× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চোরের উৎপাত বেড়েছে দেশে

আলাউদ্দিন আরিফ

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৩ ১৩:০৭ পিএম

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৩ ১৩:০৮ পিএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

সারা দেশে চুরির ঘটনা বেড়েই চলেছে। পানির পাম্প, টিউবওয়েলের মাথা, স্কুলের সিলিং ফ্যান, বৈদ্যুতিক বাতি, গাছের কাঁঠাল, লাউ, কলার ছড়া, গৃহপালিত হাঁস, মুরগি, ছাগল- এ ধরনের ছোটখাটো জিনিস চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না।

বেশিরভাগ চুরি হচ্ছে ঘরে, দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। চুরি থেকে বাদ যাচ্ছে না মসজিদের মাইক, ফ্যান কিংবা লাইটও। আবার মাইক্রোবাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে এসে রাস্তা থেকে গৃহপালিত পশু ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে অহরহ। আপাতদৃষ্টিতে এসব অপরাধ ছোট মনে হলেও এর বিস্তৃতি ব্যাপক।

এভাবে চুরি বেড়ে যাওয়াকে সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, সব ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করে এ সমস্যার সমাধান হবে না। কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অপরাধগুলো কেন ঘটছে, তার কারণগুলো চিহ্নিত করে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

পুলিশের অপরাধ পরিসংখ্যান ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশকিছু দিন ধরে চুরিসহ ছোটখাটো অপরাধ বেড়েছে। কারণ হিসেবে মাদকদ্রব্যের ব্যাপক বিস্তার, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া, অনলাইন জুয়া ও আইপিএলসহ বিভিন্ন খেলাকেন্দ্রিক জুয়ার বিস্তার, যত্রতত্র ভাঙারির দোকান গড়ে ওঠা ইত্যাদিকে দায়ী করা হচ্ছে।

পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা থেকে দেখা গেছে ডাকাতি, চুরি, সিঁধেল চুরি, দস্যুতার ঘটনা বেড়েছে। সারা দেশে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে চুরির মামলা হয়েছে ২ হাজার ৩০৬টি, যা আগের ৩ মাস অর্থাৎ ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল ২ হাজার ২৫৮টি। আগের তিন মাসের তুলনায় এই তিন মাসে চুরির মামলা ৪৮টি বেশি হয়েছে। একই সময়ে (জানুয়ারি-মার্চ) দস্যুতার মামলা ছিল ৩১৫টি, আর এর আগের তিন মাসে ২৬৮টি। এই তিন মাসে দস্যুতার মামলা বেড়েছে ৪৭টি। তবে ডাকাতি মামলা কমেছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে ডাকাতির মামলা হয় ৭৮টি, যার সংখ্যা আগের তিন মাসে ছিল ৯০। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশে সিঁধেল চুরির মামলা হয়েছে ৫৪৪টি। 

পুলিশের অপর এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, গত মার্চ মাসে সারা দেশে ডাকাতির মামলা হয়েছে ৩০টি, একই সংখ্যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ২১। মার্চ মাসে দস্যুতার মামলা হয়েছে ১১১টি, ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯৭। ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে দস্যুতার মামলা বেড়েছে ১৪টি। মার্চ মাসে চুরির মামলা হয়েছে ৭৯৭টি, আর ফেব্রুয়ারিতে ওই সংখ্যা ছিল ৭২৫টি। ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে চুরির মামলা বেড়েছে ৭২টি। অন্যদিকে সিঁধেল চুরির মামলা মার্চে ছিল ১৮৫, আর ফেব্রুয়ারিতে ১৬৮। আগের মাসের তুলনায় সিঁধেল চুরি বেশি হয়েছে ১৭টি।

সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক সভা থেকে বলা হয়- ডাকাতি, দস্যুতার পাশাপাশি চুরি ও সিঁধেল চুরির মামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব মামলার আসামি গ্রেপ্তার ও মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার বিষয়ে সব জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। গ্রামাঞ্চলে ছোটখাটো অপরাধের ধরন জানতে কথা হয় চাঁদপুরের ‍কচুয়া উপজেলার আশরাফপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে। তারা জানান, সম্প্রতি একশ্রেণির বখাটে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসে এসে রাস্তার পাশে বেঁধে রাখা ছাগল গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। কয়েক মাসে এ রকম বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহীন জানান, চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে শুধু এপ্রিল মাসে অন্তত ৫০টি টিউবওয়েলের (চাপকল) মাথা চুরি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু পৌরসভা থেকেই চুরি হয়েছে ১৭টির বেশি। তিনি আরও জানান, জেলার পুরানবাজার মার্চেন্ট একাডেমি নামে একটি স্কুল থেকে পানির পাম্প, পুরানবাজার ২ নং বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৩টি সিলিং ফ্যান, চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে একটি অটোরিকশা চুরি হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বাসাবাড়ির বৈদ্যুতিক বাতি, বিভিন্নজনের গাছের কলা, লাউ, হাঁস, মুরগি, ছাগল চুরির অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। 

জিএম শাহীন আরও জানান, এলাকার কিশোর-তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি, আইপিএলসহ বিভিন্ন খেলায় বাজি ধরে জুয়া খেলা এবং যত্রতত্র ভাঙারির দোকান গড়ে ওঠা এসব চুরির প্রধান কারণ। আবার এসব ছোটখাটো চুরির বিষয়ে লোকজন পুলিশকে জানাতে চায় না। কারণ এসব বিষয় নিয়ে থানায় গিয়ে মামলা করাকে ঝামেলা মনে করেন ভুক্তভোগীরা। শুধু চাঁদপুরই নয়; কুমিল্লা, ফেনী, টাঙ্গাইল, সিলেট, সুনামগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা ও যশোরসহ কয়েক জেলা এবং উপজেলায় খোঁজ নিয়েও ছিঁচকে চুরিজাতীয় অপরাধের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ছোটখাটো চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিলন মাহমুদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, চুরি বা যেকোনো অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশকে খবর দেওয়া উচিত। দেখা যায়, ছোটখাটো চুরি মূলত মাদকাসক্তদের কাজ।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন) হায়দার আলী খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, চুরি, দস্যুতা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকারে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া আছে।

সাবেক ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ একেএম শহীদুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থাকে জোরদার করতে হবে। চুরি, ছিঁচকে চুরি এসব নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পেশাজীবী নেতারা যারা আছেন, যারা এলাকার ভালো মানুষ যেমন জনপ্রতিনিধি, স্কুল-কলেজের শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, সাংবাদিক এমন ব্যক্তিদেরকে ফোরাম করে তাদের সঙ্গে মত বিনিময় করতে হবে। অংশীদার হিসেবে এদেরকে সমস্যা সমাধানে সম্পৃক্ত করতে হবে। পুলিশের সঙ্গে জনমানুষের সেতুবন্ধ তৈরি করতে হবে। পুলিশ এলাকায় ডমিনেট করতে চায়, তারা জনসাধারণকে মূল্যায়ন করতে চায় না।

অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার ফারজানা রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ছোট অপরাধের বিস্তৃতি অনেক। ভুক্তভোগী মানুষের সংখ্যাও বিশাল। এসব অপরাধের সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। কারণ ভিক্টিমরা পুলিশের কাছে রিপোর্ট করেন না। পুলিশ যেহেতু সংখ্যায় কম, তাদের আরও অনেক দায়িত্ব থাকে, বড় বড় অপরাধের মামলা তদন্ত করতে হয়; তাই ছোটখাটো অপরাধের তদন্তে সময় দিতে চায় না। এটাও এসব অপরাধ বাড়ার কারণ। অনেক ক্ষেত্রে মাদকাসক্তরা টাকার জন্য চুরি, ছিনতাইসহ ছোটখাটো অপরাধে জড়িত থাকে। তাদের পুনর্বাসন করা গেলে এসব অপরাধ কমে যায়। পুলিশ শুধু গ্রেপ্তার করলে, শাস্তি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। অপরাধের কারণগুলো খুঁজে বের করে তার প্রতিকার করতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা