জন্তিরস মুখে ঢেলে দেয় আর বলেÑ তোর সাধুর কাছে যাবি? সাজাহানের কাছে যাবি?
হ, হ যামু। আমারে নিয়্যা যাও।
নিকালির মা রবিতনকে বলে, তোর মায়রে তোর বাপের ভিটায় দিয়্যা আয়গা। এইহানে রাইখ্যা ওরে বাঁচিয়্যা রাখবার পারবি না। সাজাহানের মা নড়াচড়া দিয়ে বলেÑ আমারে আজিনগর দিয়্যা আয়। আমারে ডাক্তার দ্যাহান নাগব না। আমারে তোরা দিয়্যা আয়। আমি কদ্দুছের বাইত্তে থাকুম। প্রতিদিন আমি আমার স্বামীর ভিট্যাডা দেহুম। আমারে দিয়্যা আয়। আমি রাইত ভইর্যা সাধুরে স্বপ্নে দেহি! আমার ব্যাটা সাজাহানরে দেহি।
রাত হয়ে পড়ে। সবাই ঘুমাতে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে রবিতন তার মাকে দেখতে পায় না। সে বুঝতে পারে মা হাজিনগর চলে গিয়েছে। রবিতন একটু রাগ করে। সে সকালে একটু খাবার মুখে দিয়েই হাজিনগর চলে যায়। সারা গ্রাম খুঁজেও মাকে পায় না রবিতন! রবিতন স্বামীর বাড়ি চলে আসে। সন্ধ্যার একটু আগে সাজাহানের মা কবরস্থানের পথ বেয়ে কুদ্দুছের বাড়িতে চলে আসে। কুদ্দুসের মা বলেÑ তুই কনে আছিলি সারা দিন? সহেলার বাপ গেন্দু মিয়া বলেÑ সারা দিন গুরুস্থানে সাধু ভাই আর সাজাহানের কব্বরের ওপরে হুয়্যা আছাল। কুদ্দুছের মা জিজ্ঞেস করে দুপুরে খাইছত কিছু? গেন্দু মিয়া বলেÑ আমি তো গুরুস্থানের নগের ক্ষেতে কাম করছি হারা দিন। দুপুরে আমি দুগা জুর কইর্যা খাওয়াইছি।
এভাবেই নিজের গ্রামে এক বছর সাত মাস কেটে যায় সাজাহানের মার। দিনভর কুদ্দুছের বাড়িতে কাজ করে। রাতে এসে স্বামীর ভিটার সঙ্গে খোয়াজের ঘরের বারান্দায় বিছানা বানিয়ে শুয়ে থাকে। খোয়াজ ও খোয়াজের বউ দুজনেই বলেছে, বুজি তুমি আমাগো বারিন্দ্যায় হুয়্যা থাইকো। খোয়াজ বারান্দায় সুন্দর করে বেড়া দিয়েছে যাতে সাজাহানের মা ভালোভাবে থাকতে পারে। তিন মেয়েই কয়দিন পরপর মাকে নিতে আসে। কোনোভাবেই তাকে নিতে পারে না। ছোট মেয়ে খোয়াজের কাছে প্রতি মাসে ৫০০ করে টাকা দেয়। তার মাকে একটু দেখতে বলে। খোয়াজ সাজাহানের মাকে যথেষ্ট আদর-যত্ন করে রাখে। মাঘ মাসের সতেরো তারিখ। কবরস্থানে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। সারা রাত সাজাহানের মা ওয়াজ শুনেছে। স্বামী সাধু ও পুত্র সাজাহানের জন্য কেঁদে কেঁদে আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছে। আল্লাহর কাছে আরও দোয়া করে আজকেই যেন আল্লাহ তাকে তার স্বামী ও পুত্রের কাছে নিয়ে যায়। এই দোয়া করতে করতে অঝোরে কান্না করে সাজাহানের মা। রাত চারটায় মোনাজাত করে মাওলানা সাহেব ওয়াজ শেষ করেন। তবারক খাওয়ার একটু পরই ফজরের আজান হয়। মানুষজন মাহফিল থেকে চলে যেতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যে ওয়াজ মাহফিল প্রাঙ্গণ খালি হয়ে যায়। সাজাহানের মা আস্তে আস্তে স্বামী ও পুত্রের কবরের কাছে যায়। দুই কবরের মাঝখানে খালি জায়গায় শুয়ে পড়ে। শুয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুম আসে। রাত গিয়ে দিন হয়। সাজাহানের মা ঘুমিয়ে আছে। কেউ তার খবর নেওয়ার সময় পায়নি।
আসলে একান্ত আপন মানুষ ছাড়া এই জগতে কে কার খবর রাখে!
বেলা প্রায় চারটা বাজে। নজিমুদ্দিন দশ বছর পর বিদেশ থেকে দেশে এসেছে। পিতা মরেছে, চোখের দেখা দেখতে পারেনি। পিতার কবর জিয়ারত করতে এসেছে। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে নজিমুদ্দিন বাবার জন্য দোয়া করছে। কবর জিয়ারত শেষে আশপাশে তাকায়। দেখে একটু দূরে দুই কবরের মাঝখানে একজন মহিলা পড়ে আছে। কাছে গিয়ে ডাক দেয়। কোনো সাড়াশব্দটি নেই। একটু দূরে কুদ্দুছ ও পাহালি কাজ করছে। তাদের ডাক দেয়। তারা আসে। তিনজনে দেখতে পায় সাজাহানের মা আর দুনিয়াতে নেই। খবরটি মুহূর্তে সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। নানারকম কথা হয়। ছত্তরের মা হাসনা ভানু বলেÑ ওর ডাক আল্লায় হুনছে। ও বাঁইচ্যা গেছে গা। অহনে স্বামীর নগে, পোলার নগে থাকবার পারব। অহনে সুকে থাকবার পারবি বইনে। আল্লায় তরে চিরসুক দেউক বইনে। আহারে! স্বামীর ভিটার জইন্যে কী দরদ তর বইনে! ব্যাটা আর স্বামীর মধ্যহানে ওরে কব্বর দিও তোমরা।