খালেদ হোসাইন
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৫ ১৬:৪৭ পিএম
জন্মের আগের কোনো কথা আমার মনে নেই।
মাতৃগর্ভের কোনো স্মৃতি নেই। শৈশব-কৈশোরের
কত কথা ভুলে গেছি। এখন বয়স হয়েছে, ভুগছি
ডিমেনসিয়ায়। মৃত্যুর পরে কি আর আমার এই
জীবনের কথা মনে থাকবে?
আমার কি মনে থাকবে, যুদ্ধবিক্ষুব্ধ এক
পৃথিবীতে আমি এক ভালোবাসাময় জীবন
কাটিয়েছিলাম? কম মানুষই আমাকে
ভালোবাসতে পেরেছে কিন্তু আমি তো
অনেককে ভালোবেসেছিলাম। ধর্ম-বর্ণ
কখনও কোনো অন্তরায় সৃষ্টি করেনি,
নারী-পুরুষও নয়। আমি ভালোবেসেছি
গাছপালা, নদী-নালা, পাহাড় ও শস্য-প্রান্তর।
কিন্তু আমাকে যারা ভালোবেসেছিল
তারা কেউ কম ভালোবাসেনি।
যারা দূরে সরিয়ে নিয়েছিল নিজেকে
তা করেছে আমার মঙ্গলের জন্যই।
সস্তা রেস্তোরাঁয় কেউ মুখে তুলে দিয়েছে
ডিম-পরোটা, পাঁচতারা হোটেলে কেউ
মুখোমুখি বসেছিল সুদীর্ঘক্ষণ, চোখ
থেকে বেরিয়ে এসে প্রত্ন লাভা।
কেউ সকালবেলায় নিয়ে গিয়েছে
সমুদ্র-শহরে, বিকালে ফিরিয়ে এনেছে
অন্ধ এক গোলকধাঁধায়। সব ভুলে যাব?
গভীর রাত্রিতে আকাশের দিকে তাকালে
আমি দেখতে পাই মৃত সব স্বজনের চোখÑ
কিছু আর মনে থাকবে না? ভুলে যাব
মায়ের প্রথম স্পর্শ, দয়িতার প্রথম চুম্বন?
আগে আমি ছিলাম না, পরেও কোথাও
থাকব না। এর মানে, এখনও আমি নেই।
গাছের কচিপাতা, কাঁচা আমের ঘ্রাণ
সন্তানদের সুখচ্ছবি, দৌহিত্রীর চোখ
সব ভুলে যাব।
তোমাদের কারও সঙ্গে আর
কোনোদিন দেখাও হবে না। কোনোদিনও না।