× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইমপ্রেশনিজম ইন দি এজ অব ইন্ডাস্ট্রিজ

আসমা সুলতানা

প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৪ ১৫:১০ পিএম

হেনরি অটোমানের একটি চিত্রকর্ম

হেনরি অটোমানের একটি চিত্রকর্ম

ইমপ্রেশনিজম ইন দি এজ অব ইন্ডাস্ট্রিজ : মনে, পিসারো অ্যান্ড মোর (শিল্পের যুগে ইমপ্রেশনিজম : মনে, পিসারো এবং অন্যরা) শিরোনামে ২০১৯ সালে টরন্টোর আর্ট গ্যালারি অব অন্টারিওতে হয়ে গেল অসাধারণ শিল্পকলা প্রদর্শনী। শিরোনামেই স্পষ্ট প্রদর্শনীটির হৃদস্পন্দন। কিউরেশন ছিলেন তরুণ প্রতিভাবান কিউরেটর ড. ক্যারোলাইন শিল্ডস। ইমপ্রেশনিজম শিল্প আন্দোলনগুলোর মধ্যে প্রভাববিস্তারকারী এবং বেশ জনপ্রিয় একটি আন্দোলন। টরন্টোর কনকনে শীতে এ প্রদর্শনীটি যেন বসন্তের আগমনের আগেই বসন্তবার্তা নিয়ে এলো শিল্পকলাপ্রেমীদের হৃদয়ে। ইউরোপের শহরগুলোয় বা আমেরিকার উল্লেখযোগ্য সংগ্রহশালায় যেমন প্রতিনিয়ত আড়ম্বরভাবে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, টরন্টোর সংগ্রহশালাগুলোয় তেমনটা দেখা যায় না। সে কারণে এ প্রদর্শনীটি শহরবাসীকে বেশ চমক দিয়ে গেল। 

ইমপ্রেশনিজমের বহুলপরিচিত শিল্পীদের (পিসারো, মনে, টিসট, কাসাট, ভ্যান গগ প্রমুখ) শিল্পকর্ম ছাড়াও বেশ কিছু স্বল্পপরিচিত শিল্পীকে (ম্যাক্সিমিলিয়ঁ লুস বা গুস্তাভ কাইবোত) অর্ন্তভুক্ত করা হয়, যাদের নাম ও শিল্পকর্ম অনেকের কাছে অজানা। খুব সুনির্দিষ্টভাবে দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব (১৮৭০ থেকে ১৯১৪) কেন্দ্র করে ইউরোপে যে শিল্পোন্নয়ন ঘটে, তা বিষয়বস্তু করে ইমপ্রেশনিজমের শৈলীতে যেসব শিল্পকলা নির্মিত হয়েছে, সেগুলোই স্থান পায় প্রদর্শনীতে। সব মিলিয়ে ১২০টির বেশি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে তৈলচিত্রের সংখ্যা বেশি, এ ছাড়া রেখাচিত্র, ছাপচিত্র, আলোকচিত্র, অলংকরণ, মানচিত্র, বই, ভাস্কর্য এমনকি সময়নির্ভর চলচ্চিত্রও স্থান পেয়েছে।

ইমপ্রেশনিজমের বিভিন্ন সময়ে নির্মিত এ শিল্পকর্মগুলো দেখলে বোঝার উপায় নেই শিল্পীরা বিছিন্নভাবে এসব নির্মাণ করেছেন। মনে হয় তারা একটি সংঘের মাধ্যমে সবাই একযোগে কাজ করেছিলেন। ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীরা মূলত সমসাময়িক সামাজিক আচার অনুষ্ঠানের চিত্র নির্মাণ করতেন। বুর্জোয়াদের বিলাসী জীবনচিত্র, সুন্দর ভূদৃশ্য বা মনোরম ফুলের ছবি। কিন্তু যেহেতু তারা পূর্ববর্তী শিল্পীদের মতো স্টুডিওতে বসে শিল্পকলার চর্চা করতে চাননি, সে কারণে বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন। দিনের আলোয় বসে চিত্র নির্মাণ করতেন। কারণ আলো ও ছায়া এবং রঙ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। সামগ্রিকভাবে বললে তারা তাদের সময়কার চারপাশের জীবনচিত্র নির্মাণ করতেন। সে সময় শিল্পবিপ্লবের প্রভাব চলছিল, স্বাভাবিকভাবে এ শিল্পীদের শিল্পকর্মেও সে ছায়া পড়ে। শুধু শিল্পোন্নয়নের কার্যক্রমই নয়, শিল্পোন্নয়নের কাজকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্তদের নিয়েও শিল্পকর্ম নির্মাণ করেন শিল্পীরা। যেমন শহরের ময়লা পরিষ্কার করা শ্রমিক থেকে শুরু করে কারখানার মালিক, ফ্রাঙ্কো-প্রুশিয়ান যুদ্ধের মৃত সৈনিক কিংবা মাংস বিক্রেতা নারী শ্রমিক। সমাজের সব শ্রেণির মানুষের চিত্রই অঙ্কন করেছেন শিল্পীরা।

বাষ্পচালিত ইঞ্জিন, জলচালিত ইঞ্জিন, ব্রিজ, রেলগাড়ি, ক্যামেরা ইত্যাদির আবিষ্কার মানবসভ্যতা চিরকালের জন্য বদলে দেয়। শিল্পকারখানায় উৎপাদিত পণ্যদ্রব্য বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যানবাহনের প্রয়োজনীয়তা কিংবা শ্রমিকদের যাতায়াতে রেলগাড়ির ব্যবহার। আমরা সেই বদলের গল্পের চাক্ষুষ চিত্র দেখতে পাই এ শিল্পকর্মগুলোয়। প্রতিটি শিল্পকর্ম আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে যায় তাদের নিজস্ব আবেদনে। কোনোটা আমাদের চোখে জল এনে দেয়, কোনোটা বা মুখে হাসি ফোটায়। যে শিল্পকর্মগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন সংগ্রহশালায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সেগুলো একসঙ্গে এক ছাদের তলে আমাদের চোখের সামনে দেখতে পাওয়া, তাও নিজের শহরে, কম ভাগ্যের নয়! দর্শক এও হৃদয়ঙ্গম করতে সক্ষম হন যে, ইমপ্রেশনিজমের রোমান্টিক রূপটি ছাড়া আরও একটি দিক ছিল, সেটা হলো ভাবগাম্ভীর্য। যেখানে পৃথিবীর ইতিহাস পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের চিত্র চিরস্থায়ী করে রাখার মতো জাদুকরী ক্ষমতা শিল্পীরা প্রমাণ করেছেন। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীরা আজীবন আমাদের ঋণী করে রেখেছেন।

সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়ন নগর পরিকল্পক জর্জ ইউজেন ওজমানকে দায়িত্ব দেন প্যারিসকে পরিবর্ধন-পরিমার্জন করতে। নেপোলিয়ন তাকে নির্দেশ দেন প্যারিসে আরও আলো-বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা করতে, সরু অলিগলি আরও প্রশস্ত করতে। সে কারণে সে সময় বহু মানুষকে স্থানান্তরিত হতে হয়। বহু ভবন ধ্বংস করে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়। অনেক ত্যাগ-বিসর্জনের মধ্য দিয়ে রাস্তাঘাট প্রসারিত হয়, রাস্তার ধার দিয়ে গাছের সারি রোপণ করা হয়, প্যারিসে এক নাটকীয় পরিবর্তন আসে। নতুন দোকানপাট, মানুষের বিনোদনের জন্য ভবন, যানবাহন, শহরের মধ্যে ভাস্কর্য বা স্মারকস্তম্ভ নির্মিত হয়। ওজমান প্যারিসকে নতুন করে সাজান, সেই প্যারিসকেই আমরা আজ দেখি মুগ্ধ দৃষ্টিতে। ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীরা সে উন্নয়নের কার্যক্রমগুলো তাদের শিল্পকর্মে আবদ্ধ করে রেখেছেন, আমরা যা আজকের সময়ে এসে দেখতে পারছি। তখন শুধু সাদাকালো আলোকচিত্রের ব্যবহার ছিল। শিল্পীর তুলির মাধ্যমে তা হয়ে ওঠে রঙিন।

শিল্পবিপ্লবের ফলে মানবজীবনে যে প্রভাব পড়ে তা শিল্পীদের গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ক্যামেরার আবিষ্কার অভূতপূর্বভাবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। শিল্পীদের চিত্রবিন্যাসে ক্যামেরার সুস্পষ্ট প্রভাব লক্ষণীয়। যেমন আমরা ব্রিটিশ শিল্পী কনস্টেবল বা টার্নারের ভূদৃশ্যগুলোয় দেখতে পাই বিস্তীর্ণ দিগন্ত, কিন্তু ইমপ্রেশনিজমের শিল্পীরা সে দৃশ্য কেটেছেঁটে নিজের প্রয়োজনমতো চিত্রে উপস্থাপন করতেন। যেটা ক্যামেরা আবিষ্কারের আগে মানুষ শেখেনি। শিল্পবিপ্লবের ফলে চিরচেনা ভূদৃশ্য বদলে যায়, দিগন্তরেখায় কলকারখানা স্থাপিত হতে থাকে, আকাশজুড়ে কারখানার চিমনি থেকে নির্গত হচ্ছে ধোঁয়া। শিল্পবিপ্লবের আগে ভূদৃশ্য ছিল বিস্তৃত, সেখানে রেললাইনের উপস্থিতি ঘটে, সোজা দুটি রেখা বিভক্ত করে দেয় সমতলভূমি। রেলগাড়ির লম্বা শরীর এবং নির্গত ধোঁয়া, আকাশে সেই ধোঁয়ার রেখা, দূর থেকে দেখা রেলগাড়ি বা ধোঁয়াসহ রেলগাড়ি, একে অন্যের বিপরীত দিকে ধায়; সামনে থেকে বা অনেক রেলগাড়ির ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে ছুটে আসা- এ সবকিছুর মধ্যে শিল্পীরা যে গতির প্রকাশ ঘটিয়েছেন, তা সত্যি চমৎকার, অসাধারণ এবং শক্তিমান। তৈলচিত্রের বিন্যাসগুলো খুব অসাধারণ, দ্বিমাত্রিক সমতলে গতির পরিস্ফুটন প্রশংসার দাবি রাখে। শিল্পীরা তাদের বিষয়বস্তু নির্বাচনেও অনেক বৈচিত্র্যময় ছিলেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা