ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৬ ১১:৩৮ এএম
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রিপন দেবনাথ জানান, রাত ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ভৈরবে কুকুরকে ঢিল ছোড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
পৌর শহরের কালিপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জারুল্লা গোষ্ঠীর সঙ্গে বিন্দির বাড়ি ও জরাত ব্যাপারী বাড়ির লোকজন এতে জড়িয়ে পড়েন বলে জানা যায়।
আহতদের মধ্যে সীমান্ত (২০), রাহুল মিয়া (২৩), কাউসার (৪৭), রিফাত সরকার (২৬), নীরব আহমেদ (১৭) ও জুবায়ের আহমেদ (১৪) রয়েছেন।
আহত হয়ে আব্দুল আওয়াল (৫২), আলী হোসেন (৫২), ইমন (১৩), সজীব মিয়া (২০), সিয়াম (১৮), আহাদ মিয়া (৪৫), নাঈম (১৮) ও ইব্রাহীম (১৭) চিকিৎসা নিয়েছেন।
তবে আহতদের মধ্যে সজীব মিয়া ও সিয়াম মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা স্থানীয় ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সংঘর্ষের সূত্রপাত
পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জরাত ব্যাপারী বাড়ির সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে জারুল্লা গোষ্ঠীর শ্রাবনের কুকুরকে ঢিল ছোড়ার অভিযোগে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
এক পর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে স্থানীয়রা মীমাংসার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি শান্ত না হয়ে বরং আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রাত ৮টার দিকে দুই পক্ষের যুবকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একই গোষ্ঠীর মধ্যেও বিভক্তি তৈরি হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা।
এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ দা, লাঠি, বল্লম ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ভাঙচুর ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
সংঘর্ষে সাবেক কাউন্সিলর হাজী আশরাফ আলীর বাড়িসহ প্রায় ১০টি বাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলতে থাকে।
ক্ষতিগ্রস্ত এম রহমান জানান, তারা সংঘর্ষের কারণ জানেন না। তবে তার দোকানসহ আশপাশের কয়েকটি স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আফসার উদ্দিন বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে শুরু হলেও পরে তা বড় আকার ধারণ করে। এলাকার মুরুব্বিদের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রিপন দেবনাথ জানান, রাত ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফয়জুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে যান।
তিনি জানান, যৌথবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।