প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৪ ০০:৩৫ এএম
আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৪ ১১:১৪ এএম
দিনাজপুরের খানসামা উপজলায় ২৪ বছর আগে উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সুপারভাইজার ছিলেন তসলিম উদ্দিন। তখন তার বয়স ছিল ৩০ বছর। তার তত্ত্বাবধায়নে থাকা এক শিক্ষিকার সঙ্গে প্রেম করে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। ওই নারী ৫ মাসের অন্তঃস্বত্তা হয়ে বিয়ের চাপ দেওয়ায় তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করান তসলিম। ওই ঘটনায় মামলা হয়েছিল। বিচারে যাবজ্জীবন সাজা হয়েছিল। তবে এতদিনেও গ্রেপ্তার হননি তসলিম। শেষপর্যন্ত র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার এড়াতে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ছদ্মবেশ নিয়ে বসবাস করে গেছেন সাজাপ্রাপ্ত এই আসামি।
বুধবার (২৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর টিকাটুলিতে র্যাব-৩-এর প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, ২৪ বছর পর তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ভুলতা গাউসিয়া ফলপট্টি থেকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরিফ মহিউদ্দিন জানান, তসলিম উদ্দিন ২০০০ সালে খানসামার খামারপাড়া ইউনিয়নে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের ফিল্ড সুপারভাইজার হিসেবে সাতটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৪ জন শিক্ষকের দেখাশোনা করতেন। ১৪ জনের মধ্যে একজন ছিলেন বালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। কাজের সূত্রে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। পরে প্রেম হয়। তবে তসলিম বিবাহিত ছিলেন ও দুই সন্তানের পিতা তখন। এই তথ্য গোপন করে শিক্ষিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন। ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা গর্ভবতী হলে বিষয়টি তসলিমকে জানিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। তখন তসলিম নিজের বৈবাহিক অবস্থা সম্পর্কে জানান এবং কৌশলে তাকে গর্ভপাত করান।
র্যাব-৩ অধিনায়ক আরও জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষিকা মানসম্মান ও ভ্রুণ-সন্তান হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। এমনকি তখন তিনি আত্মহত্যার চেষ্টাও করে। পরবর্তীতে আসামি তসলিম চাকরি ছেড়ে ঢাকায় একটি ওষুধ কোম্পানির ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ শুরু করেন। ফলে ভুক্তভোগীর পরিবার বাধ্য হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও ভ্রুণ নষ্ট করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে। মামলাটির দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৩ সালে দিনাজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল তসলিমকে যাবজ্জীবন সাজা দেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা মামলা দায়ের করার পর থেকেই আত্মগোপন করেন তসলিম উল্লেখ করে আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, মামলা হওয়ার পর তসলিম তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এলাকা ছেড়ে ঢাকা চলে আসেন। এরপর থেকে ঘনঘন স্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। প্রথম দুই বছর একটি ওষুধ কোম্পানির ডেলিভারিম্যান, এরপর তিন বছর সিলেটে একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। মামলার রায় হওয়ার পর গাজীপুরে কখনও ভ্যান চালিয়ে, কখনও মাটিকাটা শ্রমিকের কাজ করে, কখনও এনজিওর মাঠকর্মী হিসেবে ছদ্মবেশে কাজ করেছেন। এনজিওর মাঠকর্মী থাকাকালীন গাজীপুরের শ্রীপুর এবং কাশিমপুর এলাকার বিভিন্ন গ্রাহকের প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় আত্মগোপন করেন। সর্বশেষ গাউছিয়া বাজারে ফলপট্টিতে একটি ফলের আড়তে তরমুজ ব্যবসা শুরু করেন।