× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রশ্নভূত

বিশ্বজিৎ দাস

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৫ ১৬:৫৫ পিএম

প্রশ্নভূত

ভাইজান কই যাইবেন? অটোওয়ালা জানতে চাইল।

পার্থ কোনো জবাব দিল না।

অটো থেকে নেমে ভাড়া দিল। এদিক-ওদিক তাকাল। রাস্তার দুই পাশে ঘন জঙ্গল। পুরো রাস্তায় আর কোনো যানবাহন চোখে পড়ল না।

ভাইজান কি ফিরে যাবেন? আপনি বললে অপেক্ষা করতে পারি। অটোওয়ালা আবার বলল।

মাথা নাড়ল পার্থ। গোপন কাজে এসেছে। কাউকে সঙ্গে রাখা নিষেধ।

ভাইজান একটা প্রশ্ন করতে পারি?

চোখ গোল করে লোকটার দিকে তাকাল ও।

কী জানতে চান?

এখানে কি নেশাটেশা বিক্রি হয়?

জবাবে কী বলবে ভেবে পেল না পার্থ। লোকটা ওকে নেশাখোর ভেবেছে!

দুর মিয়া! আমি ছাত্র মানুষ। এখানে এসেছি পিকনিকে। জঙ্গলের ভেতরে আমার বন্ধুরা আছে। ওদের এখনই ফোন করব। পকেট থেকে মোবাইল বের করল ও।

অটোওয়ালা মনে হয় হতাশ হলো।

গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে চলে গেল।

কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল পার্থ। তারপর মোবাইলে ম্যাপ খুলে লোকেশনটা দেখল।

পার্থ এদিক-ওদিক তাকাল। তেমন কাউকে দেখল না। জায়গাটা এমনিতেই নির্জন। তার ওপর জঙ্গল চারদিকে। মাত্র বিকাল। তাতেই যেন সন্ধ্যা নেমে এসেছে। গুগল ম্যাপে আবার লোকেশন দেখল পার্থ।

এখানে একটা রাস্তার দিক নির্দেশ করছে। বড় করে দম নিল ও।

সাহস হারালে চলবে না। যে কাজে এসেছে সে কাজে ব্যর্থ হওয়া চলবে না।

বন্ধুরা তাহলে হাসাহাসি করবে।

কয়েক দিন আগে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে পার্থর। পরীক্ষার হলে পৌঁছে সিট দেখে হতাশ হয়ে পড়েছিল ও। রুমের এক পাশের বেঞ্চে ওর সিট। ওর সঙ্গে বসেছে একজন ছাত্রী। অন্য স্কুলের।

ওর স্কুলের সব বন্ধুই এ রুমে বসেছে। পার্থ বাদে বাকি সবার বেঞ্চ পাশাপাশি।

হতাশা মনে চেপে রেখে কোনোমতে পরীক্ষা শেষ করেছিল পার্থ।

কী রে একা একা কেমন পরীক্ষা দিলি? আদিল, ওর ঘনিষ্ঠ বন্ধু, জানতে চাইল।

খারাপ। খুব খারাপ।

কেন? তুই প্রশ্নপত্র পাসনি?

না। কোথায় পেয়েছিস প্রশ্নপত্র?

কোথায় আবার! ফেসবুকে।

আমি তো ফেসবুকের সব পেজে তন্নতন্ন করে খুঁজেছি কাল। পাইনি।

কোন পেজে খুঁজেছিস?

পার্থ কয়েকটা পেজের নাম বলল।

আরে বোকা ওই পেজগুলোতে সব সময় পুলিশের নজরদারি থাকে। তা ছাড়া এসব পেজে ভুয়া প্রশ্নপত্রও বিক্রি হয়।

তাহলে?

ভৌতিক পেজগুলোতে গেলে খোঁজ পাওয়া যাবে প্রশ্নপত্রের।

তুই প্রশ্নপত্রটা পাওয়ার পর আমাকে মেসেঞ্জারে দিলেও তো পারিস।

সে কাজ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যারা দেয় তারা আগেই প্রতিজ্ঞা করিয়ে নেয়। প্রতিজ্ঞা করার পর ওদের কথামতো চললে ওরা প্রশ্নপত্র হাতে দেয়। নিচু স্বরে বলেছিল আদিল।

তারা কারা? টাকাই বা কেমন নেয়?

ওরা প্রশ্ন ফাঁস করে আর সাপ্লাই দেয়। টাকাপয়সা ওদের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।

কীভাবে ওদের খোঁজ পাব।

আমার কাছে লিঙ্ক আছে। তুই বিকালে বাসায় আসিস।

লিঙ্কটা তো আমাকে হোয়াটস অ্যাপেও দিতে পারিস।

আরে এ লিঙ্ক সে লিঙ্ক না।

তাহলে?

তুই বিকালে বাসায় আসিস। তোকে একজনের কাছে নিয়ে যাব। তিনি যদি রাজি হন তা হলেই তুইও গ্রুপে ঢুকতে পারবি। আদিল বলল।

পার্থর কৌতূহল বাড়ল আরও। বিকালে আদিলের বাসায় পৌঁছে গেল ও।

শোন, যা শুনবি চুপচাপ শুনবি। যা দেখবি কাউকে বলবি না।

এখানে কেন যাচ্ছি?

যে গ্রুপটা প্রশ্নপত্র ফাঁস করে তাদের অনেক ফেসবুক পেজ আছে। সে পেজে তোকে ঢুকতে হবে। এমনিতে তোকে ওই পেজে অ্যালাউ করবে না।

পেজের নাম কী? জানতে চেয়েছিল পার্থ।

অনেক পেজ আছে ওদের। বেশিরভাগই ভূতসংক্রান্ত। যেমন অভিশপ্ত ভূত, ভূতের নাড়িনক্ষত্র, ভূতবাড়ি, ভয়ংকর ভূত, ভূতের আস্তানা, ভূতবাংলো, ভূতের বংশধর ইত্যাদি। একেকজনকে একেক পেজ গ্রুপে ওরা ঢুকিয়ে নেয়।

তুই কোন পেজ গ্রুপে আছিস?

ভূতের নানি! ফিসফিস করে বলল আদিল।

কী… কী বললি?

শ… শ…। ঠোঁটে আঙুল দিয়ে ওকে চুপ থাকতে বলেছিল বন্ধু। তারপর কানের কাছে মুখ এনে বলেছিল, ওখানে গেলে ওরা পেজের নাম দেবে। সেখানে জয়েন করবি। অ্যাকসেপ্ট করলে ওরাই তোকে বলে দেবে কোথা থেকে প্রশ্নপত্র জোগাড় করতে হবে।

ঠিক আছে। দুজনে তাহলে একসঙ্গে যাব। পার্থ বলেছিল।

এক পেজে একজনের বেশি কাউকে অ্যালাউ করে না। গেলেই বুঝতে পারবি। দুই বন্ধুকে এক পেজে ওরা নেবে না। নিরাপত্তার জন্য।

আদিল ওকে নিয়ে গিয়েছিল একটা চায়নিজ রেস্টুরেন্টে। সেখানে দুজনে বসে স্যুপ খেয়েছিল। খাওয়ার পর বিল অবশ্য আদিলই দিয়েছিল।

ভাই এখন কি ওপরে যাওয়া যাবে? আদিল বেয়ারার কাছে জানতে চেয়েছিল।

হ্যাঁ। যেতে পারেন।

আদু ভাই কি বসেছেন?

হ্যাঁ।

সেই চায়নিজ রেস্টুরেন্টের সিঁড়ি বেয়ে ওপরতলায় গিয়েছিল ওরা।

ভেতরটা বেশ আধো অন্ধকার ছিল। সে ঘরে চেয়ারে বসে ছিল এক যুবক। আধো অন্ধকারে তার মুখ ভালো করে দেখা যাচ্ছিল না।

আদু ভাই! ফিসফিস করে বলেছিল আদিল।

কী খবর আদিল? তোমার পরীক্ষা কেমন হলো?

ভালো হয়েছে ভাই।

প্রশ্ন কমন পেয়েছিলে?

জি ভাই। আদিল বলেছিল।

তোমার সঙ্গে কে?

ও আমার বন্ধু পার্থ। ওর পরীক্ষা ভালো হয়নি ভাই।

কেন? ও কি প্রশ্নপত্র পায়নি?

না ভাই। আপনি তো অন্য কাউকে দিতে নিষেধ করেছিলেন।

হুম।

ভাই আমার পড়াশোনা একদম হয়নি। প্রশ্নপত্র না পেলে সরাসরি পরীক্ষায় ফেল করব ভাই। হড়বড় করে বলল পার্থ।

তোমাকে প্রশ্নপত্র দিলে তুমি তো সবাইকে দিয়ে বেড়াবে।

দেব না ভাই। কাউকে দেব না। মা কসম।

হুম। তুমি যখন পাস করে কলেজে যাবে তখন আবার আমাদের ভুলে যাবে না তো?

না ভাই। আপনার কথা ভুলব না।

আমরা কোনো কাজ করতে বললে করবে তো?

করব ভাই। যা করতে বলবেন করব। মিনমিন করে বলল পার্থ।

ঠিক আছে। ইশারায় আদিলকে বাইরে যেতে বলল যুবক।

তোমার মোবাইল ফোন বের করো। নিজের মোবাইল হাতে নিলেন তিনি।

ফেসবুকের সার্চবারে প্রশ্নভূত লিখে সার্চ করো।

তা-ই করল পার্থ।

জয়েন করে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

তার কথামতো প্রশ্নের উত্তর দিয়ে প্রশ্নভূত পেজে জয়েন করল পার্থ।

একটু পরই ওই পেজের অ্যাডমিন ওকে অ্যাপ্রুভ করল।

আমি কি এ পেজে প্রশ্নপত্র পাব? জানতে চাইল পার্থ।

না। অত খোলামেলাভাবে আমরা কোনো কিছু পাবলিশ করি না। পেজের মাধ্যমে আমরা মূলত আমাদের সংগঠনের সদস্যসংখ্যা বাড়াই। তোমার পরীক্ষা শেষ হোক তখন আমরা তোমাকে সংগঠন সম্পর্কে জানাব।

তাহলে আমি প্রশ্ন কোথায় পাব? অধৈর্য হয়ে জানতে চাইল পার্থ।

প্রশ্ন কোথায় পাবে সেই লোকেশন তোমাকে মেসেজ করে জানিয়ে দেওয়া হবে। শর্ত হলো সেখানে তোমাকে একা যেতে হবে। কাউকে বলা যাবে না। বিকাল ৫টার পর আসতে হবে।

সব শর্ত মেনেই পার্থ এসেছে। আজ সকালে মেসেজ এসেছে ওর মেসেঞ্জারে। দেখা করতে হবে প্রশ্নভূত বাবার সঙ্গে।

তিনিই দেবেন প্রশ্নপত্র।

লোকেশনটা শহরের বাইরে। ঘন জঙ্গলের মাঝে পায়ে চলা পথ। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। একটু একটু ভয়ও পাচ্ছে পার্থ। তবু কী এক অমোঘ টানে সামনে এগিয়ে চলল ও।

প্রশ্নপত্র হাতে পেতেই হবে।

পার্থ খেয়াল করল জঙ্গলে কোনো পাখির আওয়াজ পর্যন্ত নেই! একেবারে যাকে বলে সুনসান।

হঠাৎই জঙ্গল শেষ হয়ে গেল। সামনেই একটা পোড়োবাড়ি।

ইতস্তত করল পার্থ। মোবাইল বের করল। আদিলকে ফোন করবে। ভুল লোকেশনে চলে এসেছি হয়তো, চিন্তা করল পার্থ।

নেটওয়ার্ক নেই!

যাকগে! গিয়েই দেখি না কী হয়। এগিয়ে গেল পার্থ।

পোড়োবাড়ির সদর দরজাটি জীর্ণশীর্ণ। সামান্য ঠেলা দিতেই খুলে গেল। ভেতরে অন্ধকার।

মোবাইলে টর্চ চালু করল পার্থ। কী এক আকর্ষণে এগিয়ে চলল সামনে। ঘরের দেয়ালে বাঁধাই করা অসংখ্য ছবি ঝোলানো। একটা ছবির সামনে দাঁড়াল ও। ছবিটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল।

একটা পেপার কাটিং। একজন পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবরের কাটিং। রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় আত্মহত্যা করেছিল ছেলেটি।

পার্থর মনে হলো ওর পেছনে কেউ এসে দাঁড়িয়েছে।

ভয়ে শিরশিরে অনুভূতি হলো ওর।

চট করে পেছনে তাকাল পার্থ।

কেউ নেই!

ওর ইচ্ছে করল ছুটে পালিয়ে যেতে। কিন্তু টের পেল পা দুটো ওর কথা শুনছে না।

চোখের কোণে আলো ধরা পড়ল। চট করে সেদিকে তাকাল পার্থ। দূরে টিমটিমে আলো জ্বলছে।

ধীরে ধীরে সেদিকে এগিয়ে গেল।

ভয়ে বুক দুরুদুরু করছে পার্থর। ছোট একটা অগ্নিকুণ্ড। তার ওপাশে বসা একজন মানুষ। কিম্ভূতকিমাকার। দাড়ি-গোঁফ সবই বড় বড়। ছোট ছোট চোখগুলো গর্তের ভেতরে ঢুকে আছে। তার পেছনে অনেক ছায়া বসে আছে। তাদের কণ্ঠ থেকে জিকির ভেসে আসছে।

প্রশ্ন!

প্রশ্ন!!

প্রশ্ন!!!

জিকিরের তালে তালে মাথা নাড়াচ্ছেন সামনে বসা লোকটি।

পার্থ বুঝতে পারল ইনিই প্রশ্নভূত বাবা।

মুখের ভেতরটা শুকিয়ে গেছে টের পেল ও।

জিব দিয়ে শুকনো ঠোঁট ভিজিয়ে নিল পার্থ।

একসময় জিকির শেষ হলো।

চোখ খুললেন প্রশ্নভূত বাবা।

নিষ্প্রাণ সেই চোখ। ভয়ে ঢোক গিলল পার্থ।

কী চাস? খসখসে গলায় বললেন তিনি।

বা…বাবা। প্রশ্নপত্র চা…ই বাবা। এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র। কোনোমতে বলতে পারল ও।

প্রশ্নপত্র তো দিতেই পারি। সমস্যা বাধায় আরেক ভূত। সে-ই আমাদের বড় শত্রু।

কে বাবা?

ছাপাখানার ভূত। এ একটা ভূতের কারণেই কত মেধাবী ছাত্রছাত্রীর প্রাণ যে অকালে ঝরে যাচ্ছে।

বুঝলাম না বাবা। পার্থ জানতে চাইল।

এই যে আমার পেছনে যাদের দেখছিস এরা সবাই পরীক্ষায় ফেল করে আত্মহত্যা করেছে। তারপর তারা ভূত হয়েছে। ওরা যখন বেঁচে ছিল তখন আমরা ওদের স্বপ্নের মাধ্যমে বা ফেসবুকে কিংবা হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র দিয়েছি। সে প্রশ্নের উত্তর ওরা পড়ে পরীক্ষার হলে গিয়েছিল। গিয়ে দেখে অন্য প্রশ্ন ছাপিয়ে রেখেছে ছাপাখানার ভূত। ফলে ওরা উত্তরই লিখতে পারেনি। পাস তো দূরের কথা, ফেল নিয়েই টানাটানি। একনাগাড়ে বলে কিছুক্ষণের জন্য থামলেন প্রশ্নভূত বাবা।

ফেল নিয়ে টানাটানি! বুঝলাম না বাবা। পার্থ কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে গেল।

একবার জীববিজ্ঞান পরীক্ষার জন্য আমরা প্রশ্ন ফাঁস করেছিলাম। আমরা ছাত্রছাত্রীদের যে প্রশ্ন দিয়েছিলাম সেটা এ রকমÑ চিংড়ি মাছের জীবনবৃত্তান্ত বর্ণনা করো।

ছাপাখানার ভূত প্রশ্নটা ছাপিয়েছিল এভাবেÑ ইচা মাছের জীবনচক্র বর্ণনা করো। ফলাফল ওই ছাত্রছাত্রীরা প্রশ্নটির উত্তর লিখতেই পারেনি। তারা কীভাবে জানবে যে ইচা আর চিংড়ি একই। কোনো বইয়ে তো কথাটি লেখাই নেই!

আমি কী করব বাবা। আমাকে জলদি প্রশ্নপত্র দিন বাবা। পরশু আমার পরীক্ষা।

প্রশ্নপত্র না। আমি তোকে দেব সাজেশন। তুই সাজেশন নিয়ে ভালো করে পড়বি। পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হবি। তারপর তোকে আমরা আমাদের সংগঠনে সদস্য করে নেব।

তাই দিন বাবা। সাজেশনই দিন। তবু আমাকে ফেলের হাত থেকে বাঁচান বাবা। হড়বড় করে বলল পার্থ।

এই নে। কোমরের কাছ থেকে একটা কাগজ বের করে দিলেন প্রশ্নভূত বাবা।

হাত বাড়িয়ে কাগজটা নিল পার্থ।

ধন্যবাদ বাবা। বিড়বিড় করে বলল ও।

ঘুরল। এখান থেকে বেরিয়ে যাবে তাড়াতাড়ি। চোখের কোণে কীসের যেন নড়াচড়া দেখতে পেল পার্থ।

অনেক অনেক ছায়া একসঙ্গে ওর দিকে এগিয়ে আসছে।

দে দে। একসঙ্গে সমস্বরে বলে উঠল ছায়াগুলো।

দৌড় দিল পার্থ। ভয়ের চোটে আর আধো অন্ধকারে কোন দিকে যে ছুটছে বলতে পারবে না ও।

ছুটতে ছুটতে হাঁপিয়ে গেল। পেছনে অনেক ছুটন্ত পায়ের শব্দ।

কী করবে বুঝে পেল না পার্থ। এ কোন গোলকধাঁধার মাঝে এসে পড়েছে বুঝতে পারল না।

আবার ছুটল পার্থ।

মনটা বিদ্রোহী হয়ে উঠল। আশ্চর্য! আমি কোথায় পালাচ্ছি! কেনই বা পালাচ্ছি!

যা হয় হোক।ওদের মুখোমুখি হব। এভাবে ছুটে বেড়ানোর কোনো মানে হয় না!

থমকে দাঁড়িয়ে পড়তে গেল পার্থ।

অমনি পা পিছলে পড়ে গেল ও। গড়িয়ে পড়তে লাগল সিঁড়ি দিয়ে। পড়তে পড়তে পৌঁছে গেল একটা আগুনের কুণ্ডলীর কাছে।

আঁচ লাগল মুখে।

আগুন! আগুন! চিৎকার করে উঠল পার্থ।

ঝট করে উঠে বসল বিছানায়।

আগুন নয়, খোলা জানালা দিয়ে মুখে সকালের রোদ এসে পড়েছে।

কী রে! স্বপ্ন দেখছিলি বুঝি? হাসিমুখে জানতে চাইলেন বড় আপা।

প্রশ্ন…। কোনোমতে বলল ও।

স্বপ্নে পরীক্ষা দিচ্ছিলি বুঝি। নে এবার ওঠ। পড়তে বোস। কাল পরীক্ষা আছে। তোর হাতে কীসের কাগজ?

চমকে গেল পার্থ।

সত্যিই তো! হাতে একটা কাগজ। রোল করা।

কাঁপা কাঁপা হাতের কাগজটা চোখের সামনে মেলে ধরল পার্থ।

সেখানে লেখাÑ

‘পড়লে পাস, নইলে ফেল’

-বাণীতে

প্রশ্নভূত বাবা


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা