দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১০ পিএম
কুষ্টিয়ায় ধর্ম বিকৃতির অভিযোগে শনিবার কথিত পীর শামীম রেজার আস্তানায় ভাঙচুর করেন স্থানীয়রা । ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগে কথিত পীর শামীম রেজাকে (জাহাঙ্গীর) পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসময় তার দরবার বা আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় শামীমের কয়েকজন অনুসারীও আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেছের আলী মাস্টারের ছেলে শামীম রেজা ঢাকায় পড়াশোনা সম্পন্ন করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এলাকায় ফিরে দরবার গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিতর্কিত ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু করেন।
স্থানীয়দের দাবি, শামীম রেজা স্থানীয়ভাবে কথিত পীর হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ধর্মবিরোধী কথাবার্তা বলার অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়।
শামীম রেজার ইসলামবিরোধী বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
তিনি প্রকাশ্যে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যও করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা , যা তাদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে বলে জানান তারা।
তার কর্মকাণ্ড নিয়ে শনিবার সকালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। হামলায় শামীম রেজাসহ তার কয়েকজন আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, “পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।”
দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “এলাকাবাসীর হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীর মারা গেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে “
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা করা হয়।
তখন পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন পড়েন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।