× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হাওরে বন্যা ব্যবস্থাপনা প্রকল্প

পাঁচ বছরেও কোষাগারে জমা হয়নি আত্মসাতের টাকা

এম আর মাসফি

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৩ ১১:১১ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

হাওর এলাকার বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ২০১৪ সালে একটি প্রকল্প হাতে নেয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের সমীক্ষা সঠিকভাবে না হওয়ার এর কাজ শুরু হয় দেরিতে। তা ছাড়া প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলাও চলমান রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ৯৩ লাখ টাকা পুনরুদ্ধার করা হলেও বাকি ৪ কোটিরও বেশি টাকা উদ্ধার হয়নি। ফলে এসব টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা যায়নি। 

এরই মধ্যেই পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সুপারিশে প্রকল্পটির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। এ সুপারিশ করতে গিয়ে আইএমডি অভিযোগ করেছে, বাঁধ নির্মাণে নতুন গিনি ব্যাগ দেওয়ার পরিবর্তে পুরাতন ছেঁড়া ও তালি দেওয়া গিনি ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সংস্থাটি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

জমি অধিগ্রহণে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে আইএমইডি বলছে, ভূমির মূল্য ও ক্ষতিপূরণ বাবদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা অর্থের মধ্যে এল. এ কেস নং ১০/২০১৬-১৭ এবং এল. এ কেস নং ১১/২০১৬-১৭-এর বিপরীতে ৫ কোটি টাকা সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) কর্তৃক আত্মসাৎ করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে মামলা নিষ্পত্তি করে আত্মসাৎ করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কিশোরগঞ্জের তৎকালীন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুল ইসলাম অসত্য তথ্য দিয়ে ৫ কোটি টাকা তুলে নেন। পরে ধরা পড়ার পর তার চাকরি চলে যায় এবং তিনি জেলও খাটেন। এ টাকার মধ্যে ৯৩ লাখ টাকা রিকভারি হয়েছিল। যা কিশোরগঞ্জের ডিসির হেফাজতে আছে। সম্পূর্ণ টাকা রিকভারি হওয়ার পর তা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হবে। এখন ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২টি মামলা চলমান আছে। তা ছাড়া কিশোরগঞ্জের সেই সময়ের ডিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি অডিট আপত্তিও আছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করেছি। সিদ্ধান্ত হয়েছে, টাকা পেলে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।’

বাঁধ নির্মাণে পুরাতন, ছেঁড়া গিনি ব্যাগ ব্যবহারের বিষয়ে আইএমইডি বলছে, কিশোরগঞ্জের অধীন নুন্নির হাওর এলাকায় ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণকাজের মধ্যে ছাতিরচরঘাট এবং চুমতিঘাট-মোহরকোনা এলাকার কাজে নতুন গিনি ব্যাগের পরিবর্তে পুরাতন, ছেঁড়া ও তালি দেওয়া গিনি ব্যাগ ব্যবহার করার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, যেসব গিনি ব্যাগ ক্ষয় হয়ে গিয়েছিল, সেগুলো ঠিকাদার ঠিক করে দিয়েছে। ছেঁড়া গিনি ব্যাগের যে অভিযোগ, সেটা হচ্ছে একটা বান্ডিলের মধ্যে কিছু ছেঁড়া ব্যাগ ছিল, ওগুলো পরে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। আর পরিবহনের সময় গাড়ির চাকায় কিছু ব্যাগ ছিঁড়ে গিয়েছিল সেগুলোও পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির ছয় মাস মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে আইএমইডি বলছে, প্রকল্পটি জুন ২০২৩-এ সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি অর্জিত না হওয়ায় নির্ধারিত মেয়াদে প্রকল্পটি শেষ করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পটির কার্যক্রম সচল রাখার সুবিধার্থে ব্যয় বৃদ্ধি করা ছাড়াই মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগও (ইআরডি) এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। আইএমইডির এই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া এর মেয়াদ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

প্রকল্পটির বিষয়ে আইএমইডির এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি ২০১৪ সালের অক্টোবরে একনেকে অনুমোদিত হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে মেঘনা নদীর উজানের অববাহিকার বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের জাইকা পরিচালিত প্রাথমিক সমীক্ষা প্রতিবেদন পূর্ণাঙ্গ ছিল না। পরে একটি পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিওএম)। যার সুপারিশের আলোকে প্রকল্পের পরিকল্পনায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে এবং সংশোধিত ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। যা ২০১৮ সালে ৯৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে জুন ২০২২ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য একনেকে অনুমোদিত হয়। এরপর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এর মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে জুন ২০২৩ পর্যন্ত নির্ধারণ করে। তবে জমি অধিগ্রহণের কিছু টাকা পরিশোধে এর মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে।

প্রকল্পের বিষয়ে আইএমইডির প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রকল্পের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো হাওর এলাকার বোরো ধান আগাম বন্যা থেকে রক্ষা করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়ন করা। মেঘনা নদীর উজানের ২৯টি হাওর এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। হাওরগুলোর ১৫টি পুরোনো এবং ১৪টি নতুন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহ জেলায় হাওরগুলো অবস্থিত। পুরোনো হাওরগুলোতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক পূর্বে নির্মিত ডুবন্ত বাঁধ এবং কয়েকটি রেগুলেটর ছিল। কিন্তু দুর্বল পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে সেগুলোর উপযোগিতা কমে এসেছিল। নতুন হাওরগুলোতে বন্যা ব্যবস্থাপনার কোনো অবকাঠামো ছিল না।

প্রকল্পে বন্যা ব্যবস্থাপনার জন্য ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণ/পুনর্বাসন, রেগুলেটর নির্মাণ/পুনর্বাসন, পূর্ণ বন্যা বাঁধ পুনর্বাসন, খাল/নদী পুনঃখনন, হাওরে বর্ষা মৌসুমে নৌকা প্রবেশ করানোর জন্য কজওয়ে, সেচ ইনলেট পাইপ মুইস, পানি ব্যবস্থাপনা দলের জন্য অফিস ভবন এবং একটি ব্রিজ নির্মাণের সংস্থান রয়েছে। প্রকল্পটির মোট এলাকা ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪৭৫ হেক্টর এবং আবাদি এলাকা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯২ হেক্টর। প্রাক্কলন অনুসারে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রতিবছর ৮ লাখ ৭৮ হাজার ২৫০ টন অধিক ধান উৎপন্ন হবে।

প্রকল্পের কর্মসূচিতে জনগণের জন্য কৃষি আয়বর্ধক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। দুস্থদের ক্ষুদ্র আয়বর্ধনের জন্য প্রকল্পে কয়েকটি কর্মসূচি নেওয়া হয়। এর মধ্যে হাঁস প্রতিপালন, ছাগল প্রতিপালন ও সেলাই প্রশিক্ষণ এ কর্মসূচিগুলোর অন্যতম। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি পরিবারকে ছাগল কিনে দেওয়া হলেও সেখানকার পরিবেশে ছাগলগুলো বাঁচেনি।

প্রকল্পটির বিষয়ে আইএমইডি তাদের নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে বলেছে, প্রকল্পটির প্রথম সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পূর্ণাঙ্গ ছিল না, তাই দ্বিতীয় দফায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়েছে। প্রকল্পের জন্য মূল পরিকল্পনায় বাস্তব ও আর্থিক অগ্রগতির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, প্রথম তিন অর্থবছরে তা পূর্ণ অর্জন করা সম্ভব হয়নি। যার আংশিক পরে অর্জন হয়েছে। প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে আট বছর প্রকল্প মেয়াদে বাস্তব কাজগুলো সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে বেশ কয়েকটি কারণে লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন হয়নি। এগুলো হচ্ছে, জমি অধিগ্রহণে ধীর অগ্রগতি, হাইড্রোলিক ট্রাকসার নির্মাণকাজে ঠিকাদারদের অপ্রতুল সক্ষমতা, একাধিক কনট্রাক্ট প্যাকেজে অনেকগুলো হাইড্রোলিক ট্রাকসার অন্তর্ভুক্তকরণ এবং কোভিড-১৯ ব্যাধির সংক্রমণজনিত কারণে নির্মাণকাজের অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা