প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:০৭ পিএম
অনলাইন জুয়ার ফাঁদ তৈরী করে বাংলাদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা পাচার করা হচ্ছে রাশিয়ায়। ওয়ান এক্স বেটিং, মোস্ট বেট, বেট ইউনার, মেলবেটসহ রাশিয়ার তৈরী একাধিক অনলাইন ক্যাসিনো অ্যাপসের মাধ্যমে এসব অর্থ পাচার হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের তদন্তে দেখা গেছে, এক বছর ধরে এসব অ্যাপসের মাধ্যমে দিনে গড়ে এক কোটি টাকা করে পাচার হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। এসব টাকার পুরোটাই পাচার হয়েছে ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে।
সিআইডি জানিয়েছে, এসব অ্যাপস রাশিয়া থেকে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এসব অ্যাপস নিয়ন্ত্রণে কার্যকার কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারলে অর্থ পাচার আরো বাড়বে। জুয়ার অর্থ জোগাতে সংশ্লিষ্টরা জড়িয়ে পড়ছে বড় ধরনের অপরাধে।
গত সোমবার সিআইডির সাইবার ইন্টিলিজেন্ট অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টিমের সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের তত্বাবধায়নে ছিলেন সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত জিআইজি মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ। অনলাইন জুয়ার এজেন্ট সিম সরবরাহের সাথে জড়িত সন্দেহে সাইদ বিন ওহিদুল বিপু, তার সহযোগী জামিল হোসেন, রাসেল শেখ, সাব্বির হোসেন, সোহাগ হোসেন, মাইনুদ্দিন শিকদার ছোটন ও ইমন হোসেনকে আটক করে।
এর আগে এ চক্রের আরো ছয়জনকে গত সেপ্টেমর মাসে আটক করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে জিটিটাল নিরাপত্তা আইনে পল্টন থানায় একটি মামলা হয়। সেখানে অন্তত ৬০ জনকে আসামী করা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপু ও তারেক রহমান তুহিন নামে দুইজনের নাম আসে। শেওড়াপাড়ার একটি বাসা থেকে বিপুকে গ্রেপ্তার করা হলেও অনলাইন জুয়ার প্রধান ও বাংলাদেশী এজেন্ট তারেক রহমান তুহিনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন গেমিং অ্যাপসের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে শত শত কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার ইন্টিলিজেন্ট অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টিম অনলাইন জুয়া বন্ধে কাজ করছে। তবে অধিকাংশ অ্যাপস দেশের বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, আমরা অনেকদিন ধরে এ চক্রের হোতাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছিলাম। মূল হোতা তুহিনের বিস্তারিত পরিচয় আমরা পেয়েছি। তবে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তার প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করা বিপুকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে আরো ছয় সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি। সিআইডি জানিয়েছে, বিপু আগে রাইড শেয়ারিং পাঠাও চালাতেন। এরপর তুহিনের সঙ্গে পরিচয়ের পর তিনি জুয়া খেলার জন্য বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানীর এজেন্ট সিম সরবরাহ করতেন। এসব সিমের নম্বর অ্যাপসের সাইটে দেওয়া থাকতো। বিশ্বকাপ, ইউরো কাপ, কোপা আমেরিকান কাপ, ফুটবল ছাড়াও ক্রিকেট, ভলিবল, টেনিসসহ বিভিন্ন খেলায় কে জিতবে কে হারবে এসব নিয়ে বেটিং করা হতো। অ্যাপসে দেওয়া নম্বরে বিকাশ বা নগদ বাংকিংয়ের মাধ্যমে জুয়াড়িরা টাকা দিতেন। অধিকাংশ জুয়াড়ি জুয়ায় হেরে যেতেন। ফলে বিপুল অর্থ পেতেন অ্যাপস নিয়ন্ত্রণকারীরা।
সিআইডি জানিয়েছে, অ্যাপসে প্রতিদিন এক কোটি টাকা লেনদেন হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গত এ বছর ধরে এসব টাকা রাশিয়ায় পাচার হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। জুয়ার বাংলাদেশী এজেন্ট তুহিন, বিপু চক্র বড় অংকের কমিশন পেতেন। বাকী টাকা ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে অ্যাপসের মূল নিয়ণ্ত্রণকারী রাশিয়ান নাগরিকের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। রাশিয়ার ওই নাগরিকের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তুহিনকে গ্রেপ্তার করতে পারলে এ চক্রে আরো কারা আছে তা জানা যাবে।