রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৩ ১৮:১২ পিএম
রাজশাহীর পুঠিয়ায় চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সময়মতো আদালতে জমা না দেওয়ায় পুলিশের দুই উপপরিদর্শককে (এসআই) কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুই পুলিশ সদস্য হলেন- পুঠিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম ও এসআই মো. সোহেল রানা। মঙ্গলবার (৭ মার্চ) দুপুরে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান মামলা পর্যালোচনা করে অন্তবর্তীকালীন এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত সময়মতো না হওয়ায় এ দুজন তদন্তকারী কর্মকর্তা দায়ী বলে আদালত মনে করেন যা তাদের অদক্ষতা ও অসদাচরণ বলে আদলতের কাছে বিবেচিত।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নাসরিন আক্তার মিতা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
আইন অনুসারে এ ধরনের মামলায় ১৫ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ৮৯ কার্যদিবস পার হলেও তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেননি। এমনকি মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ১ নভেম্বর মামলার পর দীর্ঘ ৪ মাস অতিবাহিত হলেও ২২ ধারায় ভুক্তভোগীর জবানবন্দী ও মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা হয়নি।
প্রথমে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান পুঠিয়া থানার এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বদলি হয়ে গেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়। ২০২৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব পান এসআই সোহেল রানা। তবে তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর ও সোহেল চাঞ্চল্যকর এ শিশু ধর্ষণ মামলার প্রতিবেদন সময়মতো আদালতে পেশ করেনি। এমনকি তারা কোনো আলামতও জব্দ করেননি।
মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সোহেল রানা বলেন, ‘শিশু ধর্ষণের ওই মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর আলম সম্প্রতি তানোর থানায় বদলি হয়ে গেছেন। তার স্থলে আমি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পাই। রামেক হাসপাতাল থেকে এখন পর্যন্ত মেডিকেল সার্টিফিটেক পাওয়া যায়নি বিধায় আদালতে সময়মতো প্রতিবেদন পেশ করা সম্ভব হয়নি। পুরো বিষয় বিজ্ঞ আদালতকে বুঝেয়ে বলা হয়েছে।’
পুঠিয়া থানার ওসি ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমি এ থানায় নতুন বদলি হয়ে এসেছি। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা আমার ঠিক হবে না।’