প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২২ পিএম
ঢাকার মোহাম্মদপুরে রবিবার রাতে ‘ব্লক রেইড’ অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রতীকী ছবি
ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া দুটি হত্যাকাণ্ড, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, ছিনতাই-ডাকাতি এবং হাসপাতালকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির ঘটনায় তৎপর হয়ে উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গণমাধ্যমে এসব ঘটনার ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর রবিবার রাতে পুলিশ ‘ব্লক রেইড’ অভিযান পরিচালনা করে।
রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ৬৬ সদস্যসহ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। মধ্যরাত পর্যন্ত চলা অভিযানে দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
অভিযানে অংশ নেওয়া একটি সূত্র রবিবার রাত দেড়টার দিকে জানায়, আটক ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানের আগে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকা, সাদেক খান কাঁচাবাজার এবং জাফরাবাদের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সদস্যরা মহড়া দেন। এ সময় এলাকাবাসীকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়।
মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযানে অংশ নেওয়া অনেক সদস্যই নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত। তাদের কার্যক্রমে সক্রিয়তা ও মনোবল বাড়ানোও এই অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুরো মোহাম্মদপুর এলাকায় একযোগে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং এর আওতার বাইরে কোনো এলাকা থাকবে না বলেও তিনি জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মোহাম্মদপুরে অর্ধশতাধিক অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে বড় চক্র ১৭টি। প্রতিটি চক্রে গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য রয়েছে।
সম্প্রতি ‘অ্যালেক্স ইমন গ্রুপ’-এর প্রধান ইমনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার দুই দিনের মাথায় আসাদুল্লাহ নামে আরেক যুবককে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসার মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় এলাকাটির পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।