গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৪৭ পিএম
গ্রেপ্তারকৃত মো. উজ্জ্বল, আরিফা আক্তার উর্মি ও শাহনাজ বেগম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
গাজীপুরে স্বর্ণালংকার-নগদ টাকা লুট ও এক নারী খুনের ঘটনায় পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীন বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করতে গাজীপুর সদর উপজেলায় পিরুজালী এলাকায় শাশুড়ি আসমা আক্তারকে (৫৫) পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর ডাকাতির নাটক সাজায় পুত্রবধূ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নিহতের ছেলে নাজমুল সাকিবের স্ত্রী আরিফা আক্তার উর্মি (২২), তার সহযোগি পিরুজালী গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. উজ্জ্বল (৪৬), একই গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে শাহনাজ বেগম (৪৫)।
পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীন বলেন, “গত ৭ এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাতে সদর উপজেলার পিরুজালী মধ্যপাড়া এলাকায় নৈশ্য প্রহরী আনিসুর রহমান ও তার ছেলে নৈশপ্রহরী নাজমুল সাকিব নিজ নিজ কর্মস্থলে চলে যান। বাড়িতে ছিলেন আনিসুরের স্ত্রী আসমা আক্তার, পুত্রবধূ আরিফা আক্তার উর্মি (২২) এবং চার বছর বয়সী এক নাতি।
“পরদিন (৮ এপ্রিল) সকালে নাজমুল সাকিব বাড়িতে ফিরে দেখেন তার স্ত্রী উর্মির হাত-পা ও মুখ ওড়না দিয়ে বাঁধা এবং তিনি খাটের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। অন্য ঘরে তিনি তার মা আসমা আক্তারের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো এবং সিন্দুক থেকে নগদ ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এই ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়”।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনাটি পুলিশে সন্দেহ হলে প্রথমে আসামী পিরুজালী গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. উজ্জ্বল (৪৬), একই গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে শাহনাজ বেগমকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে। তাদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নৈশ্য প্রহরী আনিসুর রহমানের ঘরে থাকা টাকা এবং স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করার জন্য পুত্রবধূ আসামী আরিফা আক্তার উর্মির (২২) পরিকল্পনায় এবং আসামী শাহনাজ বেগমের প্ররোচনায় ও ইন্ধনে ৩জন মিলে পরিকল্পনা অনুযায়ী শাশুড়ী আসমা আক্তারকে প্রথমে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়।
এরপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে এবং মুখ চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে চালিয়ে দিতে আসামী উজ্জ্বল উর্মির হাত-পা ও চোখ বেঁধে তাকে অচেতন হওয়ার ভান করে পড়ে থাকতে বলেন। ওই ঘটনার বর্ণানা দিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে আসামী উজ্জ্বল ও পুত্রবধূ উর্মি ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালতের নির্দেশে আসামীদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ১ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার, নগদ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।