× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আদ্দিস আবাবায় ফুড ট্র্যাভেল

মঈনুস সুলতান

প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৩:৪৮ পিএম

আদ্দিস আবাবার মিরকাটো বা বাজার

আদ্দিস আবাবার মিরকাটো বা বাজার

আদ্দিস আবাবা নগরীর ‘কুইন তাইতুস পানসিওন’ নামে যে সস্তা হোটেলে আমি গেল রাত কাটিয়েছি, ওখান থেকে জার্মান ক্যাফে বেকারির দূরত্ব তেমন বিরাট কিছু না। ইথিওপিয়ার এ রাজধানী শহর আফ্রিকার আরও পাঁচটি আর্বাণ সেটআপের তুলনায় নিরাপদ, তাই ভোরবেলা ফুটপাতে চাপকল ঘিরে নাবালকদের জল ছোড়াছুড়ির লীলাখেলা দেখতে দেখতে পয়দলে মেলা দিই ক্যাফের দিকে। এতে যেমন আমার ট্যাক্সি ভাড়াটার সাশ্রয় হয়, তেমন সড়কের লাগোয়া রোয়াকে যারা আশ্রয় নিয়েছে, তাদের দিনযাপনের একটি খণ্ড খতিয়ানও নিতে পারি। জিম্বাবুয়ের হারারে শহর থেকে রওনা দিয়ে পূর্ব আফ্রিকার গোটা তিনেক এয়ারপোর্টে বেহদ যাত্রাবিরতির পর আমি ঘানার আক্রা নগরীতে পুরা একটি রাত কাটাতে বাধ্য হই। যাত্রাবিভ্রাটে খানাখাদ্য কিছু জোটেনি। তারপর বিকালের দিকে ফ্লাইট পাকড়ে রাত ৯টা নাগাদ এসে পৌঁছেছি আদ্দিস আবাবায়।

ঔপনিবেশিক আমলে আফ্রিকার একমাত্র স্বাধীন দেশ ইথিওপিয়া সম্পর্কে আমার অনেক দিনের আগ্রহ। এ দেশের প্রয়াত সম্রাট হাইলে সেলাসি বিগ্রহবিশেষ, হিপি সম্প্রদায়ের রাসতাফেরিয়ান তরিকার জটাজুটধারী লোকজনের কাছে। তামাম দুনিয়া থেকে রাসতাফেরিয়ানরা হামেশা এখানে আসে তার প্রাসাদ চাক্ষুষ করতে, এক জমানার এ লিভিং গডের সমাধিতেও তারা বেহুঁশ হয়ে ধরনা দেয়। এ ধরনের হুজুগ আমাকে আকর্ষণ করছে এক যুগ অবধি। সামাজিকভাবে বেতাল কিসিমের রাসতাফেরিয়ানদের সম্পর্কে আমি ওয়াকিবহাল হতে চাই। কিন্তু এদিকে ঘুরতে আসার জন্য কিছুতেই কড়িপাতির সংকুলান হচ্ছিল না। তবে জুয়ার দান মিলে যাওয়ার মতো একটি দাতা সংস্থায় কাকতালীয়ভাবে দরখাস্ত পাঠাতেই আফ্রিকান ইউনিয়নের সম্মেলনে পর্যবেক্ষক হিসেবে হাজির থাকার মওকা মিলে যায়। আমি ফুটপাতের খানাখন্দ হুঁশিয়ারির সঙ্গে অতিক্রম করতে করতে রোয়াকে কাঁথা-কম্বল বিছিয়ে শিথানে ছাগলের চামড়ায় তৈরি ঝোলায় যথাসর্বস্ব সম্বল নিয়ে শুয়ে থাকা গৃহহীন মানুষগুলো অবলোকন করি। কম্বলের ওপর থালায় চাপাতির মতো দেখতে বড়সড় গোলাকার ইনজিরা রুটি ঘিরে বসেছে বাচ্চাকাচ্চাসহ বুড়াবুড়ির পুরো আটজনের একটি পরিবার। গৃহকর্তা মুখে রুটি তুলতে তুলতে আমার দিকে তাকিয়ে ফোকলা দাঁতে হাসেন। দাতা সংস্থার বদৌলতে আমার পকেট আজ কড়িপাতিতে সরগরম। জিম্বাবুয়েতে খাদ্যাভাব ও মুদ্রাস্ফীতিতে আমার জিন্দেগি-বন্দেগি ফর্দাফাই হচ্ছে বছর দেড়েক হলো। তাই আজ আদ্দিস আবাবায় ভ্রমণের শুরুয়াত করছি ফুড ট্র্যাভেলের মারফত। এ খাদ্য-সফরে গাইডের তদারকিতে একাধিক রেস্তোরাঁয় ঘুরপাক করার বন্দাবস্ত আছে। খানাখাদ্য বাবদে ভালোমন্দ বিস্তর জুটবে, এ ব্যাপারে আমি স্থির নিশ্চিত। তার পরও কেবল একখানা ইনজিরা রুটি ঘিরে প্রাতরাশরত পুরো পরিবারটির ইমেজ মাথা থেকে সরাতে পারি না। কেন জানি আমার ফুড ট্র্যাভেলের সৌভাগ্যে অকস্মাৎ নিজেকে চালিয়াত মনে হয়। আমি হেঁটে যেতে যেতে রোয়াকের বিরাট একান্নবর্তী পরিবারটির দিকে ফিরে তাকাই। ছেলেবুড়ো সবাই খেতে খেতে হাসিমুখে হাত নাড়ে। তাদের খাদ্য সরবরাহে স্পষ্টত অপ্রতুলতা আছে, কিন্তু চোখমুখের অভিব্যক্তিতে নেই কোনো দীনতা বা দারিদদ্র্যের চিহ্ন।

এ ব্যাপারটা করোটির কোটরে বন্ধক রেখে আমি এসে দাঁড়াই জার্মান ক্যাফে বেকারির সামনে। সিঁড়ির কাছে গোটা কতক উদ্ভিদ রুকুসুখু আর্বাণ প্রতিবেশে ছড়াচ্ছে সাবুজিক স্নিগ্ধতা। ক্যাফেটির সাইনবোর্ডের ঠিক পেছনে ফিরিঙ্গি এক জেনানার অ্যাপিল তপ্ত তসবির। অলীক এ নারী যেন রিপুর তন্ত্রীতে সর্বনাশ ছড়িয়ে তাকিয়ে আছে সড়কের ওপারে খুঁটির বন্ধন থেকে শিথিল হয়ে ঝুলে পড়া বৈদ্যুতিক তারের দিকে। ওখানে ডানা ঝাপটিয়ে ভারসাম্য রক্ষা করে কাছাকাছি বসেছে সবুজ পালকে ভাইব্রেন্ট ব্লু রঙের বিচ্ছুরণ ছড়ানো লেজ-ঝোলা দুটি খেচর। এ ক্যাফের বারান্দায় বসে ফুড ট্র্যাভেলের গাইডের জন্য অপেক্ষা করার কথা। তিনি এখনও এসে হাজির হননি। ভেতরের কামরা থেকে এসপ্রেসোর কড়া ঝাঁজের সঙ্গে ভেসে আসছে সদ্য বেক করা রুটির সৌরভ। আমি কাউন্টারে গিয়ে সফ্ট চিজে ছ্যাঁচা অলিভের প্রলেপ দেওয়া রুটির সঙ্গে এক পেয়ালা মাকিয়াতোর অর্ডার করি। দেয়ালে ঝোলানো সাউন্ডবক্স থেকে ছড়িয়ে পড়ছে এডভার্ড গ্রেগ নামে এক জার্মান ধ্রুপদি কলাকারের কম্পোজ করা মিউজিক। মাকিয়াতোর সুরভিত পেয়ালা হাতে নিতে নিতে ‘মর্নিং মুড’ নামক কম্পোজিশনের সুরে-তালে জানপ্রাণ তর হয়ে ওঠে।

জার্মান ক্যাফে বেকারি 

ফুটপাত থেকে বেশ উঁচুতে বারান্দাটির অবস্থান হাওয়ায় বসার পরিবেশে এসেছে বেলকনির ব্যঞ্জনা। আমার পাশের টেবিলে এসপ্রেসোর পেয়ালা হাতে বসে সুদর্শন এক শ্বেতাঙ্গ পুরুষ। তার শরীর রোদে পুড়ে, স্বর্ণাভ চুলদাড়িতে সাব-সাহারান আফ্রিকার ধুলোবালি মেখে, এ সাহেব-সন্তানের চোখেমুখে এসেছে রাফ অ্যান্ড টাফ ট্র্যাভেলারের রুকুসুখু অভিব্যক্তি। ইনি এসপ্রেসোয় চুমুক দিতে দিতে দারুণ অস্থির দৃষ্টিপাতে চারদিকে তাকাচ্ছেন। তার ছটফটে আচরণে তিনি যে আধময়লা টি-শার্টের তলায় চড়চড়ি পোকার কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন, এ ধারণা করা অস্বাভাবিক নয়। তো আমি ঘাড় বাড়িয়ে জানতে চাই, ফুড ট্র্যাভেলের গাইডের জন্য অপেক্ষা করছেন কি না। তিনি খেঁকিয়ে উঠে বলেন, ‘ইয়েস, অ্যান্ড আই অ্যাম শিওর... অই ব্যাটা সময়মতো আসবে না।’ এ ধরনের অসহিষ্ণুতা স্পষ্টত আনসিজনড ট্যুরিস্টের আলামত বিবেচনা করে আমি সান্ত্বনা দিয়ে বলি, ‘ম্যান, দিস ইজ আফ্রিকা, একটু দেরি হচ্ছে, তবে এসে যাবে।’ তিনি কপাল কুঁচকে ‘দিস ইজ আফ্রিকা’ বাক্যটির প্রতিধ্বনি করে কষাবিশা মুখে জানান, ‘মাই নেম ইজ বনোয়াঁ, ফ্রেঞ্চ সিটিজেন। তিন সপ্তাহ আগে কেপটাউন থেকে বাসে রওনা দিয়ে, তামাম ইস্ট আফ্রিকা চষে, কাল মধ্যরাতে আদ্দিস আবাবায় এসে পৌঁছেছি। আই অ্যাম আফটার অ্যা ফাইন লুকিং গার্ল, সে এখনও এসে পৌঁছায়নি, কথা দিয়ে সময়মতো হাজির না হওয়ার বিষয়টা... কী বলব... ইউ নো, আই হেইট দিস।’ তার জগৎসংসারের ওপর বিলা হওয়ার কারণ বুঝতে পারি, মেয়েদের লীলা সব সময় বোঝাও যায় না। নারীটি আরও কিছুক্ষণের মধ্যে এসে না পৌঁছালে এনার মেজাজ যে সপ্তমে পৌঁছাবে, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে বলি, ‘বনোয়াঁ, তুমি কী খানাপিনা পছন্দ করো?’ ফের খেঁকিয়ে উঠে তিনি জবাব দেন, ‘লুক আই অ্যাম অ্যা ট্রাভেলিং ফুডি। যে শহরে যাই, যেখানে দুই দিনের জন্য থানা গাড়ি, চেষ্টা করি লকেল ফুড একটু চেখে দেখতে, দ্যাটস্ অল।’

সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসেন আরেক জোড়া পর্যটক। এদের মাঝে স্যুটপরা কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষটি গলায় পেঁচিয়ে পরেছেন ফিলিস্তিনি কেতার চেককাটা কুফিয়া গিলাফ। আমি তাকে সালাম দিতেই, মাস্ক-আতরের সৌরভ ছড়িয়ে আমার কবজি চেপে ধরে, জোরেশোরে তা ঝাঁকিয়ে বসে পড়েন পাশের চেয়ারে। তার নারী সঙ্গিনীও কৃষ্ণকায় গোলগাল পৃথুলা এক আফ্রিকান-আমেরিকান। এ তরুণীর হিজাবে গাবদাগোবদা সাইজের তরমুজের প্রিন্ট। গলার হার থেকে ঝুলছে শজারুর জোড়া কাঁটা, তার মধ্যিখানের লকেটে ঝুলছে শীর্ণকায় এক নারীমূর্তি। আমাদের বাৎচিত দ্রুত জমে ওঠে। আফ্রিকান-আমেরিকান পুরুষটির নাম রিকার্ডো গফুরুল ওয়াহাব। ইনি রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস পড়ান। তার সঙ্গিনীর পোশাকি নাম উম্মুল মদিনা, বাড়িতে সবাই তাকে ডারোথি ডাকে। মিসরের রানী নেফারতিতি তার রোল মডেল। পুরাকালের ফারাও কুইনের স্মৃতিময় আহ্বানে সাড়া দিয়ে মদিনা কায়রোতেই হালফিল বাসা বেঁধেছেন। আমার কৌতূহলের জবাবে জানান, লকেটে তিনি রানী নেফারতিতির মূর্তি ধারণ করে আছেন। তার সাজগোজ থেকে আমিও তেজারতির একটি ইনোভেটিভ আইডিয়া পেয়ে যাই। ভাবি ঘসেটি বেগম কিংবা আলেয়ার তসবির খুঁজে পেলে, তার মিনিয়েচার রূপ কাঠে খোদাই করে লকেট হিসেবে বাজারজাত করা যায়। অধ্যাপক ওয়াহাব ঘাড় কাত করে ফিসফিসিয়ে জানতে চান আমি মুসলিম কি না? ইতিবাচক জবাব পাওয়ামাত্র মৃদু হেসে পোর্টফোলিও ব্যাগ দেখিয়ে বললেন, ‘ব্রাদার, নামাজ-কালাম পড়ার জরুরত পড়লে আমাকে ইশারা দেবে। আমার কাছে এক্সট্রা জায়নামাজ আছে। তায়াম্মুমের জন্যও আছে পবিত্র খাকের একটি ডেলা।’ তার মন্তব্য শেষ হওয়ার আগেই ডারোথি জানতে চান, ‘তোমাদের দেশে চানরাতে মেহেদি দিয়ে মেয়েরা হাতে-পায়ে অলপনা আঁকে কি?’ আমি এ বাবদে দীর্ঘ জবাব দিতে গেলে মনে হয় ওয়াহাব আমার কথা শুনছেন না, বরং তিনি যেন কিছু একটা বলতে চাচ্ছেন। তো বাকোয়াস থামিয়ে জানতে চাই, ‘হোয়াটস্ আপ প্রফেসর?’ তিনি ফিসফিস করে বলেন, মাসখানেক আগে আলেকজান্দ্রিয়ায় বেড়াতে গেলে তাদের দুজনের মোলাকাত হয়। ওখানেই যুগল ভ্রমণের পরিকল্পনা করে আদ্দিস আবাবায় ফুড ট্র্যাভেলে এসেছেন। শুনে আমি ‘মাশাল্লাহ’ বলে উল্লাস প্রকাশ করি।

বারান্দার ছাদে আটকানো একটি সাউন্ডবক্স হঠাৎ অ্যাকটিভেটেড হয় মিউজিকের সুরছন্দে। ‘মর্নিং মুড’ নামক ধ্রুপদি কম্পোজিশনটি হ্রদের পানি ছুঁয়ে যাওয়া শুভ্র মরালের মতো হৃদয় স্পর্শ করতে করতে উড়ে যাচ্ছে আর্বাণ আকাশের দিকে। মার্জারির মতো মৃদু পায়ে বারান্দায় উঠে আসে ব্রাজিলের মেয়ে কানসিয়েনা। গেল রাতে সে ঘানার আক্রা শহর থেকে একই ফ্লাইটে উড়ে এসেছে আদ্দিস আবাবায়। আমরা উড়োজাহাজে পাশাপাশি বসে ছিলাম, এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলে যাওয়ার পথে একত্রে একটি ট্যাক্সিও শেয়ার করেছি। কানসিয়েনা আদ্দিস আবাবায় বসবাস করছে মাস সাতেক হলো। সে ফরাসি একটি ফ্যাশন হাউসে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করছে। আদ্দিস আবাবায় তার অ্যাসাইনমেন্ট হচ্ছে মেয়েদের পোশাক-আশাকের সনাতনী নকশার নমুনা সংগ্রহ, এগুলোর অ্যাডাপটেশনের সম্ভাবনার ওপর বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন তৈরি করে ফ্রান্সের ফ্যাশন হাউসে পাঠানো ইত্যাদি। তার কাছ থেকেই আমি ফুড ট্র্যাভেলের আইডিয়া পাই। সে তার মোবাইল ব্যবহার করে আজকের নানা কিসিমের রেস্তোরাঁয় গাইডেড ট্যুরের বন্দোবস্ত করে দিয়েছে। কানসিয়েনা আমার দিকে দৃষ্টিপাত না করে সোজা হেঁটে গেলে আমি একটু আহত বোধ করি। জিন্সের সঙ্গে আফ্রো-বাটিকের অফ শোল্ডার একটি টপ পরেছে সে। আমাদের দিকে পেছন ফিরে পাশের টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে সে বিমোহিত হয়ে শোনে মর্নিং মুডের সুর-মূর্ছনা। টেবিলে বসে থাকা তিতিবিরক্ত শ্বেতাঙ্গ পর্যটক বনোয়াঁ মনে হয় সফরের ক্লান্তিতে চোখ মুদে ঝিমুচ্ছেন। কানসিয়েনা কোমরে হিল্লোল তুলে নৃত্যের মুদ্রায় দুলে উঠলে পদশব্দে অদৃশ্য ঘাসফড়িংয়ের মতো আমাদের নাসারন্ধ্রের দিকে উড়ে আসে উত্তম ফরাসি পারফিউম। সে অতঃপর ওয়াকিং সু দিয়ে ফ্লোরে আওয়াজ তুললে বনোয়াঁ ধ্যান ভেঙে ধড়মড় করে জেগে ওঠেন। কানসিয়েনা আরও কাছে গিয়ে তার কপালে এসে পড়া ধূলিধূসরিত সোনালি চুলের গুচ্ছ সরিয়ে দিয়ে চুমো খায়। তাদের প্রকাশ্য অন্তরঙ্গতা চলে বেশ কিছুক্ষণ। তারপর হঠাৎ আমার দিকে চোখ পড়তেই,‘ম্যান, ইউ আর অলরেডি হিয়ার, লাভলি টু সি ইউ’ বলে উঠে চলে আসে আমাদের টেবিলে। আমি তার বাড়িয়ে দেওয়া হাত স্পর্শ করি। সে পেশাদারি দক্ষতায় আমার টেবিলে বসে থাকা অধ্যাপক ওয়াহাব ও মদিনা ডারোথির সঙ্গে পরিচিত হয়। তারপর লাজুকভাবে বলে, ‘কাম অন অ্যান্ড মিট মাই ফ্রেন্ড বনোয়াঁ, হি ইজ অ্যা রিয়েল ফুড লাভার ইন হার্ট। ইথিওপিয়ার মুখরোচক খাবার খেয়ে সে এক্সসাইটেড হলে, আই হোপ হি উইল বি মাই ফিঁয়াসে ওয়ান ডে।’

আমি উঠে এসে বনোয়াঁর টেবিলে বসি। কিন্তু তার সঙ্গে বাৎচিত তেমন জমে না। তিনি আধোঘুমে ঢুলুঢুলু চোখে হরিণীর তালাশ পাওয়া চিতাবাঘের মতো কানসিয়েনাকে অবলোকন করছেন। ভোরের আলো পড়ে খাদ মেশানো গিনি সোনার মতো ঝলমল করছে তার খোলা কাঁধ। বনোয়াঁ কায়ক্লেশে পকেট থেকে বের করেন রুপালি ধাতুতে তৈরি ছোট্ট একটি লিক্যুর ফ্লাস্ক। তা থেকে কয়েক ফোঁটা ব্র্যান্ডি আধ-খাওয়া ঠান্ডা এসপ্রেসোর পেয়ালায় মিশিয়ে তা কানসিয়েনার দিকে বাড়িয়ে দিলে, সে ঠোঁটের রঙ বাঁচিয়ে সাবধানে পান করে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা